মা দিবস নিয়ে নববার্তার বিশেষ আয়োজন “আমার মা”

১৭২ বার পঠিত

বিশ্বাস করো মা – সা ই দু ল ই স লা ম

পৃথিবীর সব বদলায়, বদলায় না মায়ের ভাবনা।
খোকা যে এখনো তার আদসি কাঁচের ফাকে খোকা ই রয়ে গেলো।
মা এখনো ভাবে তার তার খোকা কিছুই বুঝে না
তাই মাঝ রাতে ক্রেচে হামাগুড়ি দিয়ে এখনো কাঁথাটা টেনে দেয়।
আমি রাজপথ দাপাই রাজনীতি করি,
তবু তোমার কাছে মা আমি নাকি এখনো হাবা।
জ্বরে যখন হাসপাতারের বেডে তখনো বলতে, কিছু খেয়েছি কিনা।
আমি নাকি তোমার চোখে দিন দিন শুকিয়ে যাই।
দরজার বাহিরে দাড়িয়ে থাকতে কখন আসবে খোকা।
এটা করবিনা, সেটা খাবিনা কতো বিধিনিষেধ।
আচ্ছা মা তুমি এতো ভালোবাস কেনো?
আমার দেয়া কোন কষ্ট ই মনে রাখো না।
তুমি মা এতো মমতাময়ী কেন ?
বিশ্বাস করো মা, তুমি আমার আগে মরে গেলে আমি সহ্য করতে পারবো না!

(বিঃদ্রঃ যে মানুষ টি জন্মের পরে কোন প্রকারে মায়ের ভালেবাসা পায় নি, সেই ভালোবাসা বঞ্চিত আমার বন্ধু আমির কে, এই কবিতাটি উৎসর্গ করলাম)

‘মা’ একটা দীর্ঘশ্বাসের নাম–মোকসেদুল ইসলাম

আমার জন্মের সময় – মা তার আপন আকাশে
যখন হাত তুলে প্রার্থনা করেছিলেন তখন –
সমস্ত পৃথিবী দেখেছে একটা উজ্জ্বল নক্ষত্রও কতটা ঝাপসা দেখায়
তার চোখের জল সহজেই হার মানিয়েছে এক সমুদ্রকে

তোমার তীব্র প্রসববেদনা – তারপর জীবনের শুরু – হাটাপথ
এভাবে হাটতে হাটতে কতোটা অন্ধকার পেরিয়ে এসেছি
সহস্র দোযখ – ঘনকুয়াশার মতো করে ছায়া দিয়েছো তবুও
‘মা’ – যাকে কখনোই আলাদা করতে পারি নি, মুখের দিকে তাকিয়ে
মনেই হয় নি – একট প্রজাপতি উড়ে যাবে জীবন থেকে অনেক দূর

মা – শুধু হিসাব কষেন – জীবনের, সন্তানের মঙ্গলের –
অথচ যোগফল বের করতে পারেন না কোনদিন
সেইসব স্বপ্নের পরিধি কতো – জানি না কেউ
একটা পাতাঝরার শব্দ হলেই যিনি এগিয়ে আসতেন
আজ তিনি সহস্র মাইল দূরে – ‘মা’ আজ একটা দীর্ঘশ্বাসের নাম।.

(মা দিবসে পৃথিবীর সকল মা’কে ভালোবাসা)

মা – রুদ্র আমিন

মা, ও মা
তুমি কোথায় ?
আজ বড় অসহায়…
কেন বার বার
তোমার কথা হয় স্মরণ।

দুদিন আগেও তো
তোমার কোলে মাথা রেখেছি
শীতল হাতের স্পর্শ দিয়েছ আমায়,
আজ দু’দিন তোমায় ছেড়ে
পেটের দায়ে পাড়ি জমিয়েছি ঢাকায়।

মা, ও মা
বুকের মাঝে আজ
কেন এতো হাহাকার ?
দেখা হয়নি কিন্তু
আজ তিন তিন বার বলেছ কথা,
তোমাকে বুঝতে দেইনি
বুকের মাঝে জমানো কান্না
আমি যে আর সইতে পারছি না।

মা, ও মা
তোমার ঐ মায়াভরা মুখ
আমার নয়নজলে ছবির মতো ভাসে
তবুও মা কেন এতো কষ্ট ?
খুব বেশি দিন তো নয়
গত বৃহঃ আর আজ শনি,
তুমি দোয়া করো মা রবি নয়
সোমে তোমার স্পর্শ নেব।

মা, ও মা
তোমার আলোতে
আজ দেখি আলো,
তোমার স্পর্শেই শীতল এ দেহ
তুমি ছাড়া কেমন করে রব এই ধরায় ?

মা, ও মা
ঐ দূর আকাশের তাঁরা গুলো যখন
মিটিমিটি করে জ্বলে,
আমার মনে হয় তুমি দিচ্ছ আমায় আলো
আঁধার পথ আর আঁধার হয় না মনে।

মা, ও মা
যদি কখনও আড়াল হয়ে যাও
আমার এ জীবন হবে আঁধার,
মিছে খেলা মঞ্চ জানাব বিদায়
দোয়া করো মা তোমারি আগে
যেন হয় আমার বিদায়।

উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। রাত – ১১:০০, ১৫০৩১৪

আমার মা — কালের লিখন

আমার মা কালো,
আমার মা ফর্সা
আমার মা পায়ের মতোন,
আমার মা ভরসা।

আমার মা বেশ্যা,
আমার মা রাণী
আমার মা মায়ের মতোন,
আমার মা গুণী।

আমার মা প্রেমিকা,
আমার মা সীতা
আমার মা বেদ বাইবেল,
আমার মা গীতা।

আমার মা কোরান পড়ে,
আমার মা চার্চে যায়।
আমার মা না খেয়ে মরে,
আমার মা খাবি খায়।

আমার মা গ্রাম্যবধূ,
আমার মা কলেজ পাশ।
আমার মা জ্যান্ত ভীষণ,
আমার মা কালের লাশ।

আমার মা লজ্জাবতী,
আমার মা প্রগতিশীল।
আমার মা ফসলের মাঠে,
আমার মা আদিসুশীল।

আমার মা অফিসে যায়
আমার মা রান্নাঘরে,
আমার মা নির্মল হাসে,
আমার মা কান্না করে।

আমার মা কষ্টে থাকে
আমার মা কাঁথা বুনে।
আমার মা পরমপ্রেমে
আমার মা পান্তানুনে।

আমার মা কেশবতী
আমার মা অন্ধকার।
আমার মা আলোকিত
আমার মা তুলনা কার?

আমার মা নির্যাতিত
আমার মা নিগৃহীত।
আমার মা জাতিসংঘে
আমার মা সুবিস্তৃত।

আমার মা ধর্ষিতা
আমার মা রত্নগর্ভা।
আমার মা সান্ধ্যপ্রদীপ
আমার মা অপূর্বা।

আমার মা বিমান চালায়
আমার মা রিকশা টানে।
আমার মা স্টার জলসায়
আমার মা গাইতে জানে।

আমার মা টিপ পরে
আমার মা বোরকা ঢাকা।
আমার মা কবিতা লিখে
আমার মা ন্যুডে আঁকা।

আমার মা ভুবনময়ী
আমার মা বিশ্বপাঠ।
আমার মা মহাসমুদ্র
আমার মা পুকুরঘাট।

আমার মা বঙ্গনারী
আমার মা ব্রিটিশ ম্যাম।
আমার মা বাঁশি শুনে
আমার মা’র প্রেমিক শ্যাম।

আমার মা মন্ত্রীপ্রধান
আমার মা ভিক্ষা করে।
আমার মা কাজল মাখে
আমার মা ঘরেঘরে।

আমার মা বৃদ্ধাশ্রমে
আমার মা নাতিকোলে।
আমার মা গাছের মতো
আমার মা ফুলে-ফলে।

আমার মা কবিতায়
আমার মা শব্দেশব্দে।
আমার মা বেঁচে নেই
আমার মা উপলব্ধে।

“মা” – তাপস শূর

কখন বড় হয়ে গেছি খেয়াল নেই,
জন্ম হয়েছিল ফুটের উপর।
এক অমাবস্যার গভীর অন্ধকারে,
পরদিন থেকে কেউ দেখেনি মা,কে।
জেনেছি রাস্তার নেংরি মাসির কাছে,
সেই প্রথম দিন থেকে লড়াই করছি।
থাকার জন্য,খাওয়ার জন্য,বাঁচার জন্য,
এরমাঝে কখন চলতে শিখেছি খেয়াল নেই।
কাগজ কুঁড়োতে কুঁড়োতে কুকুরের তারা,
দৌড়ে ঢুকে পোড়লাম একটি বাড়ীতে।
চোর,চোর,চোর বলে করল তারা,
ছুটতে ছুটতে গোবিন্দের চা এর দোকান।
সবশুনে গোবিন্দদা কাজ দিল চা-এর দোকানে,
সেই সাত বছর বয়স থেকে টি-স্টলের,
এটেবিল ওটেবিল ঘুরে,আজ আঠের আমি।
রাত বারটা,চা এর দোকান বন্ধ করে,
প্রতিদিনের মত ক্লান্ত আমি বাড়ি ফিরছি।
হঠাৎ চোখে পড়ল একটা রক্তাক্ত দেহ,
কাছে গেলাম,প্রান আছে এখন প্রান আছে।
তাকে তুলে নিয়ে ছুটলাম হাসপাতালে,
ডাক্তার দেখে বলল,রক্তের দরকার।
আমি,-আমি দেব রক্ত, কত দরকার?
বিভিন্ন পরীক্ষার পর ডাক্তার বলল ঠিক আছে।
আমি রক্ত দিলাম,সারা রাত বসে ছিলাম,
“মা”-থুরি হাসপাতালের বেডের পাসে।
সকালে কত বড় বড় লোক এল,
একের পর এক আলোর ঝলকানি আমার মুখে।
তুমি আমাদের মা কে বাঁচিয়েছ,
বল কি চাই?কি করতে পারি তোমার জন্য।
আমি ফ্যাল ফ্যাল করে চয়ে ছিলাম,
পর মুহুর্তে চিৎকার করে কেঁদে বললাম,
“মা চাই “মা” পারবেন দিতে”?
-“-মা ” তুমি কোথায়?,আমি বড় হয়ে গেছি।
একছুটে পালিয়ে এলাম গোবিন্দদার দোকানে।

মা – আবুল বাশার শেখ

ভালবাসি খুব বেশি
মায়ের মুখের হাসি,
আমৃত্যু থাকতে চাই
মায়ের পাশা পাশি।
মা যে আমার নয়নমনি
অমীয় সুখের ফল,
মা’র মলিন মুখ দেখলে
চোখে আসে জল।
যতই দূরেই থাকিনা কেন
মায়ের কাছেতে মন,
দুই জগতে মা যে আমার
সবচেয়ে আপন।

নূপুর

(উৎসর্গ পৃথিবীর সকল ‘মা’)
।এ।বি।এম।সো।হে।ল।র।শি।দ।
.
মা, মনে পড়ে? হারিয়ে যাবার ভয়ে নূপুর দিয়েছিলে পায়ে
টং টাং শব্দে হাঁটতাম পৃথিবীর উঠোন জুড়ে
হারায়নি! ভুলে যাইনি সেই শব্দ! খুলিনি নূপুর!
কোরাসে, স্লোগানে এখনও বাজে অধিকারের সুরে!
.
মনে পড়ে মা, মৃত্তিকা রক্ষার করিয়েছিলে রক্ত শপথ!
বলে ছিলে, “শতছিদ্র কাপড়ের আড়ালে যে মায়ের সম্ভ্রম
তার সন্তানের জীবনে কোনদিন না হয় ….. সূর্যোদয় ।”
.
জানো মা, বেওয়ারিশ শকুন রক্তাক্ত করতে চায় আঁচল
ওদের থাবায় শৃঙ্খলিত অস্তিত্ব ! বিজয় পতাকা ভূলুণ্ঠিত!
শোন মা, সেই নূপুর এখনও বাজে প্রতিবাদী ঝংকারে
সংকটে মৃত্তিকার চিৎকারে তারুণ্য জাগায় প্রতিনিয়ত
.
মায়ের কণ্ঠ ছাড়া জনসমুদ্র নিরুত্তাপ! জমে না স্লোগান!
সূর্যোদয়ে জেগেছে কোটি সন্তান! তারুণ্যের হাতে আগুনরোদ!
ঝলসে যাবে সব! শকুনের ডানা, হিংস্র ঠোঁট, ধারালো নখ
আঁতাতের হাত, শপথ ভঙ্গকারীর পাঁজর, পিশাচের প্রমোদ
.
সোনালী স্রোতে ভাসবে অবিচার! ঝলকে উঠবে ন্যায়দণ্ড!
তোমার সম্মানের প্রতিটি ভাঁজে জমা জীবনের রঙ
নদীর পাড়ের সবুজ শাড়ি, বোনের মুখে সূর্য-হাসি, ভূখণ্ড
.
সারথির বুকে দেশপ্রেম আর কন্যার হাতে পতাকা
নিজেকে সাজাবো রঙধনু সাজে, পরাজিত বারুদ শলাকা
প্রতিটি অনিয়মে চাবুক সপাং সপাং
তখনও নূপুর বাজবে প্রতিবাদী সুরে টুং-টাং টুং-টাং!

আমার একটা মা আছে – দ্বীপ সরকার

আমার একটা মা আছে..
চির অম্লান ভালোবাসার তরে
বুকভরে গেঁথে রাখে যে…
আমার একটা মা আছে
চাহনীর ফাঁকে অশ্রুত ক্লেদ মাখে
আমার দৃষ্টি ছেঁটে।

রাত জেগে প্রহরী হয়ে
অপেক্ষার জালে বুনোয়
বাঁদর ছেলেটার জন্য আশ্রীত আঁচল,
গেরস্থলীর ফাঁকে চুমু কেটে
আড়ালে মুছতো ঘাম।

যার চোখজুর হরিণের মত অপেক্ষা,
কোলজুরে চিরায়ত পাঠশালা,
আর স্তনের দাগে প্রজন্মের মানচিত্র আঁকা।

লেখাঃ ৮/৫/২০১৬ইং

আমি কেবল মা হতে চাই – লুৎফুন নাহার রহমান

আমি কখনো প্রজাপতি হতে চাইনা
হতে চাইনা ঘাস ফড়িং পাখি কিংবা মাছরাঙ্গা
প্রজাপতি হলে আমার পাখা হবে,
ফড়িং হলেও আমি বেড়াবো উড়ে, ঘুরে,
আর মাছরাঙ্গা কিংবা অন্য কোন পাখিও যদি হই
আমি হয়ে পড়বো অপার স্বাধীন।
আমি মা হতে চাই, ঠিক আমার মায়ের মতো।
আমি আমার ভেতর ধারন করতে চাই
আমার মায়ের পাঁজরের প্রতিটি হাড়ের
কোষকলায় জমানো জীর্ণ অন্ধকার
সুবহে সাদিক থেকে সাঁঝের আঁধারে মিলিয়ে যাওয়া প্রতিটি দিন
আর নিকষ কালো রাত্তিরে আমার মা
কেমন আর কতটা জ্বলেছে কেরোসিনের সলতে সম
সে খবর রাখেনি আমার বাবা ও।
মায়ের আবার বোধ কি ?
সন্তান জন্মের দায়, স্বামীর সন্তুষ্টির দায়িত্ব পালন করতেই
তার এই ধরাধামে আগমন।
এই প্রগতির মিছিলে আমি হবনা শামিল !
কারন এই নতুন সূর্য আমার মাকে
পুনর্বার করতে পারবেনা আলোকিত ।
আমি আমাকে স্বপ্নভঙ্গের জঠরেই লুকিয়ে রাখতে চাই
আমি কেবল মা হতে চাই, আমার মায়ের মতোই।

~মা~ক্যামিলিয়া আহমেদ

আমার মাকে আমি দেখেছি যুবতি দিনের মতো
আশ্বিনের আকাশ থেকে সবটুকু নীল এনে
বসন সাজাতো গায়ে ভাঁজে ভাঁজে
আমার মাকে আমি দেখেছি
ভোরের প্রভায় সম্ভ্রমভরে মঙ্গলময়ী মূর্তি যেন দাঁড়িয়ে
আমার মাকে আমি দেখেছি জ্যোৎস্নানিশীথে আবেশভরা অবগুণ্ঠনখোলা এক মধ্যযামিনী
অতঃপর আমার মাকে আমি দেখেছি
মেঘের গর্জনে, কখনো বা হিমালয় থেকে বয়ে যেতে
মা যেন আমার জীবনের সঞ্জীবনী
মা যেন আমার তপ্ত বুকের ঝরঝর বৃষ্টি
আজো মায়ের আঁচল আমার অবারিত আকাশ
আজো মায়ের স্পর্শ আমার হৃদয়পল্লবে প্রশান্তির হাওয়া
যদিও হারিয়ে গিয়েছে সময়ের আস্ফালনে মায়ের বুনাস্বপ্ন
তবু আমার স্বপ্ন মায়ের দেবালয়ে
অনুরাগে সিক্ত পরে আছে জলঅঞ্জলি হাতে
মা আমার হৃদয় পুষ্পে পুঞ্জিত
এক সর্ণালী সকাল-মুক্তির দান
এপারে-ওপারে ছায়া ছায়া পথ…..

মা । জেসমিন আক্তার মৌ

এত নামে ডাকি তোমায়
সুখ পাইনা মনে
মাগো যখন ডাকি তোমার নামটি
ভাবি তুমি আছো সনে।।

মাগো তোমার মতো এতো আদর
কেউ করেনি আগে
আদর দিয়ে যতন করে
রেখেছো মোরে ডোরে ।।

আল্লার পরে কেউ যদি গো
পায় গো সন্মান
সে যে মাতা বিনা আর কে হবে
বলোনা রহমান।।

এই মাতাকে কত জনে
করে যে তুচ্ছ অসন্মান
রেখে আসে বৃদ্ধাশ্রমে
নাইকো তাদের জ্ঞান।।

সময় থাকতে শ্রদ্ধা করো
করো তারে মমতা
মা যখন থাকবে না কো
বুঝবে তার মর্মতা ।।

তুচ্ছ সকল ভালোবাসা
তুচ্ছ আমার তরে
ভালবাসি মাগো তোমায়
বিশ্ব স্রষ্টার পরে ।।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com