বাংলাদেশের শততম ওয়ানডে ও সিরিজ জয়

এই সংবাদ ৩০ বার পঠিত

আফগানিস্তানকে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১৪১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ও শততম ওয়ানডে জিতেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দেয়া ২৮০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৩৮ রানে অল আউট হয়েছে আফগানিস্তান। ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে মাশরাফির দল।
 
২৮০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানদের। দলীয় ৫ রানেই আফগান শিবিরে আঘাত হানেন অধিনায়ক মাশরাফি। খেলার তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মদ শাহজাদকে ০ রানে বোল্ড করে ফেরান ম্যাশ। এই উইকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির খাতায় নাম লেখান নড়াইল এক্সপ্রেস। বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ম্যাশ। ১৬২ ম্যাচে মাশরাফির উইকেট সংখ্যা এখন রাজ্জাকের সমান ২০৭। রাজ্জাক এই উইকেট পেতে খেলেছেন ১৫৩ ওয়ানডে।
 
আফগানদের ইনিংসের ৫২ রানের মাথায় নিজের তৃতীয় ও ইনিংসের ১৪তম ওভারের তৃতীয় ও ষষ্ঠ বলে নওরাজ মঙ্গল ও হাসমতউল্লাহ শহীদিকে ফিরিয়েছেন ৮ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মোশাররফ হোসেন রুবেল। তাসকিনের করা খেলার ১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে সাকিবের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে ফেরেন অধিনায়ক আসগর স্তানিকজাই।  তাসকিন আহমেদের করা খেলার ২৩তম ওভারের পঞ্চম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি। খেলার ২৫তম ও নিজের পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে রহমত শাহকে ফিরিয়েছেন তাসকিন।
 
মোহাম্মদ নবীকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেছেন মোশাররফ হোসেন রুবেল। এতে ৮৯ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানিস্তান।
এর পর রশীদ খান ও নাজিবুল্লাহ জাদরান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু পরাজয় এড়াতে পারেননি। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের করা খেলার ৩৩তম ওভারের প্রথম বলে রশীদ খানকে রান আউট করে ফেরান মাহমু্দউল্লাহ রিয়াদ। পরের বলেই নাজিবুল্লাহ জাদরানকে সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান সৈকত।
 
খেলার ৩৪তম ওভারে দৌলত জাদরানকে কট এন্ড বোল্ড করে ফেরান শফিউল ইসলাম। এর সঙ্গেই আফগানিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। বাংলাদেশের পক্ষে মোশাররফ হোসেন রুবেল সর্বোচ্চ ৩টি, তাসকিন আহমেদ ২টি ও মাশরাফি, শফিউল ও মোসাদ্দেক ১টি করে উইকেট লাভ করেন।  এরআগে শততম ওয়ানডে জয়ের লক্ষে মাঠা নামা বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়েছে ২৭৯ রান সংগ্রহ করে।
 
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা এদিনও ভালো হয়নি। দলীয় ২৩ রানের মাথায় খেলার ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে মিরওয়াইস আশরাফের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। আউট হওয়ার আগে ১১ বলে ১১ রান করেন তিনি। তবে প্রথমবারের মতো তিন নম্বরে খেলতে নেমে তামিম ইকবালের সঙ্গে ১৪০ রানের জুটি গড়েন সাব্বির রহমান। মোহাম্মদ নবীর করা খেলার ২৭তম ওভারের পঞ্চম বলে চার মেরে অর্ধশতক পূর্ণ করা সাব্বির দলীয় ১৬৩ রানে আউট হওয়ার আগে করেন ৬৫ রান। ৭৯ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে এই রান করেন তিনি। tamim-iqbalদলীয় ২১২ রানের মাথায় তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তামিম ইকবাল। আউট হওয়ার আগে ১১৮ বলে ১১৮ রান করেন তিনি। ২ ছয় ও ১১ চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। তামিম আউট হওয়ার পর ১১ বলের ব্যবধানে ফিরে যান সাবিক আল হাসান (১৭), মুশফিকুর রহিম (১২) ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৪। খেলার ৪৩ ওভারের প্রথম বলে দৌলত জাদরানের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাকিব। তার পরের ওভার অর্থাৎ ৪৪তম ওভারের রশীদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মুশফিক। একই ওভারের পঞ্চম বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন মোসাদ্দেক। ফলে ৩ উইকেটে ২১২ রান থেকে ৬ উইকেটে ২৩৫ রান করে বাংলাদেশ।
 
এর পর ৮ বছর পর সুযোগ পাওয়া মোশররফ হোসেন রুবেলও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ১৪ বলে ৪ রান করেছেন তিনি। অধিনায়ক মাশরাফিও ২ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদে ২২ বলে ৩৫ রানের সুবাদে ২৭৯ রান করে বাংলাদেশ। এ ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। পেসার রুবেল হোসেনের পরিবর্তে শফিউল ইসলাম এবং স্পিনার তাইজুল ইসলামের পরিবর্তে মোশাররফ হোসেন রুবেলকে একাদশে সুযোগ দেয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানের একাদশেও একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। নাবিন-উল-হকের পরিবর্তে দলে নেয়া হয়েছে সামিউল্লাহ সেনওয়ারিকে। প্রসঙ্গত, সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জয় পায় মাত্র ৭ রানে, দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই স্বাগতিক দলকে ২ উইকেটে হারিয়ে দেয় আফগানরা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com