প্রান্তিকের স্বাবলম্বী নারী

৭৭ বার পঠিত

সফিউল্লাহ আনসারী # একসময় অন্যের বাড়ি কাজ করে সারাদিন গতর খাটিয়েও সংসার চলত না যাদের, তারা আজ ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আজ লাখ টাকার স্বপ্ন দেখেন ভালুকা উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামের অনেক নারী। এই ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগল পালন করে তারা আজ কেউ নিজের সন্তানকে স্কুল-কলেজ, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন। আবার সংসারের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও অবদান রেখে চলছেন এসব দরিদ্র পরিবারের নারীরা।

গ্রামের প্রায় প্রতি বাড়িতে ৫, ১০, ২০ বা তার অধিক ছাগল পালন করছেন ব্যক্তি উদ্যোগে। কেউ কেউ ওয়ার্ল্ড ভিশন ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ছাগল পালনে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ওয়ার্ল্ড ভিশন ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ গ্রহন করে ১০০০ হাজার টাকা মুলধন নিয়ে ছাগল পালন শুরু করেন তারা। গত ৫ বছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয় করেছেন একেক জন। ছাগলের খাবার হিসেবে প্রাকৃতিক ঘাস ও খড়ের উপর নির্ভরশীল তারা।

এদের একজন রীনার সঙ্গে আলঅপ হলো। তার ভাষ্যে, এক সময় মানুষের বাড়ি কামলা দিয়ে সংসার চালাতেন, তারপরও ছিল অভাব অনটন। অথচ এখন গবাদি পশু পালনে তিনি স্বাবলম্বী। তার বাড়ী-ভিটাসহ বিশ শতকের মতো জায়গা রয়েছে। ছাগল ছাড়াও তার মিনি খামারে রয়েছে ৮টি ছোট-বড় গরু। ২০/২৫টি মুরগী।

এনজিও ও ব্যক্তিগত ব্যাবস্থাপনায় ছাগলের রোগবালাই এর চিকিৎসা দেওয়া হয়। সরকারিভাবে তারা ছাগল পালনে আর্থিক বা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না যদিও। মূলত ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগীতায় ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিচালনা হয়। ভালুকায় প্রায় ১৪০ জন ছোট খামারি থাকলেও প্রায় বাড়িতেই ছাগল পালন করা হয় এবং ছাগলের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার হবে। সবচেয়ে বেশী ছাগল পালন করা হয় পাড়াগাঁও ডাকাতিয়া এলাকায় এবং কেউ ছাগল পালন করতে আগ্রহী হলে উপজেলা প্রাণী স¤পদ অফিস থেকে সহযোগিতা করা হয়।

পাড়াগাঁও পাঁচপাই গ্রামের আরো যারা ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেও একই অভিব্যক্তি পাওয়া যায়। এদের মধ্যে- রীতা, উষা রানী, আক্তার, রাশিদা বেগম, লীজা, সুফিয়া খাতুন, বকুল বেগমসহ প্রায় ১ শ’ জন মিনি ছাগল খামারি ওই এলাকা ছাড়াও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের গাংগাটিয়া, শিরিরচালা, বড়চালা, পাড়াগাঁও, কাচিনা, ইউনিয়ন, মল্লিক বাড়ি, ডাকাতিয়া, ভালুকা ইউনিয়ন ও ভালুকা পৌরসভাসহ ৬ ইউনিয়নে ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় ছাগল পালন কার্যক্রম চলছে। এছাড়া একটু বড় খামারি হিসেবে ভালুকার কলাবাগান এলাকার আকতারুজ্জামানের খামারে ৭০/৮০টি, রাংচাপড়া গ্রামের আ: কাইয়ুম, জামিরদিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর, ২এস ফিড সুর্যভিটায় একটু বড় আকারে ছাগলের খামার করে খামারিরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

উপজেলার প্রায় সকল গ্রামের নারীরা ছাগল পালন করে তাদের জীবিকা নির্বাহের কাজে নিয়োজিত। ওয়ার্ডভিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব দরিদ্র নার কে তারা প্রশিক্ষণ দেন। যদি সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা বা ব্যাংক ঋণ দেওয়া যেত তবে তারা আরো আথির্কভাবে লাভবান হতেন। তবে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে এসব নারী দারিদ্রতা দূর করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

ভালুকা পশু স¤পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৩ মে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে ৬৫ নারী ও ৫১ পুরুষকে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এবং ছোটবড় খামারীদের ছাগলের সংখ্যা ৬ হাজার ১ শ ৭৪টি। এদিকে গত ২২ মে বাংলাদেশ প্রাণী স¤পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ভালুকায় ২২টি উন্নত জাতের পাঁঠা বিতরণ করা হয়। উপজেলা পশু স¤পদ অফিস থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

সরকারি উদ্যোগ, সহযোগিতা, ব্যাংকগুলোর ক্ষুদ্র ঋণ ও এনজিও সংস্থার সার্বিক সহযোগিতা ছাগল পালনে উৎসাহী ও খামারিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বীর পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে বলে বিজ্ঞমহলের মত।

লেখক : সাংবাদিক

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার

আজো চেনা হরোনা নিজেকেই ...! 01715-787772

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com