মেসি-সুয়ারেস-নেইমারে ৬-০ তে বিধ্বস্ত আলাভেস

৭৩ বার পঠিত

লিওনেল মেসি, লুই সুয়ারেস, নেইমার জ্বলে উঠলেন একসঙ্গে। তাতে যা হওয়ার তা-ই হলো, গোলের বন্যায় ভাসল দেপোর্তিভো আলাভেস। ঘরের মাঠেই তারা ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনার বিপক্ষে। সুয়ারেস লক্ষ্যভেদ করেছেন দুইবার, সঙ্গে মেসি ও নেইমার জাল খুঁজে পেয়েছেন একবার করে।

গোলবন্যার ম্যাচে বার্সেলোনার স্কোরশিটে নাম তুলেছেন ইভান রাকিটিচ। বাদ যায়নি আলাভেসের খেলোয়াড়ও! তবে বার্সেলোনার জালে নয়, আলাভেস ডিফেন্ডার আলেক্সিস বল জড়িয়েছেন নিজেদের জালেই। ৬-০ গোলের বিশাল এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বসেছে বার্সেলোনা। ২২ ম্যাচ শেষে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে খেলেছে তিন ম্যাচ বেশি। মাদ্রিদের ক্লাবটির পয়েন্ট ১৯ ম্যাচে ৪৬, যারা শনিবার রাতে মাঠে নামবে ওসাসুনার বিপক্ষে।

এই আলাভেস নিয়ে অনেক আলোচনা চলেছে গত কয়েকদিন ধরে। কোপা দেল রে’তে অসাধারণ পারফরম করে নিশ্চিত করেছে ফাইনাল। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আবার এই বার্সেলোনা। তাই লা লিগায় যখন মুখোমুখি হচ্ছে, তখন কাপ ফাইনালের বিষয়টি সামনে আসাটাই তো স্বাভাবিক। তাছাড়া আরও একটি কারণে আলাভেসকে নিয়ে হচ্ছিল আলোচনা। চলতি মৌসুমে লা লিগায় সুযোগ পেয়ে শুরুতেই তারা চমকে দিয়েছিল বার্সেলোনাকে হারিয়ে। তাও আবার কিনা কাতালানাদের হারিয়ে এসেছিল তারা ন্যু ক্যাম্পে! ঘরের মাঠে সেই বার্সেলোনাকে আতিথ্য দেওয়ার আগে একদিক থেকে তাদের দিকেই পাল্লা ছিল ভারী। কিন্তু বার্সেলোনাও যে প্রতিশোধের মশাল হাতে ছিল তৈরি। যে মশালের আলোতে বার্সেলোনাকে আলোকিত করে প্রতিপক্ষের ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠলেন মেসি-সুয়ারেস-নেইমার।

শুরু থেকেই আক্রমণ চালিয়েছে বার্সা স্বাগতিকদের রক্ষণে। গোল পেতে অবশ্য অপেক্ষা করত হয়েছে ৩৭ মিনিট পর্যন্ত। যখন আলেক্স ভিদালের ক্রস বক্সের ভেতর থেকে জালে জড়িয়ে দেন সুয়ারেস। সেই শুরু, এর পর কেবল গোলের হিসাব কষেছে বার্সেলোনা। মিনিট তিনেক পরই স্কোরেশিটে নাম তোলেন নেইমার। আলাভেসের পোস্টের শেষ সীমানা থেকে বল সুয়ারেসের মুখে লেগে আসে ফিরে, ছোট বক্সের সামনে থাকা নেইমারের কেবল ফিরতি বলটা আলতো টোকায় জড়িয়ে দিতে যা একটু কষ্ট হয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধে সফরকারীদের ওপর আরও চড়াও হয় স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। ৮ মিনিটের ছোট্ট এক ঝড়ে খেলায় ফেরার সব সম্ভাবনা শেষ করে দেয় তারা আলাভেসের। ৫৯ থেকে ৬৭-এই ৮ মিনিটে বার্সেলোনা স্বাগতিকদের জালে বল জড়ায় চারবার। শুরুটা করেন মেসি। ৫৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ প্রান্ত থেকে আড়াআড়ি শটে আর্জেন্টাইন ‍খুদে জাদুকর বল জড়ান আলাভেস গোলরক্ষকের দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে। ৬৩ মিনিটে আবার গোল। এবার মেসিকে আটকাতে গিয়ে আলেক্সিস নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন বল। মিনিট দুয়েক আর বার্সেলোনার আরেকবার গোলোৎসব, ডানপ্রান্ত থেকে রাকিটিচের বুলেট গতির শট ঠেকানোর কেউই ছিল না গোললাইনে। এর দুই মিনিট পর দ্বিতীয়বার জাল খুঁজে পান সুয়ারেস।

পরে কোনও গোল না হলেও তৃপ্তির এক ম্যাচ নিয়েই বার্সেলোনার ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কোচ লুই এনরিকে। যদিও ফুটবল দেবতা চাইলেন না। শেষ বাঁশি বাজার মিনিট পাঁচেক আগে ভিদালের চোট চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে এনরিকের কপালে। আলাভেসের এক খেলোয়াড়ের ট্যাকলে মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েছেন ভিদাল, যাতে ধারণা করা হচ্ছে এই মৌসুমে আর ফিরতে পারবেন না তিনি মাঠে।

<

p style=”text-align: right;”>—গোল ডটকম

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com