তাহিতি ফারজানা-এর একগুচ্ছ কবিতা

২৯৯ বার পঠিত

অস্ফুট

আমাদের নামাঙ্কিত গাছগুলো
গৃহপালিত পশুর আহারে পরিণত হচ্ছে
দাস-বৃত্তির চেয়ে এই ভালো।

সর্বভুক আকাঙ্খার লালা ঝরা পথে
সব অস্বীকার করা হাসিবিচ্ছুরণ
জীবনের নান্দনিক ব্যর্থতা। হোক।

অঙ্কুরোদগমের পীড়ন নিয়ে ঘনীভূত হয়ে উঠা
ক্রমশ।

একটা পালিয়ে যাবার প্রস্তুতি ঘিরে
কক্ষচ্যুত আমি
লুকাবো না,
বহুতল জন্ম-মৃত্যুতে চুমুক দেয়ার অনিঃশেষ উপলব্ধি।

বিষডানা

গানপয়েন্টে দাঁড় করিয়ে রেখেছি
ট্রিগার চাপলেই বাষ্পায়িত হবে বিষডানা,
অথবা জীবাশ্ম হয়ে ভূমিসংলগ্ন।
অনেক দৃশ্যপাতের পরও উড়াতেই চেয়েছি তাকে
অথচ এক ভয়ানক কারচুপি ঠোঁটে নিয়ে
সে আবৃত্তি করেছে ‘জীবন’-
যেন গৃহিণীর লটারি কেনার আহ্লাদ
ধোঁকায় ফুরিয়ে যায়।

মধ্যাহ্ন

সিগন্যাল তাড়িত রাস্তা
গোপনীয়তা চুরি হওয়ার ক্ষোভে
শাখা-প্রশাখা বিছিয়ে রাখে।

যানবাহন আর নিজের কুচকুচে দেহের মিলনস্থলে
পোষে লালচে প্রহসন।

একলা রাস্তা
আগুনভর্তি সূর্যের নিচে নিজেকে ভাবে
অভিবাদনহীন নিখোঁজ।

বোকা রাস্তাটা
জানে না-
ঘাত সুপরিবাহী শ্বাসগুলো
অজ্ঞাতে মধ্যাহ্ন হয়ে উঠে।

জরুরি চিকিৎসক

যেভাবে হাত ধরে নবজাতককে
আলোর করিডোরে নামিয়ে দাও
সেভাবে আমায় তুমি রেখে আসো জ্বলন্ত ভ্রমণে।
সঙ্গকাতর, ক্ষুধার্ত মাছের ভূমিকায়
খুঁটে খেতে পৃথিবীর পা।

দ্বৈত চেহারা খুলে রেখে চন্দনকাঠে
মুখাগ্নির সাক্ষী হচ্ছে প্রত্যেকে-
ছাইরঙের কথা মনে রাখছে প্রত্যেকে-
নিতে দাও এই অলীক দর্শন।

ছিদ্রবহুল চুপসানো উপস্থিতি
এখনই ভিজিয়ে রাখো তাজা জলে।
সান্ধ্যআড্ডা রঙে আগলে
ড্রয়িং পৃষ্ঠাগুলো
গল্পকার হয়ে উঠছে।

জন্মের প্রতি

ভাবটুকু বেওয়ারিশ
ভাষা তোমার।

পড়ে দেখতে আহ্বান করো দন্দশূক সমাজকে
অস্তিত্ব, শিশু আর সঙ্গমের মহাকাব্য।

জল জীবাণুমুক্ত হয় অগ্নিস্পর্শে
কতটা হয়েছ হালকা
তুমি তো কেঁদেছ আপোষহীন শীতলতায়।
খুলে পড়েছে আবরণ দেহ থেকে, দর্শন থেকে।

অন্যের ভূমিকা অস্বীকার না করেও তুমি নিশ্চিত জানো-
ভাবের যোগানে মৌলিকতা সামান্যই
ভাষা তোমার একান্ত উন্মাদনা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com