শারদুল সজল-এর একগুচ্ছ কবিতা

৩৫ বার পঠিত

স্পর্শ

দূরের যেমন কিছু কথা আছে
কাছেরও তেমনি

কাছে থাকলেই কাছে থাকা না সব !
দূরে গিয়েও কি দূরত্ব গিয়েছে দূরে?

আছড়ে কী পড়েনি হদয়ের ব্যাকুলতা

কাছে থাকাকেই স্পর্শ বলে না
স্পর্শ সবার ভেতরেও
থাকে না

স্পর্শ অন্যরকম
বাতাসকে যেমন ধরতে পারো না।

বিজলিবাহাস

সাড়ে তিন মিটার জীবনের রঙ
এক পৃথিবীসমান বাতাসে ভ্রমণ
খুঁজে ফিরে বিজলিচমকের জ্যামিতিক উৎক্ষেপণ
দিন শেষ
স্মরণ সংখ্যাতে মেঘকলোনির ইতিহাস
একঝলকও বেঁচে নেই
বনজগন্ধমাখা তরতরে আগুনের জিভের ডগায়
সহস্র কিলো হাহাকার ছড়ালেও
ঘড়ির কাঁটা দীর্ঘদিন ঘুরে না একক রেখায়
সময় বদলায়
যেমন বদলায় বায়ান্ন আকাশের ভাঁজ খুলে
চেনা গোলাপি শহর

মানুষভাবনা
আপনি মানুষের দিকে এক পা এগিয়ে গেলে
আকাশে
পৃথিবীর ফুল ও ফসলের জন্য বৃষ্টির জলধারা জমা পড়ে
একমাত্র মানুষের নাম নিলেই আল্লাহ নেমে আসেন
পৃথিবীর সকল দ্রাঘিমায়
বিন্দুতে…
তখন রুপালি রোদের বেসামাল ভ্রুণ থেকে জন্ম হয় পান্ডুলিপি
সম্পর্কের আদিনগর থেকে ওঠে আসে দৃশ্য পুরাণ ব্যাকরণ
গেরিলা অন্ধকার ভেঙে বিশ্বায়নের বুকে জ্বলে ওঠে মঙ্গলদীপ
যদি আপনি একবার মানুষের দিকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকান
তবে ধ্বংসের সকল যুদ্ধ বন্ধ হবে
গোধূলির ঢেউয়ে দোল খেয়ে মাউথ অর্গানে সুর উঠবে
জীবনের সরল গণিতে
মানুষ, মানুষই একমাত্র প্রশান্তি নহর…

পাচার

রাগ করতে গিয়ে হেসে দেই! যেন দাত ও ঠোঁটের ডগায়
লাফিং গ্যাসের সিলিন্ডার খুলে রেখেছি, যেন স্টেশনের ট্রেনটি রোজ
আমার জন্যই থামে, দাঁড়ায়
আমি উঠি না
মনে হয় আমি ওঠলে
এই ট্রেন কোনোদিন আর থামবে না
হাঁটতে হাঁটতে পথে-বিপথে পড়ে থাকে জিহ্বার ছাপ!
তাহলে পা কোথায়?
সমুদ্র বন্দরে প্রতিদিন হাঁটাগুলো বাক্সবন্দি পাচার হচ্ছে
কে করল এমন চুরি?
তারাভর্তি জাহাজে ঝাঁঝালো জখম ফেলে
এইমাত্র ঘাটে ভিড়ল মানুষের বুকের ফুটো
সন্ধ্যাশৈশব
ও নিউক্লিয়াসের সফটকপি
জানি, এগুলো আমাদের আমদানি
রপতানি সুন্দরবন!

ভবিষ্যৎ

পৃথিবীর সবকিছু সবকিছু ছাড়া বেঁচে উঠবে
পড়ে থাকবে প্রয়োজনীয় সঙ্গম
সৌরনিদ্রার নৈশঘড়িতে পৃথিবীর গোলার্ধ ছিঁড়ে
ভেঙে পড়বে বসন্তের বিউগল
ওষুধি-স্তনের মরুভূমিতে
সকল সঙ্গম ব্যর্থ হয়ে
হাহাকার ছড়াবে নকশিকাঁথার মিহি সেলাই
রাজাদের ঘোড়দৌড়
তীব্র ব্যথার শিশিরে জমে
রমণীরা তুলে খাবে ভ্রুণের শরাব
সেদিন গুরুত্ব থাকবে না মাতৃত্বের পিতৃত্বের!
একখণ্ড মাংস কিংবা খাঁচার স্কেচে
রমণী পুরুষ এলিয়েন সঙ্গমের অপেক্ষা করবে
যোনিগোলাপ শিশ্ন চুঁয়ে গলে পড়বে সময়িত লালা
অন্ধকার অস্থিরতায় জেগে উঠবে_ অদৃশ্যযুগ
একথা ভেবেও আমি বিস্মিত নই, মূলত ভাবছি
মানুষের বিবর্তনরূপ পরবর্তী শরীরের কোন অংশ খসে পড়বে
হাত-পা-নাক-কান-গলা
না হৃৎপিণ্ড!
উচ্চারিত হলো- এই নিউক্লিয়াসের যুগে
হৃৎপিণ্ডের ঝুঁকিই বেশি
তা যদি হয়, হয়ে ওঠে- হৃৎপিণ্ডহীন সকল মানুষ
তবে নিকেল আর মানুষের ঢের কী পার্থক্য থাকবে?
নারীর মধুকলসও জোছনা ছড়াবে না তৃষ্ণার
সেদিন পুরুষ রাবারের কদবেলে স্ক্রু বসাবে
নারী রাবারের পিস্টনে স্ক্র বসাবে
সম্পর্ক, নারী-পুরুষ কার দিকে যাবে!
কার দিকে যাবে অপেক্ষার দীর্ঘ স্বরলিপি
গিলে খাওয়া এক একটি প্রতীক্ষা
যেখানে উত্তরাধিকারের পরম্পরা দীপ জ্বেলে আছে
বছরের পর বছর
উদ্ভিদের শিকড় মূলে পুষ্পিত অবিনশ্বর
ইচ্ছে করলেও ভাঙা যায় না বৈচিত্রের টুর্নামেন্ট
কালের অজগর উঠে গেছে প্রজন্মের স্বভাবে
ডোরাকাটা মাংসপোশাকে
প্রতিদিন হয়ে ওঠছে ব্যাঙ সাপ কিংবা খরগোশ
এভাবে বেঁচে থাকা
এভাবে সময়কে ভেঙে সময়ের ঊর্ধ্বে ওঠা!

এপিটাফ

আমি মানব-দানবের প্রতি অভিযোগহীন!
কোনো ক্লেশ বা আক্ষেপ নেই কারও প্রতি
যখন যে যা করছে বা করবে তা আমার প্রাপ্য
কথার চাবুকে কেউ যদি আমার শরীরে চামড়া দিয়ে
ডুগডুগি বানিয়ে হোলিনাচে মেতে ওঠে
তাতেও বিস্মিত হবো না
ভেবে নেবো- এটা তার প্রয়োজন ছিল
প্রয়োজনে সব হয়, হচ্ছে
যুদ্ধ থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ হত্যার বিল পাস
বদলায় নদী- সভ্যতা এমনকি মানুষজন্মের অঙ্গীকার
গভীর সূর্যোদয়ের ভাঁজে ভাঁজে মিশে যায় মৃত স্বরের চিৎকার
জীবন-জিজ্ঞাসাহীন মানুষের হাত-মুখে লেগে আছে ঘনরক্তের দাগ!
ঐ হাত মানুষের নয়
ঐ মানুষের কাছে ব্যক্তিগত আমার কোনো চাওয়া নেই!
মাটি পোড়ার মতো যারা পুড়েছে আমায়
তাদের প্রতিও আর্শীবাদ
শ্রেষ্ঠত্বের সবটুকু রোদ মিলে যেন মানুষ একদিন
শিখে ফেলে মানুষ শান্তির আহ্বান

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com