জঙ্গি ।। মুস্তাক মুহাম্মদ

১৭৭ বার পঠিত

আমি দ্বীনে পিস এর বাংলাদেশের আঞ্চলিক প্রধান। আমাদের লক্ষ্য হলি পাক্র এ লিপিবদ্ধ। ওড আমাদের সব কিছুর মালিক। তিনি আমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন সিরের কাছে হলি পাক্র প্রেরণ করে। আমাদের হলি পাক্র এ সাতশো আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক মিনিসটেল আছে। আমরা আমাদের জীবনকে সেই অনুযায়ী পরিচালিত করি।আমরা প্রচলিত স্বার্থবাদী পুঁজিবাদী ধর্ম মানি না। আমাদের ধর্মের আমরা একজন একদিকে আর একটি ভূখন্ড(দেশ) একদিকে হলে সমান হবে বলা আছে।

পৃথিবীতে আমার মত  আমাদের প্রতিনিধি যদি তিনশো জনের মত হয় তাহলে আমরা গোটা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। কারণ আমাদের ওড আমাদের সে শক্তি দিয়েছেন। আর পথ দেখনোর জন্য দিয়েছেন হলি পাক্র ,যার কাছে দিয়েছিলেন সেই সম্মানিত সিরের বাড়ি ছিলো আমেকায়।যেখানে তিনি হঠাৎ বাণী নিয়ে আর্বিভাব হন বঞ্চিতদের মুক্তির জন্য। তার পরিচয় কেউ(এই সমাজ) জানে না। আমাদের হলি পাক্রে তার পরিচয় আছে। তিনি যুগ রক্ষক। আমাদের দুনিয়াতে সাচ্ছন্দ্য  আর পরকালে রাজনেয়ামত দেবেন।আমাদের সিরির  তিন জন সেবক গত বছর এক হোটেলে আত্মঘাতী হামলায় দুইশো জন নিয়ে রাজনেয়ামতে চলে গেছেন।

আত্মঘাতী হামলাই আমাদের সাচ্ছন্দ্য এনে দেই। আমরা প্রথম উঠতি বয়েসী যুবকদের বাচাই করি। যারা উচ্ছাকাঙ্খী । বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তাদেরকে কনভাটর্ করার জন্য তাদেও বন্ধুদের বেঁছে নিই।অধ্যাপকদের বিভিন্ন দামী উপহার সামগ্রী পাঠায়। বিনিময়ে আমাদের বসার জায়গা তৈরী হয়। সেইসব মহান অধ্যাপকদের বদৌলতে। ছেলেদের কনভার্ট করতে মহান গুরুদেরও সাহায্য নিই।তাদেরকে রাতারাতি টাকা পয়সা দিয়ে ভোগ বিলাসে মজায়ে রাখি। ছয় সাত বছর এভাবে যায়।মাঝে মাঝে তাদের ডেকে হলি পক্র থেকে পাঠ করে শোনানো হয়। এভাবে তারা নগদ লাভবান হয়। আস্তে আস্তে তাদের মাথায় হলি পাক্রের মিনিসটেল ঢুকায়ে দেয়া হয়। আমাদের মহান সিরির আদর্শ দেখানো হয়। তাদেরকে হিপটোনাইজড করা হয়। তখন তারা সমাজ সংসারে থেকেও থাকে না। কাজ চাই। তারা কাজ চাই।

একটাই লক্ষ্য তাদের। তখন আমরা সুযোগ বুঝে হলি পক্রের  দুই নম্বর মিনিসটেল  মিরিটেনসি পাঠ করায়ে পথ নির্দেশনা দিই।আমাকে আঞ্চলিক প্রধান করা হয়েছে আজ দশ বছর হল। আমি আরাম আয়েসে আছি। আমি হাঁপিয়ে উঠছি। আমার মহান ওডের বাণী কবে আসবে । সে জন্য। আমাদের পৃথিবী জুড়ে একজন সেরি আছে। তিনার নির্দেশের অপেক্ষায়।আমাকে আগে একবার নির্দেশ দিয়েছিলেন ,সাত জন প্রতিনিধি বানাতে হবে। আমি সাত জন প্রতিনিধি সহজে বানিয়ে প্রস্তুত রেখেছি। আমাদের হলি পাক্রের বাণী তাদের শোনায়ে ক্ষুরধার করে প্রস্তুত করছি আরও। যেকোনো সময় কাজে লাগবে।কবে লাগবে আমরা তা জানি না। আমার এখন সেকেন্ড মিনিসটেল মিরিটেনসি পড়তে ইচ্ছে করছে। তা পড়লে মনোবল বাড়ে। আমাদের কর্তব্যর কথা মনে পড়ে। আমি পড়তে থাকি
         ‘ পৃথিবী ও রাজনেয়ামতের অধিকারীর নামে শুরু করছি
আমার শপথ,মেঘাচ্ছন্ন পৃথিবী। আমার অনুসারীরা ছাড়া সবাই স্পষ্ট মেঘাচ্ছন্ন। হে সেরি বলে দাও, আমার পক্ষ হতে যা দেওয়া হয়েছে। তাদের সুসংবাদ দাও যারা আভিজাত্য আর প্রাচুয়ের অহংকারে আছে।

যারা বঞ্চিত তারা আমার দলে এসে প্রাচুর্য পাবে যা কল্যাণকর। তাদের আত্মীয়রা পাবে আরও বিত্ত। আমি যা দিই দুনিয়াতেও নগদ পরকালেও নগদ। তোমাদের যারা বঞ্চিত করেছে তাদের সাথে যুদ্ধ কর। নিশ্চয় মৃত্যু তোমাদের হবে  না। তোমরা তো রাজনেয়ামতে সরদারি করবে। তোমরা হামলা কর গগনচুম্বি ভবণে। যেখানে নানা জাতের মানুষ শোষনের জন্য থাকে। তোমরা স্পষ্ট জেনে নাও তোমরা সেখানে যাও, যেখানে অনেক মানুষ আর তোমাদের মধ্যে থেকে আমার প্রিয়জন আত্মঘাতী হামলা করবে। তোমরা মরবে না। তবে শত্রুর হাতে লঞ্চিত হয়ো না। তোমরা সুখ সাচ্ছন্দ্য ভোগ করো।যত সময় বেঁচে আছো । যা এতদিন তোমরা স্বপ্নেও দেখতে না। ওরা তোমাদের বঞ্চিত রেখেছিলো। কিন্তু আমি তোমাদের ও তোমাদের আত্মীয় স্বজনদের দিয়েছি। তোমরা আত্মঘাতী হামলা কর। তোমার দুরাবস্থার কথা মনে করে। এর মধ্যে গভীর  জ্ঞান আছে। যা আমি অবগত। তোমরা একজন একটা দেশের সমান। তোমাদের ভয়ে অস্তির হয়ে যাবে গোটা পৃথিবী।ক্ষমতা কাকে বলে , যা আমি তোমাদের দিয়েছি। তোমরা ভোগ কর আর হামলা কর। হামলাই তোমাদের মুক্তি। ”

আমি যখন পড়ছি আমার ছয় জন সেনাপতির সামনে। আমি আরও সুর করে পড়ি। ওরা আতœঘাতী হামলা করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আজ ওদের নিয়ে আমার সে বিষয়ে গোপন বৈঠাক আছে।এবার আমেকা সফরে আমি সব জেনে বুঝে এসেছি।  কর্ম কৌশল ঠিক হয়েছে। আমাদের জন্য সুযোগ এসেছে। খুব শিঘ্রই আমার সেনাপতিরা ওডের সাথে মিলিত হবে। আমার আবার বাচ্ছা সেনাপতিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ওডের আদেশ পালনে অনুপ্ররাণিত করতে হবে।আমাকে এবার উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি। আমি সব বুঝতে পারছি। বিশ্ব জুড়ে আমরা ক্ষমতা দখল করব। আমরা সব দেশের ব্যাপারে নাক গলাবো। আমরা নগদে পেয়েছি । আমরা এখন যেখানে হাত দিচ্ছি সেখানে সফল হচ্ছি। অবশ্যই আমাদের কিছু সেনাপতিকে আমরা হারিয়েছি। আমরা পৃথিবীব্যাপি আলোচিত।

আমাদের টাকা পয়সার অভাব নেই। অভাব কি করে হবে। আমাদের অস্ত্রর ব্যবসা আছে। আর আমরা ওডের নামে যত আত্মঘাতী করি ততো আমাদের সম্পদ বেড়ে যায়। অস্ত্রর অর্ডার পাই। নিরাপত্তার জন্য আমাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনে। আমরা লাভবান হয়। আমাদের টাকার অভাব হবে না।  আমরা ইরাক , আফগানিস্থান, সিরিয়া ,লিবিয়া, বসনিয়া, ফিলিস্তিনীদের  আমাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণ করছি। যারা আমাদের বেয়াড়া হতে শুরু করে তাদের উপড়ে  আমরা ছোট একটা আত্মঘাতী করি। অবশ্যই সেখানে আমাদের প্রতিনিধি আছে। তারা নিয়মিত আমাদের সে দেশের গোপন পরিস্থিতি জানায়। যা আমাদের মহান ওড কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন। আমরা আমাদের এ্যামবাসেডরদের বলি , উদ্বিগ্ন হতে। সাহায্যের হাত কিছু সমযের জন্য গুটানোর হুমকি দিতে।হুমকিতে কাজ হয়। তারা শুর শুর করে আমাদের কাছে পরামর্শ নিতে আসে। আমরা সেখানে আমাদের প্রতিনিধি পাঠায়।এক সময় আমরা সেখানে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব করি।

আমরা এখন মুসলিম দেশগুলো দিকে আছি। আমাদের ধর্ম প্রচারের জন্য নয়,ধর্ম প্রচার করবেন ওড। আমরা মাটির তলার সম্পদ চায়। আগামী বিশ্ব নিয়ন্ত্রনের জন্য খনিজ সম্পদ প্রয়োজন বেশি হবে। আমাদের লক্ষ্য এখন সেদিকে। মাঝে মাঝে আমরা উন্নত দেশেও হামলা করি। তাদের জানান দিই ;তোমরা যা করো না কেনো আমরা আসছি, এটা আমাদের আগমনী সংকেত । গত বছর প্যারিসের খেলা চলাকালীন স্টিডিয়ামে সফল আতœঘাতি করি। প্রায় একশো জনের প্রাণহানির টার্গেট ছিলো কিন্তু কিছু কম হয়েছে। আমাদের ওডের বাণী ঠিক মত বুঝতে না পারার কারণে। আমরা এখন আরও সচেতন। আমাদের দক্ষ গবেষকরা  গবেষণা করে বের করেছে নতুন কৌশল । কি প্লানে আমাদের কাজ করলে মিশন হান্ডেট পার্চেন্ট সফল হবে। মুসলিম বিশ্বর কোনো ঐক্য নেই। ওদের সম্পদ আছে প্রচুর। সুতরাং আমরা তাদের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করি। সম্পদ দখল করে আমাদের রাজত্ব কায়েম করব।সিংহাসন আমাদের অঙ্গুলির ইশারায় চলবে। আমরা মুসলিমদের একদলকে আমাদের ভক্ত বানিয়েছি। তারা আমাদের দোসর। আমাদের ছেড়ে তারা কিছু করতে পারবে  না। তাদের নাকে বেড়ি পরানো আছে। তারা আবার বেশি সমৃদ্ধশালী। সুতরাং আমরা আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে খুব দ্রুত সফল হচ্ছি।

আমার সেনাপতিরা আজ আমাদের গোপন বৈঠাকে তোমাদের জন্য সুখবর আছে। তোমরা পান করো। তিনজন ওয়াইনের বোতল পান করতে থাকে। তাদের তিনজন পান করে না। তারা আপেল আঙ্গুর খেতে থাকে। তোমরা এতদিন যে দিনটির জন্য অপেক্ষা করছো  তা তোমাদের সামনে এসে গেছে। এবার সফরে আমি তোমাদের জন্য সেই সুসংবাদ নিয়ে এসেছি। তেমরা যার জন্য এতদিন ধরে  অপেক্ষা করছো সেই শুভদিন এসেছে।আমার প্রাণের সেনাপতি ছাকু , মাকু ,বাকু ,পাকু, ভাকু  ও গাকু তোমাদের জন্য ওড রাজনেয়ামত মঞ্জুর করেছেন। তোমরা কত সুভাগ্যবান। ছয় সাত বছরে তোমরা রাজনেয়ামত পেয়ে গেছো। আর আমি কপাল পোড়া এক যুগ হয়ে গেল পাললাম না।

ছাকু বলল, আপনিতো আমাদের সেরি। আপনার মাধ্যমে আমরা ওডকে পেয়েছি। এখন আপনি কাঁদবেন না। এবার তো শেষ না। আত্মঘাতী আরও হবে। আপনি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মানুষ। জানেন , বোঝেন ,সংগঠন টিকিয়ে রাখতে আপনার প্রয়োজন। আমরা তো সাংগঠনিক না। আপনি দক্ষ সংগঠক। আপনি আমাদের সাথে গেলে পরবর্তী কার্যক্রম কে করবে। আমরাতো কিছুই বুঝি না। ভাল হয়েছে। আপনি কাঁদবেন না। নিশ্চয় ওড আপনাকে মঙ্গল করবেন। মাকু বলল, ঠিক ঠিক আপনার জয় হোক। আপনি বাংলাদেশের সেরি । আপনি গেলে আমাদের সহকর্মী আগামী প্রজম্মের কি হবে!  আপনার থাকা  প্রয়োজন বেশি।আমাদের জন্য যা কল্যাণকর আমরা তাই করতে চলেছি।মহান ওড আমাদের সকলকে রাজনেয়ামত দান করুন।

আমার সেনাপতিরা শোনো, ওডের শপথ , তোমাদের আমি নতুন নাম দিয়েছি। তোমাদের পরিবারদের সাচ্ছন্দ্য দিয়েছি। যেখানে করোর মনের যত খায়েস পুরোন হতো না । সব পূরন হয়েছে। আমি যা যা বলেছি তোমাদের তাই তাই দিয়েছি। তোমরা যা চেয়েছো তার চেয়ে তোমরা বেশি পেয়েছো সব সময়। তোমরা রাজনেয়ামতেও তাই পাবে। যা তোমাদের প্রয়োজন হবে।আজ তোমাদের পরিবারের প্রতি তোমরা সব দায়িত্ব খুব ভাল ভাবে পালন করতে পেরেছো। দুনিয়াতে অর্থ ক্ষমতা তোমাদের কম দেয়া হয়নি।  তোমরা তা ভোগ করেছো। এখন তোমাদের কর্তব্য পালনের পালা। বাকু দেখে আসো তো আমাদের প্রাসাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোনো ক্রুটি আছে কি।  আচ্ছা ঠিক আছে  বসো,নেই। আমাদের গোপন বৈঠাক কাকপক্ষিও জানতে পারবে না। এতো মহান ওডের দায়িত্ব্ ।

আগামী জুনের পহেলা তারিখে আমরা আত্মঘাতী করবো। ছাকু হবে কমান্ডার , বাকু হবে সেকেন্ড ইন কমান্ডার এভাবে মাকু ,গাকু, ভাকু, পাকু হবে কমান্ডার। আমাদের অপারেশন সাকসেসফুল করতেই হবে।তোমদের স্থান হবে“হোটেল আভিজাত্য”।সেখানে বিদেশীরা বেশি থাকে।পহেলা জুনে ওখানে বিদেশী ব্যবসায়ীদের পার্টি আছে। তোমরা পার্টিতে যাবে। সব ব্যবস্থা করা থাকবে।দুইজন করে যাবে। একশো জন তোমাদের মারতে হবে। মাইন , ককটেল, বন্দুকসহ রসদ তিনদিন আগেই হোটেলের দুটি রুমে বুক করা থাকবে। সেখানে ক্যামেরা, দূরবীনসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুত থাকবে। তবে আমরা এবার  ব্যতিক্রম কিছু করতে চাই। রিভলবারে শব্দ হয়। সাইলেন্সার লাগানোর থাকবে। তবে তাতে দেরি বেশি হয়। আমরা অভিনব কৌশল করব। আমরা একটু পুরনো ঐতিয্য অনুসরণ করব। তোমরা তরোয়ার রাখবে। তরোয়ার দিয়ে কচু কাটা কাটতে হবে দুশমনদের। পাঁচ মিনিটে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একশো খতম হবে। শুধু গলায় পোচ। দুজন  গেটের মুখে থাকবে।

যখন অনুষ্ঠান উদ্বোধন হবে সবাই সেদিকে লক্ষ্য থাকবে। তখন গেট বন্ধ করে দেবে মাকু আর বাকু। সাথে সাথে ডায়াসে থাকা ভাকু আর ছাকু ডায়াসে ছুড়ি চালাতে থাকবে। আর  পাকু থাকবে জনতার মধ্যে । সেখানে কাটতে থাকবে।গাকু থাকবে অস্ত্রর রুমে যখন কোনো সমস্যা দেখা দেবে সে তোমাদের অস্ত্র সরবরাহ করবে। আর যদি কোনো সমস্যা হয় তবে , সাথে সাথে জনাতার ভিড়ের মধ্যে বোম বাস্ট করবে। দেখি সেনা নৌ বিমান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা  মানধাততার আমলের অস্ত্র দিয়ে কি করতে পারে। তোমরা আজ থেকে এখানে থাকবে। খাও দাও ফূর্তি কর। আর এখানে দিনে দুবার রিহার্সেল কর।  না হলে তোমরা ভুল করবে। এবার আমাদের মিশন সফল করতেই হবে।বাংলাদের আত্ম নির্ভরশীল হবে। তা হতে পারে না।আমাদের হিস্যা দিতে হবে। আমরা নিয়ন্ত্রণ করবো পুরো পৃথিবী। আমাদের সাহায্য ছাড়া নাকি ওরা পথ চলতে পারবে। 

আমরা কিছু করতে পারবো না।আমার সেনাপতিরা আমি দেখতে পাচ্ছি , তোমাদের বিজয়। টেলিভিশনে নিউজ হচ্ছে, হোটেল আভিজাত্যে জঙ্গি হামলা।বাহাত্তর ঘন্টা উদ্ধার অভিযানে এখনো পর্যন্ত নব্বইটি লাশ উদ্ধার। এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। নিউজ আপডেট হবে ছিয়ানব্বই ঘন্টায় একশো লাশ উদ্ধার। আরও পাওয়ার সম্ভবনা আছে।পরিস্থিতি এখন যৌথ কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে । কিন্তু কোনো জঙ্গি জীবিত ধরা সম্ভব হয়নি। ছয় জঙ্গির লাশ উদ্ধার। চারদিন গোটাদেশ আমাদের দিকে থাকবে। সবার মুখে  সরকারের নিরাপত্তার ক্রুটির কথা থাকবে। সরকার দলীয় লোকজন বিরোধী দলের দিকে আঙুর তুলবে। বিরোধীদল মিছিল মিটিং সংবাদ সম্মোলন করবে সরকারের ক্রটি নিয়ে। বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন করবে। কিছু মিডিয়া  ব্যক্তিত্ব মধ্যরাতে টকশোতে তুফান তুলবে।উদ্বিগ্ন হবে এলিট শ্রেণী।নিউজ খাদকেরা নতুন নতুন নিউজ করবে রঙ চঙ মাখিয়ে। যে যার(দল) মত চিন্তা করবে। কিছুদিন তাদের চিন্তার খোরাক হবে। কিন্তু এরা কেউ ঔক্যবদ্ধ হবে না।এক টেবিলে বসবে না।

দেশ যায়  যাক ! সংকটে পড়ে পড়–ক! ঐক্যবদ্ধ হওয়া যাবে না; মুখ দেখা যাবে না; মুখ দেখা পাপ। সংসার যায় যাক, স্বামী মরে মরুক কিন্তু সতীন কাঁটা সহ্য হয় না বাঙালি বধুর! বিরোধীদলের মুখ দেখার চেয়ে শত্রুর মুখ দেখা ভাল। শত্রু যা পারে করুক, বিরোধী দল যেনো মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে। দেশ যায় যাক সিংহাসন আমার চাই।এই মীর জাফরী চাওয়া থাকবে উভয় দলের। দেশ আর কোথায় যাবে ! দুশো বছর আমরাইতো বিট্রিশদের দেশ দিয়েছিলাম। আমরা একজোগে বাংলাদেশের চৌষট্টি জেলায় একই সময়ে বোমা হামলা করেছি। পরে গ্রেনেড হামলা করেছি। আমাদের দুই একজনকে আমরা হারায়েছি। তারা রাজনেয়ামতে আছে। জজমিয়া ,হান্নু মিয়াদের ধরতে প্রশাসন ব্যস্ত থাকবে। ওদের যত কলহ হবে আমরা তত সংগঠিত হব। আমাদের  দিকে লক্ষ্য করার সময় থাকবে না।

নিজেদের নিয়ে মরবে ।আমাদের কথা কল্পনাও আনতে পারবে না। আমরা সেই সুযোগে সংগঠিত হব।  প্রশাসন বিরোধীদলের মিছিল সমাবেশ করে ঐক্যবদ্ধ হতে দেবে না। উপর মহলের চাপে বিরোধী দলের লোকদের ধরপাকড় চলবে।    কিছুদিন মাঠ গরম থাকবে। র‌্যাব সেনাবাহিনী পুলিশসহ অন্য অন্য বাহিনী চষে ফেলবে গোটা বাংলাদেশ। আমাদের একজনেরও ধরতে পারবে না। বিরোধী দলেরর কর্মীদের মামলা ধরার কাজে ব্যস্থ থাকবে এরা। তারপর আবার একটা কিছু হবে হুজুগে বাঙালি সে দিকে ঝুকবে। আমাদের কথা মনে থাকবে না। আমরা আবার স্বক্রিয় হব। যত হামলা তত আমাদের থলি গরম হবে। সংবাদ সম্মেলন হবে। আমাদের প্রতিনিধি আসবে। তারা স্থায়ী আসন করবে।  আমরা তখন নিয়ন্ত্রণে নেব বাংলাদেশ। জঙ্গিবাদ জিন্দাবাদ । মিলিটেনসি জিন্দাবাদ। আমাদের পতাকা উড়ছে।তোমরা দেখো ,আমার সেনাপতিরা। তোমরা দেখো। আত্মঘাতী আমাদের পুরা পৃথিবী দিয়েছে।আমরা একস্থানের নাম রাখব জঙ্গি ছাকু নগর, জঙ্গি মাকু নগর। জয়তু ওড, জয়তু আমার সেনাপতিরা, জয়তু পুঁজিবাদ, জয়তু সব উপরের বাদ ক্ষমতা ও অর্থবাদ।

তারিখ; ০২/০৭/২০১৬ (পাঁচপোতা)
যোগাযোগ
মুস্তাক মুহাম্মদ
কারুকাজ ,কেশবলার রোড, যশোর ৭৪০০
মোবাইল নং ০১৯১৬৮৮৩৪৩৮       
 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com