ব্যাটিং ধসের দিনে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বোলাররা

২৬ বার পঠিত

টেস্টে তামিম-মুমিনের ওয়ানডে স্টাইলে খেলার মধ্য দিয়ে বড় রানের জুটি করেন তারা। এতে দলীয় রানের জুটির ফিগারও ছিলো। ১ উইকেটে ১৭১। এর মধ্যে তামিম নিজের থলেয় নিয়ে নেন টেস্টে অস্টম সেঞ্চুরি ও মুমিন সংগ্রহ করেন হাফ সেঞ্চুরি। কিন্তু এ জুটির বিচ্ছেদেই টাইগাররা পড়ে যায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে। এর পর থেকেই ব্যাটিংদের আসা যাওয়া মিছিলের মধ্য দিয়ে সব উইকেট হারিয়ে ২২০ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা।

লাঞ্চের আগে প্রথমবার যখন রিভিউ নিলেন, তাতে দুঃখ প্রকাশ করে নিজের সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিতে হলো মাঠ আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনাকে। এরপর দুরন্তবেগে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পরপরই যখন আবারো রিভিউয়ের শরণাপন্ন হলেন, রক্ষা হলো না! অফস্ট্যাম্পের বল ব্যাট-আপ করার ভঙ্গী ছাড়াই প্যাড এগিয়ে দিয়ে সাজঘরের পথ খুঁজে নিলেন তামিম ইকবাল। টাইগার উদ্বোধনীর এই অলস ভঙ্গীর ফেরার ঘটনাটুকু যেনো মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে ‘বিপর্যয়’ রূপে সংক্রমিত হলো। যার প্রভাবে টাইগার ব্যাটসম্যানরা এলেন আর উইকেটে ছুঁড়ে দিয়ে সাজঘরে ফিরলেন! একসময় ১ উইকেটে ১৭১ রান থেকে পরের ৪৯ রানেই ৯ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য শেষ বিকেলে ইংল্যান্ডের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ব্যাটিংয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শুরু করেছে স্বাগতিকরা।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৩.৫ ওভারে ২২০ রান তুলে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও মুমিনুল হকের ফিফটিতে এই রান তুলেছে স্বাগতিকরা। আর তামিম-সাকিবদের হন্তারক হয়ে সবচেয়ে সফল মঈন আলি। ৫৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

পরে বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে লড়াইয়ে টিকে থাকার আভাস দিয়েছেন স্বাগতিক বোলাররা। বৃষ্টির কারণে আগেভাগেই খেলা থেমে হওয়ার পথে ১২.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৫০ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে সফরকারী ইংল্যান্ড। জো রুট ১৫ ও মঈন আলি ২ রানে দ্বিতীয় দিনের লড়াই শুরু করবেন।

বেন ডাকেটকে (৭) মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংসের প্রথম ধাক্কাটি দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। পরে ১৪ রান করা অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুককে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। অভিষেকের প্রথম ইনিংসেই ৬ উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দেওয়া এই স্পিনার তুলে নিয়েছেন ইংলিশদের তৃতীয় উইকেটটিও। গ্যারি ব্যালান্সকে (৯) মুশফিকের ক্যাচ বানিয়েছেন তিনি।

অথচ সকালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারেই ইমরুল কায়েসকে (১) হারালেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তামিম-ইমরুলের ব্যাটে টাইগার ক্রিকেটের সোনাঝরা সময়ের গল্পের দেখাই মিলছিল। পরে তামিমের সাজঘরে ফেরার মধ্য দিয়েই ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু হয়। নিজের খেলা ২০তম বলে প্রথম রান নেওয়া তামিম দ্রুতই হাত খুলে ব্যাট চালাতে শুরু করলে রানের চাকাও দ্রুত ঘুরতে শুরু করে বাংলাদেশের। লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৮ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা। তামিম ফিফটি তুলে নেন ৬০ বলে।

বিরতির পর ফিরেও সহজাত খেলাটাই খেলতে থাকেন তামিম। মঈন আলির করা ৪০তম ওভারের চতুর্থ বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলেই অবশ্য সাজঘরে ফিরেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ টেস্টে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। ফেরার আগে মুমিনুল হকের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটি গড়েছেন। নিজের ১০৪ রানের ইনিংসটি ১২ চারে ১৪৭ বলে সাজিয়েছেন তিনি।

তামিম-মুমিনুল টেস্টে মাত্র ১৩তম ইনিংসে এই নিয়ে চতুর্থবার শতরানের জুটি গড়লেন। পরে মুমিনুলও অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেননি। মঈনের বলে বোল্ড হয়ে ৬৬ রানে সম্ভাবনাময় ইনিংসটির সমাপ্তি টেনেছেন তিনি। মুমিনুলকে দ্রুতই অনুসরণ করেছেন ১৩ রান করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। স্টোকসের বলে স্লিপে কুককে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও এদিন ক্রিজে বেশি সময় কাটাতে পারেননি। স্টোকসের করা ৫৩তম ওভারের পঞ্চম বলে মাথায় আঘাত পেয়ে উইকেটে লুটিয়ে পড়েছিলেন, কিছুক্ষণ পরিচর্যা নিয়ে অবশ্য ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পরের ওভারেই মঈন আলির বলে লেগসাইডে কুকের দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন টাইগারদের সাদা পোশাকের দলনেতা। ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্টে খেলতে নেমে নামের পাশে যোগ করতে পেরেছেন মাত্র ৪ রান।

পরে রানের খাতা খোলার আগেই সাব্বির রহমান সাজঘরে ফিরলে বড় ধরনের চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। সাব্বির তখন স্টোকসের শিকারে পরিণত হন। চা রিবতির পরও নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শুভাগত হোম (৬), মেহেদি হাসান মিরাজ (১) ও সাকিব আল হাসান ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন। সাকিব ফেরার পর পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বিকে আউট করে টাইগার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মঈন। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো মঈনের পাঁচ উইকেটের দিনে ক্রিস ওকস ৩টি ও বেন স্টোকস ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

দিনের শেষে মেতে থাকা যেতো কেবল তামিম-মুমিনুলের ১৭০ রানের অসাধারণ জুটির গল্প নিয়েই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটেই যেটি লাল-সবুজদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জুটি। সব মিলিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে ১১তম বৃহত্তম জুটি। আবার দ্বিতীয় উইকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ। কিন্তু আপাতত এসব কেবলই পরিসংখ্যানের পাতায় তোলা থাকছে। শেষ বিকেলে বোলারদের দেখানো স্বপ্নটা দ্বিতীয় দিনেও যদি কার্যকর না থাকে, জুটির এসব পরিসংখ্যান যে কেবল আক্ষেপের পাশেই লেখা হয়ে থাকবে। টাইগার বোলারদের তাই কঠিন পরীক্ষাতেই নামতে হবে বৃষ্টিস্নাত আরেকটি রাতের পর!

সংক্ষিপ্ত স্কোর- (প্রথম দিন শেষে)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৬৩.৫ ওভারে ২২০/১০ (তামিম ১০৪, মুমিনুল ৬৬, মাহমুদউল্লাহ ১৩, সাকিব ১০, মুশফিক ৪; মঈন ৫/৫৭, ওকস ৩/৩০, স্টোকস ২/১৩)
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ১২.৩ ওভারে ৫০/৩ (কুক ১৪, রুট ১৫*, মঈন ২*; সাকিব ১/২১, মিরাজ ২/২৬)

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com