শারদুল সজল-এর একগুচ্ছ কবিতা

১৫৮ বার পঠিত

শাদা পালক

কারও কাছে আমার কোন চাওয়া নেই
সব লেনদেন শেষ করে এই আমি
নিজের ভেতর নিজেকে দিয়েছি বির্সজন

নিসঙ্গতায় আমার অর্জন, চুরি হওয়া আয়ুরেখায়
নির্বাসন নামের এক গাছ বুনেছি
এই গাছের সাথেই আলাপ-আলপনা- বসবাস
শাদা পালকের আড়ালে
কষ্টের আঁশ থেকে সুমিষ্ট যে গন্ধ বেরুয়
সেখানে জেগে ওঠেছে এক নির্জন দ্বীপ

ঢেউ আর আমি ছাড়া
আমরা এখন আর কেউ কারও পরিচিত নই

অদৃশ্যের শেষ থেকে

চোখ, মণি থেকে গলতে গলতে ক্ষয়ে গেল
খনিজ লবণে, অলৌকিক দৃশ্যের মৌমাছি
পরিত্যক্ত শৈশবের ভেতর সূর্যকে ছুঁড়ে দিল
আর অমনি ভবিষ্যত ১০০ বছর নক্ষত্র হয়ে
আলোর গতিতে ছুটে চললো মহাকালে

প্রচার হলো লালকাঁকড়ার জীবনবদল

সূর্যরা জড়ো হলো ইথারবাহিত জলে
রেলব্রিজ ক্রস করে পাথরে আয়নায়
ঈশ্বরের মুখোমুখি পৌঁছে দিল
‘চোর_পুলিশ’ প্রশ্নের তীর

এখন মানুষ যদি তার আত্মার হিসেব খুলে
সমতার প্রশ্নে একবার বলে উঠে
ঈশ্বর_আপনি সব পেরেছেন
শুধু পারেননি করতে সুখের সুষমবণ্টন

সেদিন! অধীশ্বর হয়ে মানুষের সামনে
আপনি কীভাবে দাঁড়াবেন?

উম্মোচন

কাচের ভেতর থেকে আত্মপরিচয়হীন একবৃদ্ধ রক্তিম মদে
খোদায় করে লিখছিল- অন্ধছায়ার ফুটফুটে বয়স! হালকা হাওয়ার
ঘন সন্ধ্যার চাঁদে চুন ও খয়েরে
মুখ লাল করে কীভাবে নির্বোধ দাঁড়িয়ে ছিল দেবতা-১১ বার জন্মের দিকে ১১ বার মৃত্যুর দিকে…

বৃদ্ধটি তার লুকানো হাতের তালুতে ক্রস কেটে
রোদের বায়োস্কোপে স্পষ্ট দেখালেন তারার ঔরষে জন্ম নেয়া
কাচের ভাঙন, মুখোশের উদ্ভিদ সেতু পার হয়ে
অন্ধকারে তরবারি চালানোর কৌশল কীভাবে শিখেছিল; কীভাবে
ছড়িয়েছিল সবকটি আঙুলের চুরি হওয়া অক্সিজেন…

এইবার বৃদ্ধটি ডাক দিল জীবন- সাথে সাথে রক্তিম মদের বোতল ভেঙে গেল
ভেতর থেকে বের হলো অসংখ্য তরতাজা প্রশ্ন!

মানে ঘাতক ও গন্তবে্যর রেখা… তার নিচে লিখা
ঐ দেখ জীবন চলেছে একা…

ঘাসগ্রাম

মৃত্যুকে দুহাতে সরিয়ে সরিয়ে এই দীর্ঘ পথ হেঁটে
তোমার কাছে এসেছি প্রিয়তমা_ এই নাও
আমার সমস্ত জীবন

এখান থেকেই শুরু হবে পৃথিবীর
যেখানে ফুসফুসভর্তি প্রেম মাধুরীতে
সমুদ্রের পর সমুদ্রে
জলকেলির শরীর জোছনায়
একে অন্যকে জড়িয়ে থাকবো
বিছিয়ে পড়বো ভালোবাসায়
আর গোপন প্রেমিক প্রেমিকা বিশ্রাম নিতে
জড়ো হবে
আমাদের অদৃশ্য বিশালতায়

তখন তুমি আমি
বুকের একলক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার ভাঁজ খুলে
প্রেমের নামে দরুদ পড়তে পড়তে
ভোরের রোদে ফুটে উঠবো

পৃথিবীর কোথাও তখন আর কোন জায়গা নেই
এই ঘাসগ্রাম প্রেম ছাড়া
এইবার বলো- কোথায় পা ফেলবে তোমরা?

স্তব্ধতা

একটি কবর উপুড় হয়ে পড়ে আছে
ভেতরে কথারসমুদ্র, স্মৃতি ধ্যানমগ্ন
আযানের সুর মিশে যাচ্ছে তূর পাহাড়ে- ঘুঘু ফেরা সন্ধ্যায়
একটি হাতও কাছাকাছি নেই- শীতের শরীর
আলগোছে নিভৃত রজনীর ঘ্রাণ

দূরে- নাড়াপোড়া ধোয়া উড়ছে
বুকভেদে দাঁড়ানো গাছের চিরলপাতা ঝিরঝির বাতাসে নড়ছে

একটি আত্মা উপুড় হয়ে পড়ে আছে
পৃথিবীর সবটুকুমাটি হৃদয়ে পোষে
আবাদ করছে কোটি কোটি বছরের নিস্তব্ধতা

মৌলবি সাহেব

মৌলবি সাহেব
অদৃশ্য এই বিশ্বাসের মূলে বিস্ময়ের চাবি হাতে
দাঁড়িয়ে যে জন
তার কাছে নিয়ে চলুন
সময়ের এই ঘৃণ্য ঘুণপোকায় খেয়ে যাওয়া
ধর্মচূর্ণগুঁড়া বাতাসে মিশে
শ্বাসকষ্টে বাড়ছে জঞ্জাল
গোঁড়ামি ও বিভেদে
আমাদের হিংসাপান মোনাজাত
দজলাভরাট রক্তের কথা নিয়ে আল্লাহর চোখের
জাররানাম জাগায় না আলিঙ্গনে

তাই আমি আর মোনাজাত করব না- মানুষ হব
প্লিজ একটা মন্ত্র পড়ুন- মানুষ রঙের

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com