জায়েদ হোসাইন লাকী’র একগুচ্ছ কবিতা

১৯৪ বার পঠিত

হাত বাড়াই নিষিদ্ধ গন্ধমের দিকে

তার শরীরে হাত রাখলে চন্দনের গন্ধ বেরোয়। তাঁর ঠোঁটে ঠোঁট রাখলে আমি পুরুষ হয়ে উঠি দুরন্ত দাপটে। তার চুল থেকে চুমোয় চুমোয় গোলাপ গন্ধ শুঁকে নিই। তখন শরীরে মেখে দেয় সে প্লেটোনিক প্রেম। অতঃপর তার হাতের তালুতে মাথা রেখে আমি রোজ রোদ পান করি। যদিও আমাকে উপহার দেয় সে প্যাথোজেনিক প্রেম। তবুও, তার প্রাত্যহিক প্রতারণা আমাকে দমাতে পারে না একদমই। স্বপ্নের ফসিল দুঃস্বপ্নের ছাই দুহাতে আঁজলা করে ধরে ডাকাতিয়া নদীর জলে কষ্ট ওড়াই। তিমির রাত্রি শেষে শরীরে মাখি স্বপ্নদিনের গন্ধ। তার মনে এখন ছলনার স্বপ্নচূড়া, আমার মনে আজ সিল্কের ঝিলিক।

মাঝেমাঝে আমার কী যেন হয়

একজোড়া মার্বেল চোখ প্রায় তিন ঘন্টা ধরে আমার চোখে আটকে আছে; নিউ মার্কেটে। একজোড়া কামরাঙা ঠোঁট আজ বিকেলটি আমার তছনছ করে দিলো। খয়েরি শালিকের মতো আমি তার চোখ আর ঠোঁট খুটে খুটে দেখি অতঃপর তার মনের অন্তরিক্ষ থেকে দুহাতে তুলে আনি অজস্র গোলাপ আর ক্রিসেনথিমাম। মাঝেমাঝে আমি খুব মাংসাশী হয়ে উঠি, যদিও অন্য বিকেলগুলি গতানুগতিক ভেষজ।

তুমি কথা রাখোনি তাই চাঁদ আমাকে ভালোবেসেছে

অরুন্ধতী, মনে পড়ে তুমি আর আমি একবার বরিশাল গিয়েছিলাম? বাসের জানালা দিয়ে তোমার মুখে চাঁদের আলো এসে পড়েছিল। আমি চাঁদকে না দেখে বরং বিভোর হয়ে তোমাকে দেখছিলাম। মনে পড়ে, তুমি আমাকে ভালোবাসবে বলে চাঁদকে স্বাক্ষী রেখে কথা দিয়েছিলে? তোমার আলোয় প্রজ্বল হয়ে উঠব ভেবে তখন আমি খুব আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম। তুমি কথা রাখোনি। চাঁদ আমাকে এখনো সেদিনের মতোই আলো দিয়ে যাচ্ছে। অরুন্ধতী, আমরা আজ একই ছাদের নিচে না থাকলেও একই চাঁদের নিচেই আছি।

প্রেম যেন এক ঠোঙ্গা চিনাবাদাম

চাঁদনিচক থেকে বসুন্ধরা যাওয়ার পথে শীত আমকে কাঁপিয়ে দিলো যদিও আমি উলের জ্যাকেট পরে ছিলাম। তুমি পাশে থাকলে সাইবেরিয়ার শীতও আমাকে একদমই কাবু করতে পারতো না। গরম জিলাপির মতো উষ্ণ তোমার কামরাঙা ঠোঁট যদি আমার ঠোঁটে একবার রাখতে; তাহলে পৃথিবীতে আর কখনো শীত পড়তো না। আসলে, আমার শীতগুলো চীনের প্রাচীরের মতো দীর্ঘ আর সুখ গুলো যেন এক ঠোঙ্গা চিনাবাদাম।

আমি আর ফিরব না ঘরে

বিদীর্ণ জীবনের মেটালিক ভেন্টিলেটরে হিম কুয়াশার আঁচল ধরে ঝুলে আছি সময়ের মাঝ পথে। আমার যা কিছু অনন্ত কামনা যোজন যোজন, তা তোমার চোখের চাহনিতে অবাক লাবণ্যতায় লুকোচুরি খেলে ভোরের বাতাসে। তোমার প্রেম ছিল যত এতদিন অফুরান, আমি তার অবাধ্য বোধে ক্রমশ ভাসি যমুনার জলে। পথহারা পাখি যেহেতু ফেরেনা ঘরে, আমি কি করে ফিরে আসি সময়ের বিরুদ্ধ স্রোতে?

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com