মোকসেদুল ইসলাম-এর একগুচ্ছ কবিতা

৪৬ বার পঠিত

তুমি আবার এসো

কে গো তুমি? ফাল্গুনী হাওয়ার দিনে
জানালায় এসে উঁকি দিয়ে যাও বারে বারে
হৃদয়ের কার্নিশে ছড়ানো হাওয়ায় পাতা উড়িয়ে
নূপুর ঝংকারে আন্দোলিত করো বুকের শহর
এখানে এসে বসো প্রিয়তমা, ছড়িয়ে দিয়েছি শুভ্র বীজ
তৃষ্ণার্ত পক্ষীকুল একে একে সব যাচ্ছে খেয়ে।

বাউল মনটা আজ ভালো নেই
পানসী নৌকাটাও ভাসিয়ে দিয়েছি অথৈ সাগরে
ইচ্ছে পূরণের দিনগুলো সব জমা রেখেছি তোমার হাতে
সদ্যজাত সবুজ ঘাস মাড়িয়ে আবার এসো ভোররাতে
জানালার কার্নিশে আর একটি বার উঁকি দিতে
কেউ জাগার আগেই সংগোপনে তোমায় নেবো দেখে।

বুকপাঁজরের কান্না

শিকারীর গন্ধে রাত নামলেই কীটগুলো সজাগ হয়
বিদঘুটে মনোরঞ্জনের আশায় সরব হয় হিমায়িত অনুভূতি
আমরা মানুষ, বিকৃত বাসনায় কাঁপা হাতে বুকের ওড়না
ঠিক করা নারীর দিকে চেয়ে থাকি।

মুক্তি নেই, প্রবোধের প্রলাপে দেই মানবিক হাসি
নৈঃশব্দের মন্ত্রে সাজাই শৈল্পিক নগ্ন ঘর
ধূসর সময়ে শূন্য শোকে কেউ কেউ বিদীর্ণ করে বুকপাঁজর।

ভেতরেই সব

ভেতরেই গড়ে ভেতরেই ভাঙ্গে ভেতরেই ঘটে সব
বুকের ভেতর বাসা বাঁধে নীল প্রজাপতির উৎসব।
কালের পাহাড় রুপোলি রোদের অমৃত সব সুখ
আজন্ম বিশ্বাসে নিজের আয়নায় দেখি মাটির মুখ।
ধূপছায়া রাতে জোনাক যুবতীর উথালি-পাথালি নাচ
ষোড়শী চাঁদ উঁকি মেরে দেখে যৌবনা ঋতুর রাত।

উৎসুক হয়ে এগিয়ে আসে বনেদি কাশবন
মেহেদীর রঙে আল্পনা আঁকে স্পন্দিত জীবন।
জীবনের রং হয় নাকো ফিকে যতোই করি মোরা ঢং
ব্যর্থতা যতো ফেটে পড়ে ক্ষোভে বাঁকী সব হলো লোভ।
অচেনা ভ্রমর শুষে নিয়ে যায় মন্ত্রিত সব সুর
হিসাবের খাটিয়ায় আগুন লাগিয়ে সাধনা করি সাধুর।
কাঁটায় ভরা জীবনের পথ হয়না কখনো মধুর
আভিজাত্যের সিন্দুকে লুকিয়ে ফেলি বয়সী মুখ।

বিবর্তনের ছায়ার উপর জাদুকরী চোখ ফেলে
কেউ কেউ নাচে পুতুলের নাচ, ভেলকী দেখিয়ে বাঁচে।
ধর্মের হাটে চলে সুখ বেচা-কেনা মঙ্গল কাব্য অবহেলায় থাকে পড়ে
কে জ্বালিয়েছে অদেখা আগুন নিত্য যাচ্ছি পুড়ে।
উষর ভূমি উর্বর করতে ছড়িয়ে প্রেমের ডালি
বসে আছি হাটে কে কে কিনে নেবে তারই অপেক্ষাতে।

মমতার থালা চেটেপুটে খাও কালের আঙিনায় বসে
বিষাদের গান মুখরিত হোক শুষ্ক প্রান্তরে।
নোঙ্গর তোলো মাঝি সময় হয়েছে ভাসাও তোমার নাও
খরস্রোতা নদী পাড়ি দিতে হবে সামনে এগিয়ে যাও।

সংবিধান জানা নেই

জীবন একা হয়ে গেলেই কেউ কেউ লিখে রাখে দহনকালের ইতিহাস
নিমগ্ন রাতে সম্মোহনী আগুনে জ্বালিয়ে দেয় বোধের খেয়াল ।

নিঃশ্বাসে প্রাণ নেই, পৌরাণিক বিশ্বাসের ছায়ায় ঘুনপোকাদের বাস
ভেঙ্গে ফেলো, জংধরা দুর্বোধ্য সিন্দকের তালা, ঐতিহ্যের দেয়াল;
জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম হয়ে ঝুলে থাকুক সময়ের হাত।

আমজনতার মধ্যে থেকে কেউ একজন প্রশ্ন তুলেছিল সেদিন
জীবনের বায়োস্কোপে কেন আমরা আজও দক্ষ শিল্পনির্দেশক হতে পারিনি?

কেন পারিনি জীবনকে নাট্যরূপ দিতে?
সংবিধান মুখস্থ ছিল না বলে উত্তরটা দিতে পারিনি।

দুঃখের সাথে যাদের বসবাস

আকাশ উড়তে শিখলেই কমে যায় নদীর নাব্যতা
শূন্যের ভেতর শূন্যকে রাখলেই দোল খায় নির্লিপ্ত সময়।
ফসলের দানায় যখন দেখা দেয় অভাবী রাত
কপট আনন্দে হেসে লুটোপুটি খায় অনাহারী দিনের শূন্য থালাটা।

আমরা তো ভাই মৃত্তিকার সন্তান
শিমুল তুলোর ভাঁজে রাখা দুঃখের সাথে বাস
বুকের ভিতর পুষে রাখি ধূপের আগুন
বহমান নদী পাড়ি দেই নোঙ্গর ছেঁড়া নায়।

দীপাবলির আলোকরেখা আমাদের কাছে লেজকাটা টিকটিকির ন্যায়
কাগুজে নৌকার মতো অকালে ডুবে মরে সব স্মৃতি-স্বপ্ন
এসব দেখে ধমনীর দীর্ঘশ্বাস আটকে টিপ্পনী কাটে বয়সী ইঁদুরটা।

 

যোগাযোগ
………………………………
মোঃ মোকসেদুল ইসলাম
বাসা নং-২১১/বি, (৪র্থ তলা) ফ্ল্যাট নং-১৬,
উলন রোড, পশ্চিম রামপুরা,
রামপুরা, ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ।

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com