শিশুস্বর্গের অভিভাবক হলেন এক মহিয়সী নারী

৭০১ বার পঠিত

এস কে দোয়েল, পঞ্চগড় ।। দেশের উত্তর সীমান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত শিশুদের প্রতি পরম ভালবাসায় সিক্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুস্বর্গের অভিভাবকের কাতারে যুক্ত হলেন আনোয়ারা বেগম টগর নামের এক মহিয়সী নারী। সম্প্রতি তিনি পঞ্চগড় তেঁতুলিয়ায় ঘুরতে এসেই দেখেন তিনদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। এই ভারত সীমান্ত ঘেষেই একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাম দর্জিপাড়া। এ গ্রামের সাথে আরও কয়েকটি গ্রাম। গ্রাম ঘুরেই জানতে পারলেন-সীমান্তবর্তী গ্রাম হওয়ায় এলাকার মানুষজনের মাঝে তেমন শিক্ষার আলো ছিল না। শিশুরা স্কুল বাদ দিয়ে কেউ ক্ষেতখামারে, কেউ পাথর তোলাসহ নানামুখি শিশুশ্রমে ব্যস্ত। এর কারণে শিশুরা রয়ে যাচ্ছিল অজ্ঞতার অন্ধকারে।

যে বয়সে শিশুদের হাতে বই আর কলম থাকার কথা, সেই হাতে শিশুদের সংসারের পেট চালনার কর্মক্ষেত্রের যুদ্ধ। এই অজ্ঞতার  অন্ধকার থেকে আলোর ঠিকানা নিয়ে হাজির হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কবীর আকন্দ। তাঁর হাতে ২০১০ সালে গড়ে উঠে শিশুস্বর্গ সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই সংগঠনের কর্মকান্ডে পাল্টে গেছে সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের সমাজ-সংস্কৃতি ও শিক্ষাদীক্ষা। গ্রামগুলোতে এখন অজ্ঞতার আধারিতে জ্বলছে এখন শিক্ষার আলোকবর্তিকা। এ এলাকার ২৪জন হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করছে দেশের নামি-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রায় শতভাগ শিশুই এখন স্কুলমুখী। এসব স্কুলগামী হতদরিদ্র শিশুদের পড়ালেখার জন্য প্রদান করা হচ্ছে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা পড়াশোনায় মনোযোগ আকর্ষণে নতুন নতুন বই। পাঠ্যবাসের বাইরেও গড়ে তোলা হয়েছে শিশুস্বর্গ পাঠাগার।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই পাঠাগার। সকালে স্কুল পথে ও বিকেলে ফেরার পথে শিক্ষার্থীরা এ পাঠাগার থেকে বই নেওয়া-দেওয়ার মাধ্যমে অর্জিত হচ্ছে পাঠ্যবাসে জ্ঞানার্জন। এই চিত্র দেখে খুবই উদ্বুদ্ধ হোন আনোয়ারা বেগম টগর। তিনিও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি দীর্ঘ সময় ধরেই শিশুস্বর্গের বিভিন্ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তবে নিজের চোখে এভাবে শিশুস্বর্গের কর্মকান্ড দেখা হয়ে উঠেনি। দেখেই অবাক হোন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের অর্থায়নে বদলে গেছে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন যাপন। এচিত্র দেখার সাথে সাথে আরও দুজন গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যাবতীয় খরচ চালানোর আস্থা দিলেন। সপ্তাহজুড়ে শিশুস্বর্গের শিশুদের সাথে আনন্দে মাততে বনভোজন করলেন। শিশুস্বর্গ পরিবারে অভিভাবকের কাতারে যুক্ত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করলেন। এখন থেকে তিনি আরো বেশি শিশুস্বর্গের প্রতি সময় ব্যয় করবেন বলে দ্বীপ্ত কন্ঠে প্রকাশ করলেন মহিয়সী এই নারী।

উল্লেখ্য সীমান্তবর্তী শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের দ্বারা। এ সংগঠনের অর্থায়নে বর্তমানে ২৪ জন গরীব মেধাবী শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে দেশের নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া প্রতি বছর মেধা শিক্ষাবৃত্তি, শীতবস্ত্র, ঈদবস্ত্র, শিক্ষা উপকরণসহ নানাবিদ সুবিধা দিয়ে আসছে সীমান্তবর্তী এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত, শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে। বর্তমানে শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে শিশু হাসপাতাল, স্কুল, বৃদ্ধাশ্রম তৈরিতে জমি ক্রয় করা হয়েছে। তাছাড়া স্বল্প-শিক্ষিতদের কর্মসংস্থান, দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com