সুমন আখন্দ’র একগুচ্ছ কবিতা

৪৬৬ বার পঠিত

চল, হাঁটি

হাঁটি আর ছড়া কাটি-
হাট্টিমাটিম টিম
দাঁড়িয়ে পারো ঘোড়ার ডিম!

ঘোড়া দেখলে যে খোড়া হয়ে যায়
তাকে দেখলে আমার হাসি পায়,
হাসি পায়, দুঃখও হয় আহারে!
কি করে যাবে সে সাগরে বা পাহাড়ে।
বেচারার জন্য থাকুক কান্নাকাটি
চল, হাঁটি!

যে হাঁটতে পারবে না, সে গাড়ি কিনুক!
তাও না পারলে ড্রাইভার হোক!
যে হাঁটতে পারবে না মাটির উপরে
মাটি যেন তার উপরে বসে পড়ে!
কবরের জন্য থাকুক কান্নাকাটি
চল, হাঁটি!
হাঁটি আর ছড়া কাটি-
হাট্টিমাটিম টিম
দাঁড়িয়ে পারো ঘোড়ার ডিম!

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ

যে মাটিতে ভর দিয়ে আমি হামাগুড়ি দিতে শিখেছি
হাঁটতে শিখে এতদূর এসেছি।
দু’হাতের তালুতে যে মাটি লিখে দিয়েছে ভাগ্যরেখা
তার স্মৃতি মায়ের মমতার মত মাখা।
যেখানে আমার চিন্তার চাষাবাদ,
সেখানে দাড়িয়ে হাত মুঠো করি বলি-
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!

যে পানিতে ডুবে-ভেসে আমি বাচতে শিখেছি
সাঁতার শিখে এতদূর এসেছি।
দু’চোখের কোটরে যে পানি হয়ে আছে হাসি-কান্না
যার স্বাদ আজও জিভে, মায়ের হাতে রান্না।
যে পানিতে অজু-গোছল করে আমার প্রার্থণা
সেখানে এসে হাঁটু ভিজিয়ে বলি-
‘বাংলাদেশ অমর হোক’ এই কামনা!

যে বাতাস বুকে টেনে প্রথম নিশ্বাস নিয়েছি
হাড়ে-পাঁজড়ে বড় হয়েছি।
ছিনায় ছিনায় যে বাতাস লাগায় টান
তারে মনে করে বাউলা বাঁশীর গান।
এখানে উড়তে উড়তে আমার আশাবাদ,
মুক্ত বাতাস বুকে নিয়ে বলি-
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!

বেকার

মুখটা এতো কালো করে রেখেছো কেন হে!
তোমার মতো সংবিধানের অক্ষরও কালো— হে বেকার!

টাইমলি চাকরি পেয়ে গেলে তুমি হতে পারতে পরিপাটি অফিসার
অথবা আমার মতো হালকা-মেদের ভার্সিটি টিচার!
অথবা এনজিওতে ভাল স্যালারির রিসার্চার!
অথবা ইয়াং-এনার্জেটিক এবং স্মার্ট ব্যাংকার!
যেহেতু কিছুই হওনি এখনো, তুমি বেকার নামের বেগার!
বাবার হোটেলে খেয়ে, মায়ের কাছ হতে নিয়ে কোনমতে চলছো
অনার্স করেছো, মাস্টার্সে ফার্স্ট-ক্লাশ পেয়েছো
দাদা মুক্তিযোদ্ধা ছিল, সার্টিফিকেট দিয়েছো
ধারদেনা করে ব্যাংক ড্রাফ্ট করছো
সবই ঠিক আছে, কিন্তু তোমার গায়ে গন্ধ আছে
দোষটা তোমার না, ভেরিফিকেশনে জানা গ্যাছে
তোমার বড় ভাই ধানের শীষে ভোট দ্যায়
বড় অন্যায়! অকাট্য অন্যায়!
এই আমলে এরচেয়ে বড় দোষ আর নাই, দোষ দেবে কার!
তুমি তো বেকার।

চাকরি হবে না, অন্য কিছু করো
পিঁপড়ের পথ ধরো,
ধৈর্য ধরো, পরিশ্রম করো!
হয়তো পেয়ে যেতে পারো চিনির দানা
ভাগ্য ভাল হলে চিনির বস্তা নেয়া-আনা
হয়তো স্বপ্ন পূরণ হবে না ষোল আনা;
তবু মনের শান্তির জন্য সান্তনা—
শেষ পর্যন্ত বেকার আসলে কেউ থাকে না।

লেখক পরিচিতঃ সুমন আখন্দ

সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। মাদারীপুরের রমজানপুর গ্রামে ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ খৃষ্টাব্দ তারিখে সুমন আখন্দের জন্ম। শৈশব কেটেছে মাদারীপুর, বরিশাল ও ঢাকাতে। ঢাকা কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতকোত্তরের পরে কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এবং ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় কাজ করেছেন। বিবাহিত এবং দুই কণ্যার পিতা সুমন আখন্দ বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। প্রবন্ধ-গল্প-কবিতা-ছড়া ইত্যাদি সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি গবেষণা কর্মও করছেন পেশার প্রয়োজনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগে ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্যিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা’-বিষয় নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com