কবিরুল ইসলাম কঙ্ক-এর একগুচ্ছ কবিতা

৩৪৩ বার পঠিত

তোমাকে দেখি না

কেমন আছো হে ? বহুদিন তোমাকে দেখি না
তোমাকে দেখি না, জলছবি বহুদিন 
মন কেমনের ঘুঙুরেরা বেজে যায়
উদাসী বাতাস মুছে দেয় ক্লান্তির গ্লানি
শুধু তোমাকে দেখি না টলমল পুকুরের ছায়া । 

তোমাকে দেখি না, আত্মভোলা মেঘ
নির্জন দুপুরের মাটির দাওয়ার চৌকাঠে
তোমাকে দেখি না, চৈত্রের খরতাপ
ধূ-ধূময়তায়
নিকানো হৃদয়ে শুধু যতিচিহ্নের আল্পনা
ফেলে আসা আসা দিনে দেয় পানকৌড়ি ডুব ।

তানপুরা

ভালোবাসা ও তানপুরা — যৌথ উদ্যোগ
হৃদয় খুঁড়ে বসিয়েছিল স্রোতস্বী নদী, 
তার বিপরীতে ছিল বেখাপ্পা সংসার
সংগীত সুর কোনোদিন খোঁজেনি মানিক
বস্তুত উহ্য থেকে গেছে মনোহর কাহানিয়া ।

ফসলি জমি জুড়ে আকালের কান্না-ছাপ
সুরের কৃষককে করে তোলে ভুখ নাগরিক,
অভাবী গৃহকোণে ভাত ফোটার শব্দধ্বনি
খেয়ে ফেলে ভেতরের যাবতীয় সৃষ্টিসুখ
মুখ বুজে পড়ে থাকে নীরব তানপুরা ।

মাটিভাগ

মাটি তো মাটিই থাকে, মাটির আবার ভাগ
এক উপাদানে মিশে হৃদয়ের কথোপকথন
তাকে আলাদা করার কোদাল, থাক সরে থাক ।

মাটির বুকে যেসব সন্তানদের হামাগুড়ি
তারা আজ বেহদ বড় হয়ে গেছে, এখন
মাটি নিয়ে দড়ি টানাটানি, রাখ দূরে রাখ ।

বুকের ভেতর ভালোবাসার ফল্গু  নদী
ভিজিয়ে দেয় আবহমানকালের মন
ভাগাভাগির খেলা ফেলে, মাখ রে মাটি মাখ । 

মা মাটি, মাটি মা । মায়ের আবার ভাগ ?

চাঁদছায়া

পাহাড়ি ঝরনার পর যে উৎরাই বন
তার নিঝুম পেটের ভেতর ঘুঘু-চারণ ভূমি
বনের প্রাগৈতিহাসিক শ্যাওলার স্নেহে
বাঁধা আছে আটপৌরে গৃহস্থলির কথা ।

না স্বপ্নের চাঁদছায়াতে মিশে আশ্বিন ঘ্রাণ
নিমেষে শুষে নেয় হৃদয়ের কার্যকলাপ
এভাবেই কিছু মায়াবী স্বপ্নের কবর
নিরন্তর শুয়ে থাকে শান্ত বনভূমির ভেতর ।

চাঁদ আসে । চাঁদ যায়
আঁধার বনভূমিতে পড়ে থাকে চাঁদছায়া ।

ছায়াময়তায়

সবাই রোদ হতে চায়, হতে চায় বৃষ্টি
কেউ কেউ হতে চায় ছায়া
সেই ছায়া যার কোনো ভূত-ভবিষ্যৎ নেই ।

আঁধারের ঘেরাটোপে ছায়ার কথাকলি
কোনো কোনো সময় হয়ে ওঠে ধ্রুব-নক্ষত্র
পড়ে থাকে পৃথিবীর সমস্ত আবর্জনা ।

এভাবেই তরুণ ছায়ার আত্মকথন
উঠে আসে প্রাগৈতিহাসিক ফসিল স্তর থেকে
ক্রমশ জ্বলে ওঠে ফসফরাস দানার মতো ।

পৃথিবীর সব কাজ শেষ হলেও
সোজা হয়ে থাকে আপন মেরুদন্ডের শিরদাঁড়া ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com