নির্ঘুম এক রাত ।। নুর এ আলম ছিদ্দিকী

চিকিৎসকের পরামর্শ- রাত জাগবেন না, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বেন। ইদানীং মাথা ব্যাথার বেয়াড়াপনারই তার এহেন নির্দয় হুকুম। নির্দয় বললাম এ জন্য যে, গত তিন বছর ধরে রাত্রি জাগরণের যে বদভ্যাসটি চমৎকারভাবে গড়ে উঠেছে, চিকিৎসকের হুকুমে তা কি রাতারাতি বদলানো সম্ভব?

সাংবাদিকতা এমন এক অদ্ভুত পেশা, না চাইলেও আবেগ-উত্তেজনা প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী হয়েই থাকে। রাত জাগার অভ্যাসটা শুরু হয় গত তিন বছর যাবত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাথে কাজ করতে যেয়ে। আমি মুলত ফ্রিলেন্স সাংবাদিকতা করি সম সাময়িক বিষয়াদি নিয়ে লেখালেখি করি। সাড়া রাত টিভি র সামনে পড়ে থাকি নতুন কোন সংবাদের অপেক্ষায়। সাড়া দিন রাজপথে থেকে আন্দোলনের দায়িত্ব গুলো পালন করে হোটেলে যেয়ে টিভি র সংবাদ শুনায় ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। ভোর ৬ টা থেকে শেষ রাত ৪ টা পর্যন্ত আমি কখনো হোটেলে কখনো রাস্তায় পুলিশ অভিযান চালায় কি না তার জন্য কালীবাড়ি মোড়ে আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হত সুনসান রাত। মাঝেমধ্যে দু’একটা ট্রাক ও প্রাইভেটকার নৈঃশব্দ্য ভেঙে ছুটে চলেছে।

সকাল থেকে ভোর রাত ৪টা স্পর্শ করেছে। নিশি জাগরণের কোনো ক্লান্তিই চোখে-মুখে নেই। কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ সকলে উৎফুল্ল।
এ পেশায় এমন কিছু কিছু পাগল মানুষ রয়েছেন, যারা জীবন-সংসারের জরুরি প্রয়োজনের প্রতিও দৃকপাত করেন না। প্রিয়জনের ভালোবাসার বন্ধনও অবলীলায় অগ্রাহ্য করেন। কেউ কেউ বলেন, আমিও নাকি ওদেরই দলে।

আমি এক নাগারে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৪ মাস নিয়মিতই এই দায়িত্ব পালনে বিন্ধু মাত্র। আমি নিয়মিত সাড়া রাত জেগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ পৌছে দিয়েছি।যথারিতি প্রচারিত এবং প্রকাশিত হয়েছে। আবার সাড়া রাত জেগে হোটেলের লবিতে বসে পাহারা দিয়েছি কখন ও পুলিশ ভ্যান অভিযানে যায় কি না?নিশি জাগরণের কোনো ক্লান্তিই চোখে-মুখে নেই। কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ সকলে উৎফুল্ল।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ২৬৮ জন অপহৃত হয়েছেন। ফিরে এসেছেন মাত্র ২৪ জন। লাশ উদ্ধার হয়েছে ৪৩ জনের। নিখোঁজের খাতায় ১৮৭ জন।নুর এ আলম ছিদ্দিকীর  নামটিও হয়তো এই নিখোঁজের তালিকায় স্থান পেত। কেন স্থান পেল না? তার সম্ভাব্য কারণের কথা আজ প্রকাশ করলাম না।

আজ মুলত যে নির্ঘুম রাতের কথাটা লিখছি ২৬ শে জুন রাত ১১ টায় একটা ফোন আসে আমি রাহ্মনবারিয়া জেলা বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে লিখালিখি করছি তার জন্য আমার চরম মুল্য দিতে হবে আমার পরিবারকে ও কারন হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদের পরম আত্নিয়।তার ভাগিনা জনি বেশ কজনকে খুব শক্ত ভাষায় বলেছে আমাকে এবং আমার পরিবারকে চরম মুল্য দিতে হবে।কিন্তু এই রাতটি ছিল অন্য নির্ঘুম রাতের চাইতে ব্যতিক্রম। কারন আন্দোলনের কারনে যখন ঘুম হওয়ার কথা ছিল তখন হইনি আজ আমাকে পালিয়ে বিএনপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি সিন্ডিকেটের অপকর্ম সামনে নিয়ে আসার কারনে।

এবার আঘাতটা এসেছে দলের ভিতর থেকে যে কোন সময় ঘুম খুন হতে পারি এতে আমার বিন্ধু মাত্র দুঃখ নেই। দুঃখ একটাই সমাজের চোখে ওরা দেবতা। আজ তাদের সময় আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে তাই আমাকে সরিয়ে দিতে পারলে ওরা বেঁচে যাবে।এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত আপনারা কি আপনাদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন না। শুধু মাত্র নিজেদের চেয়ার বাঁচানোর জন্য আমাকে বলির পাঠা বানিয়ে কি লাভ হবে?
আমি প্রমান করে দিয়েছি সামাজিক আন্দোলনে গণমাধ্যম আমাদের সহায়ক শক্তি। গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকায় আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর বলছি, আমাদের অভিন্ন শত্রুদের একসঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। জনমত ও গণমাধ্যমের চাপে অশুভ চক্র আপাতত কোন ভুমিকা নিচ্ছে না, এভাবে সহজ হিসাব করার কোনো সুযোগ নেই। তারা ফণা উদ্যত করেছে, আমাদের সাবধান থাকতে হবে।  চোখেমুখে উৎকণ্ঠার স্পষ্ট ছায়া লক্ষ্য করে এক সিনিয়র গনমাধ্যম কর্মী আমাকে বললেন , ভয় পাবেন না, আমরা সবাই আপনাদের পাশে আছি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৪৩ বার পঠিত

আদিত্ব্য কামাল, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি #

Adithay Kamal House#412, Alhampara, Bhadughar 3400 Brahmanbaria, Bangladesh Mobile : 01713-209385

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com