দুর্বল ফিল্ডিং-এ হেরে গেলো বাংলাদেশ

২৫ বার পঠিত

ঘরের মাঠ, চেনা দর্শক। সাগরিকার পাড়ে আরেকটা উৎসবের মঞ্চ প্রস্তুতই ছিল। প্রস্তুত ছিলেন কুশীলবরাও। সঙ্গে ভিলেন হয়ে ওঠার আভাস ছিল বৃষ্টির। শেষপর্যন্ত অবশ্য ভিলেন ছাড়াই নাটক মঞ্চস্থ হলো। তাতে কেবল নায়ক হয়ে ওঠা হলো না বাংলাদেশ দলের। বীর চট্টলায় লেখা হলো না আরেকটি ইংলিশ বধের মহাকাব্য। বুধবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের কৃত্রিম আলোকে বিবর্ণ করে দিয়ে পারফরমেন্সের আলো জ্বালিয়ে দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড দল। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৪ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয়ের সঙ্গে সিরিজটাও ২-১ ব্যবধানে পকেটে পুরেছে সফরকারীরা।

২৭৭ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ দাঁড় করিয়েও জিততে পারলো না বাংলাদেশ। বরং, ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিলো ইংল্যান্ড। ঘরের মাটিতে টানা ৬টি সিরিজ জয়ের পর সপ্তম সিরিজে এসে হারলো মাশরাফি অ্যান্ড কোং। জয়ের জন্য ২৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৭.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। শেষ দিকে এসে মাশরাফি বাংলাদেশকে খেলায় ফেরালেও তাসকিনের বলে স্লিপে দাঁড়িয়ে ইমরুল কায়েস ক্রিস ওকসের ক্যাচটি ফেলে দিলেই পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।

ইমরুল যেন ক্যাচ ফেলেননি, পুরো ম্যাচটাই ফেলে দিয়েছিলেন। যদিও ওই সময় অনেকটাই জয়ের মুখে দাঁড়িয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে ক্যাচটি ধরতে পারলে কিছুটা হলেও চেপে ধরা যেতো ইংল্যান্ডকে। ওই সময় ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২১ বলে ২১ রান। এরপরই স্টোকস ছক্কা-চার মেরে ইংল্যান্ডকে ১৩ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

জয়ের জন্য ২৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পুরোটা সময়ই ইংলিশদের আধিপত্য ছিল। তবুও শেষ দিকে বাটলার আর মঈন আলিকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন মাশরাফি। তার আগে নাসির, মোসাদ্দেক আর শফিউল মিলে কয়েকটি ধাক্কা দিতে পেরেছিলেন ইংল্যান্ডকে। তবে সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট ছিল না।

নাসির আর মোসাদ্দেকের হাতে ইংল্যান্ডের দুই উইকেটের পতন ঘটলেও দেখা গেছে অন্য প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে ক্রমেই পেছনে ঠেলে দিচ্ছিলেন বেন ডাকেট। অবশেষে তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান শফিউল ইসলাম। ৩৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে স্কুপ খেলতে গিয়েছিলেন ডাকেট। কিন্তু ব্যাটে বলে হয়নি ঠিকমতো। ব্যাটের কানায় লেগে বল বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ক্যাচটি তালুবন্দি করলেন মুশফিকুর রহিম। ৬৮ বলে ৬৩ রান করে আউট হন ডাকেট। এর আগেও জনি বেয়ারেস্টকে বোল্ড করেন শফিউল।

এরপর জস বাটলার আর বেন স্টোকসের ব্যাটে সহজেই জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। দু`জনের ৪৮ রানের জুটি বাংলাদেশকে অনেকটাই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল। এ সময় টাইগারদের ম্যাচে ফেরান মাশরাফি। দুর্দান্ত বোলিং করলেন তিনি। বোল্ড করে ফেরালেন জস বাটলারকে। ২৫ রানে আউট হন বাটলার। মঈন আলিকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন মাহমুদউল্লাহর হাতে।

পরের সময়টা শুধুই বেন স্টোকস আর ক্রিস ওকসের। ৪২ রানের জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে সহজ জয় এনে দেন তারা দুজন। ৪৭ রানে স্টোকস আর ১৮ বলে ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন ক্রিস ওকস। এর আগে জয়ের জন্য ২৭৮ রান তাড়া করতে নেমে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জেমস ভিন্স আর স্যাম বিলিংস শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্ত। তাদের দু’জনের ব্যাটিংই বুঝিয়ে দিয়েছিল খুব সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে ইংল্যান্ড।

ইংলিশদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার জন্য পাঁচজন বোলার ব্যবহার করেন মাশরাফি। তিনি নিজে তো ছিলেনই। শফিউল, তাসকিন, এবং সাকিব আল হাসানকে দিয়ে যখন ব্রেক থ্রুটা আসছিল না, অবশেষে নাসিরকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন টিম বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন। বোলিংয়ে এসেই ব্রেক থ্রু এনে দিলেন নাসির হোসেন। ১২তম ওভারের নিজের ৪র্থ বলে নাসিরের গুড লেন্থের বলটি সোজা গিয়ে আঘাত হানে জেমস ভিন্সের প্যাডে। জোরালো আবেদনে অবশেষে সাড়া দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান আম্পায়ার মরিস ইরাসমাস। ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান রিভিউ নেয়ার জন্য আলাপ করেছিলেন। তাতে আউটের সিদ্ধান্ত মেনেই মাঠ ছাড়েন জেমস ভিন্স।

আউট হওয়ার আগে ৩৭ বলে খেলেছিলেন ৩২ রানের একটি ইনিংস। ৫টি বাউন্ডারি মেরেছিলেন তিনি। ভিন্স আউট হওয়ার পর স্যাম বিলিংসের সঙ্গে জুটি বাধেন বেন ডাকেট। এ দু’জন মিলে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর দারুণ চাপ তৈরি করেন। ৬৪ রানের জুটি গড়াই নয় শুধু, দ্রুত গতিতে রান তোলার দিকেও বেশ মনযোগী হয়ে পড়েন তারা দু’জন।

এরই মধ্যে ক্যারিয়ারে প্রথম হাফ সেঞ্চুরিটা তুলে ফেলেন স্যাম বিলিংস। ৫০ বলে ৫০ রান করার পর অবশেষে ৬২ রানের মাথায় মোসাদ্দেক হোসেনের বলে কুপোকাত হলেন তিনি। মোসাদ্দেকের বলে সুইপ করতে গেলেন বিলিংস। ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে গেলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ ধরেন ইমরুল কায়েস। দারুণ এক ব্রেক থ্রু এনে দিলেন মোসাদ্দেক সৈকত।

বেন ডাকেট আর স্যাম বিলিংস যেমন জুটি গড়েছিলেন, ঠিক একই রকম আরেকটি জুটি গড়ার চেষ্টা শুরু করে দেন বেন ডাকেট আর জনি ব্যারেস্ট। বাংলাদেশের বোলারদের কোনো বলকেই তারা আর কঠিন মনে করছিলেন না। ৪৫ রানের জুটি গড়ার পর অবশেষে ইংলিশদের ওপর আবারও আঘাত হাতে পারলো বাংলাদেশ। শফিউল ইসলামের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেন জনি বেয়ারেস্ট। ১৮ বলে ১৫ রান করেছিলেন বেয়ারেস্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস : ইংল্যান্ড (ফিল্ডিং)
বাংলাদেশ : ২৭৭/৬, ৫০ ওভার (মুশফিক ৬৭*, সাব্বির রহমান ৪৯, ইমরুল কায়েস ৪৬, তামিম ইকবাল ৪৫, মোসাদ্দেক হোসেন ৩৮, মাহমুদউল্লাহ ৬; আদিল রশিদ ৪/৪৩, মঈন আলি ১/৪২, বেন স্টোকস ১/২৪)।
ইংল্যান্ড : ২৭৮/৬, ৪৭.৫ ওভার (স্যাম বিলিংস ৬২, বেন ডাকেট ৬৩, বেন স্টোকস ৪৭*, জেমস ভিন্স ৩২, ক্রিস ওকস ২৭*, বাটলার ২৫, বেয়ারেস্ট ১৫; মাশরাফি ২/৫১, শফিউল ২/৬১)।
ফল : ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : আদিল রশিদ, সিরিজ সেরা : বেন স্টোকস।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com