সোয়েব মাহমুদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

৬৭ বার পঠিত

আমার তখন তেরো

আমি জানি,আমার তখন ১৩…
আমি জানি,এটা নিশ্চিত জেনেই জানি।
অনেকেই ঘটনা থেকে,
ঘটনার রটনায় মনোযোগী ছাত্র!
আমি জানি,যখন আমি আমার শৈশবের রং হারাচ্ছিলাম তখনকার গল্প।
আমি জানি যখন শিক্ষয়িত্রী কর্তৃক আমি ধর্ষিত হচ্ছিলাম
তখন কোথাও সাইরেন বেজে উঠেনি।
বাজেনি করুন বিউগল
অথবা
নতর্কীর উদ্দাম নৃত্য আমার শরীর উপকুলের,
শব্দহীন কর্পুরে উড়ে যাচ্ছিলো শ’বে!
কারন নারী মাত্রই ধর্ষিতা!
ধর্ষক!! হয়ত কখনওই নয়!

আমি জানি,কিভাবে আকাশ বারান্দায় নামে?
আমি জানি,সন্ধ্যেটা কখন চোখের পাতায়?
আমি জানি,নরকের মেঘ মাথায় নিয়ে কিভাবে তুমি যুদ্ধাগ্রস্ত?
আমি জানি,এ শহরের কোন কোন ঘরে ঈশ্বরের যাতায়াত?
আমি জানি,তিনি অবৈধ কোথায়?

রেডিওতে চলছে দিনিবদলের গান,
মুষ্টিমেয় উন্নয়ন,
অরাজকতার শ্রেণীবিন্যাস,
আমি জানি,নারী তুমি বড্ড ক্ষুধার্ত।
পিপাসার্ত তুমি রক্ত উপাসনায়!
আমি এও জানি,
তুমি পেছনে ফিরে তাকাবেনা,
আমি জানি, তাকালেই তুমি বন্দী;আমার চোখে।
আমার নখে,
ঠোটে,
বুকে,
অথবা
আমাদের অতীতের সিড়িঘরে।

আমি জানি, আমি মরতে শিখে গ্যাছি রোজকার নিয়মে।
আমি জানি,তখন আমি ২৩..
আমি জানি,দুঃস্পর্শ রাত্রিতে হয়ত আমি ৩০…

হয়ত,
আমি জানি, ১৩ বা ২৩ অথবা ৩০ যা’ই হউক না ক্যানো?
পুরুষ কখনওই ধর্ষিত নয়,তোমার টি.আর.পি সময়ে।
কিংবা
হয়ত
পুরুষ,মানুষই নয় অথবা ছিলোই না।

এবং আমি জানি,২০১৫ তে টিভিতে এক শোকাবহ স্যাটায়ার!
যেখানে মৃত আত্মায়..গুলি চলছে।

মেঘের  মেয়ে

তোমার দু-অক্ষরের নামটাই অদ্ভুত
“মেঘের মেয়ে”…..
যেনো কুয়াশায় ভেজা ঘাসে রোদের
ইচ্ছেতে আগুন জেগে থাকে, একলা একা।

বাড়ি

বাড়ি ফিরছি প্রথাগতভাবেই। রাত পৌনে দুই। শহর ঢুলু ঢুলু চোখে তন্দ্রাচ্ছন্ন। অনেকগুলো বাড়িতে বাতি জ্বলছে সাপ্তাহিক যৌণতায়।  আমি পরিসংখ্যানবিদ হলে বের করে দিতে পারতাম বৃহঃরাতে ভালোবাসাহীন সঙ্গমে থাকা দম্পতীদের সংখ্যাটা।  রিকশায় কেমন ধ্যানমগ্নতায় আবিস্কার করলাম আমি পিছিয়ে এনেছি সময়??
তখন আমি বৃহঃপতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরি।  এই বাড়ি ফেরা বিষয়ক নষ্টালজিয়া থেকে বেরোবার পথ কি?
আমার ভেতরে কেউ জেগে ওঠে, হঠাৎ নাইটগার্ডের বাঁশি। আমার কুকুরগুলো গন্ধ পেয়ে দৌড়ে আসে। সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের উল্টোপাশে পুলিশ চেকপোষ্টে থাকা এস.আই এগিয়ে এসে লাইটারে স্পার্ক করায় বুঝি সিগারেট ঠোঁটে অথচ আগুন নেই! আমি কুকুরগুলোর কুশল জানতে চাই। ওরা একে একে কথা বলতে থাকে আর অন্ধকার কাটা পড়ে যায় দূরন্ত ট্রেনে যার ভেতর অনেককাল আগের প্রেমিক মুখ আবছা আবছা উকি দেয়।
এইসব কথা কুকুরগুলোকে বলছি?
এস আই সাহেব , চা খাওয়াবেন?

চা খেতে খেতে তাকে কেবোল বলি, এইসব কথা অবিচারে জমছে। বাড়ছে চাপ, বাড়ছে ওজন। প্রতিরাতে বুকের ভেতর শশ্মানশোক। শশ্মান শোক এলে তাকে তো চিতায় উঠাতেই হয়। আগুন দিতেই হয়। জ্বলন্ত বুকের চিতার আগুন থেকে ভালোবাসার সিগারেট ধরাই। ধরিয়ে  হাঁটতে থাকলে নিজেকে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা আর প্রেমিকাকে মেয়র মনে হয়।
আর এইসব কথা আপনাদের শব্দহীন চার দেয়াল শুনতে চায়না বোলে মনোযোগি ছাত্রদের শোনাই।
ওহ রাত অনেক হলো এখনও অনেকদূর যেতে হবে…..

আমি এগুতে থাকি, পেছনে থাকা নীল পোষাকের ভদ্রলোক কি মনে করলো বিদায় না নেয়ায় জানিনা।
উনাকে বলা হয়নি বিদায় শব্দটাকে আমি সকল অভিধান থেকে ভালোবাসার মতন মুছে দিয়েছি।

মানুষ

বড্ড বিচিত্র জীবন, বিচিত্র খাদ্যাভ্যাসের বিচিত্র মানুষ।
সেখানেই মানুষ আমাকে খুঁজেছিলো যেখানে আমি নেই।
মানুষ সেখানে কখনও আসেনি, যেখানে আমি ছিলাম অপেক্ষার সীমান্তে মানুষ দেখবো বলে।

সমাপ্তের অসুখ

ভেবেছিলাম লিখবোনা,
কিন্তু আবার প্রপঞ্চক মায়ায় ,
চোখের মায়ায় পড়ে যাই।
যে চোখ প্রতিটি শব্দ থেকে ধুসর সরিয়ে , বিষাদগ্রস্ত মৌণতা ভেঙ্গে দেয়।
তাকে কিভাবে, কিভাবে এড়ানো যায় জানাবেন?

দুটি চোখের অগ্নিকান্ডে ভস্মিভূত হৃদয় আমার, হাঁটে।
হেঁটে যায় মাণচিত্রের খোঁজে,
হেঁটে যায় আশ্রয়ের খোঁজে,
হয়ে শরণার্থী অই দুটো চোখের কালোয়।

-\ কী লিখলেন?
-\ ওহ্, চা এনেছেন!
-\ কী লিখলেন, দেখি না। দেন দেখি!
-\ নাহ্, ও কীছুনা বাদ দিন।

“ চায়ের লিকার ঢালছেন, ঢালছেন চিনি। পট থেকে দুধ বের করে কাঁপের
ভেতর নাড়তেই –
নড়ে ওঠে একশ পাঁচ জ্বরের প্রেমিক।
কাপের ভেতর খিলখিল করে অসুস্থ সময়ে সুস্থ শিশুর মত ফুটে উঠলো
চায়ের হাসি- হাসিমুখ।
অথচ জানলেই না,
আপনি থেকে তুমিতে এসে, আমি দিব্যি চায়ের কাপের ভেতর
তোমার চোখ জোড়া উপেক্ষা করে ঈশ্বরের মতন লিখেছি

“তোমার চোখ ভর্তি জলে, কাপ ভর্তি সংসারে
ডু্ঁবে যেতে যেতে বলি আমিতো সাঁতার জানিনা।“

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com