অনুগল্প

অনুগল্প – রাহুগ্রাস

২২০ বার পঠিত

মোঃ সফিকুল ইসলাম

অমাবস্যার বিভৎস অন্ধকারে পৃথিবী যেন মৌন শোক পালন করছে।গাছের আড়ালে জোনাকি পোকাদের বিচরণ হালকা মেঘের বুক চেরা অনুজ্জ্বল নক্ষত্র পুঞ্জের মত দেখায়।তনু মনে মৃদু শিহরণ জাগানো দক্ষিণা সমীরণের প্রভাবে কেঁপে উঠে কচি পত্র-পল্লব।মনে হয় ধরণীর বুকে সৃষ্টিকুলের মাঝে আমার মত একজন নির্বোধ ব্যতিত এই নির্জন অন্ধকারে জানালার গ্রীল ধরে অযথা নিদ্রা হতে নির্বাসিত নয়। আমি অপলক নেত্রে তাকিয়ে আছি অদৃশ্য দিগন্ত রেখার দিকে। যে আমার মাঝে জন্ম দেয় নিবিড় শুন্যতার অসান্ত স্রোত। সে স্রোতে ভাসে যুগল জীবনের স্বপ্ন ভাঙ্গার ভেলা। কষ্টদাহে প্রতিনিয়ত হৃদয়ের সবুজ বৃক্ষময়দ্বীপ লোক চক্ষুর অন্তরালে নীরবে দ্বগ্ধ হয় ধূপ কাঠির মত।

হঠাৎ এক হৃদয় বিদারী আর্তচিৎকারে ধ্যানমগ্ন পৃথিবী যেন কেঁপে উঠে। সে চিৎকার ধ্বনিত হতে থাকে আকাশে বাতাশে।হৃদয় বিদারী কান্নায় শামিল হয় পশু-পাখি। জোনাকিরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পালাতে থাকে এদিক-সেদিক।আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি আওয়াজটা কোন দিক থেকে এসেছে।একটু স্থির হলেই বুঝতে পারি যে,কান্নার আওয়াজ আমাদের পাশের বাড়ি সুমিদের বাড়ি থেকে এসেছে। আমি একরকম দৌড়েই সুমিদের বাড়ি গিয়ে পৌছি।ঘরে ঢুকে দেখি এরই মধ্যে আসে পাশের বাড়ির মানুষ এসে ভীড় জমিয়েছে।আমি ভীড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে দেখি বিছানায় এক নারীমূর্তি সদ্য জল থেকে তোলা ডাঙ্গার মাছের মতো অসয্য যন্ত্রনায় ছটফট করছে।যে সুমির লাবণ্যময় রূপ সদ্য যৌবনের প্লাবনে সিক্ত, যৌবন গলে গলে পড়তে চায় হাটার ছন্দে, যাকে দেখলেই সবাই তৃষ্ণার্ত কাকের মত চেয়ে থাকে। যেন চোখ দিয়ে গিলে খায় তার দেহ,আজ সে সুমিকে চেনা যাচ্ছেনা।ঝলসানো মুখমন্ডল এতোই বিভৎস দেখাচ্ছে যে,কারো দৃষ্টি নিক্ষেপ হলেই শিউড়ে উঠবে।তবুও সবার চোখে করুনার জল বেয়ে যায়।

মুখে মুখে একই করুন রব,কোন পিশাচেরা পরীর মত এই সুন্দর মেয়েটির এমন সর্বনাশ করতে পারলো।পরে জানতে পারি গ্রামেরই মাতব্বরের ছেলে ও তার সাঙ্গ–পাঙ্গরা রাতের অন্ধকারে খোলা জানালা দিয়ে মুখের উপর এসিড ছুড়ে মেরেছে।মাতব্বরের ছেলে সুমিকে ভালবসত কিন্তু সেই ভালোবাসায় সায় দেয়নি সুমি।তাই কলেজে আসা–যাওয়ার পথে জ্বালাতন করে এবং নির্লজ্জ ভাষায় কথা বলে।একদিন সুমি কলেজ থেকে ফেরার পথে মাতব্বরের ছেলে প্রথমে সুমির পথ রোধ করে,তারপর সুমির হাত মুঠোবন্দি করে।কিংকর্তব্য বিমূঢ় সুমি ভেবে না পেয়ে রেগে তার গালে সজোরে চর বসিয়ে দেয়।আর সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে সুমিকে।

থানায় মামলা করেও কোন ফল পায়নি সুমির বাবা।মাতব্বরের শিকড় এতই বিস্তৃত যে, কেঊ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। তাদের মত মুষ্ঠিমেয় কিছু লোকের হাতে আজ গোটা সমাজ বন্দি।কিছুদিন পর অসহায় সুমি তার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রাতের অন্ধকারে মৃত্যুর কাছে জীবনের চিরন্তন প্রতিবাদ ঘোষণা করে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ কামরুজ্জামান বাবু, কুমিল্লা #

A responsible and committed journalist who displays an ability to write balanced, informative and interesting stories that give all involved parties an opportunity to have their say. A quick learner who can absorb new ideas and can communicate clearly and effectively. Possessing excellent bonding skills and an enquiring mind that helps to win over the confidence of people. Multi skilled with a ability to build strong working relationships with fellow investigators, photographers, columnists and news editors. Currently looking for a suitable role in journalism with a reputable and exciting publisher.

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com