আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

২১ বার পঠিত

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের  ৭ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রানে থামে আফগান ইনিংস।
বড় জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আফগানদের শুরুটা ভালোই হয়েছে যদিও তাসকিনের প্রথম ওভারে মোহাম্মদ শেহজাদের একটি সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন ইমরুল কায়েস। এছাড়া পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে শাবির নুরের আরেকটি ক্যাচ মিস করেন রুবেল হোসেন।

প্রথম ৫ ওভার শেষে বিনা উইকেটে ২০ রান তোলে সফরকারীরা। এরপরই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন মোহাম্মদ শেহজাদ। তাসকিন-মাশরাফিদের ওপর চড়াও হন এই ব্যাটসম্যান। তবে খুব বেশি ক্ষতিকর হবার আগেই শেহজাদকে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২১ বলে ৩১ রান করে শেহজাদ আউট হবার পরের ওভারে সফরকারীদের আরেকটি ধাক্কা দেন সাকিব আল হাসান। শাবির নুরিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। এরপর উইকেটে এসে ইনিংস গড়ায় মনোযোগী হয় আফগান ব্যাটসম্যানরা।

রহমতউল্লাহ ও হাসমতউল্লাহ শাহিদি মিলে শতরানের জুটি গড়ে আফগানদের ধীরে ধীরে জয়ের পথে নিয়ে যেতে থাকেন। শুরুতে দেখেশুনে খেললেও সুযোগ বুঝে হাত খুলেছেন তারা। রুবেলকে ছয় মেরে অর্ধশতকে পৌঁছান রহমত। যখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা প্রায় জিতেই যাচ্ছে আফগানিস্তান ঠিক সেই সময়ই রহমত শাহকে আউট করে ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন সাকিব আল হাসান। সাকিবকে এগিয়ে এসে মারতে গেলে বলের লাইন মিস করেন রহমত। স্টাম্পস ভাঙতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি মুশফিকুর রহিম।

৪৪তম ওভারে আরেক ব্যাটসম্যান ইহসানউল্লাহ শাহিদিকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাইজুল। আউট হবার আগে ১১০ বলে ৭২ রান করেন শাহিদি। পরের ওভারে ১১ রান দিয়ে বাংলাদেশের জয়টা কঠিন করে তোলেন রুবেল উপায় না দেখে বল হাতে নেন মাশরাফি। নিজের শেষ ওভারে নজিবুল্লাহ জাদরানকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে আবারো চাঞ্চল্য ফিরিয়ে অানেন ম্যাশ।

তবে পরের বলেই মাশরাফিকে মিড উইকেটের উপরে দিয়ে বিশাল এক ছয় মেরে নিজেদের সম্ভাবনাটা জিইয়ে রাখেন আফগান অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাই। ৪৮তম ওভারের চতুর্থ বলে মোহাম্মদ নবীকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন তাসকিন। পরের বলেই অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাইকে ফিরিয়ে দিয়ে টাইগারদের নিশ্চিত জয়ের পথে নিয়ে যান ঔই তাসকিন আহমেদই। ৪৯তম ওভারে আট রান দিলেও দুর্দান্ত বল করেছেন রুবেল হোসেন। শেষ ওভারে অাফগানদের জয়ের জন্য দরকার ১৩ রান। প্রথম বলে দুই রান দিলেও দ্বিতীয় বলে মীরওয়াইশ আশরাফকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাসকিন।

পরের চারটি বলে কেবল একটি রানই নিতে পেরেছে আফগানিস্তান। টাইগার বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ চারটি উইকেট নেন। এছাড়া অধিনায়ক মাশরাফি ও সাকিব আল হাসান দুটি করে উইকেট নেন। এর আগে টসে জিতে তামিম ইকবাল ও মাহামুদ উল্লাহ রিয়াদের অর্ধশতকে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে আফগানিস্তানকে ২৬৬ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার সৌম্য সরকারকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে বলে কোনো রান না করেই দলীয় ১ রানে ফিরে যান সৌম্য সরকার।

তবে, ওয়ান ডাউনে নামা ইমরুল কায়েসকে নিয়ে ৮৩ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন তামিম। ইমরুল মোহাম্মদ নবীর করা ইনিংসের ১৯ তম ওভারের প্রথম বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারতে গিয়ে বোল্ড হন। আউট হওয়ার আগে ৩৭ রান করেছেন এই ব্যাটসম্যান। এরপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে রিয়াদের সঙ্গে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তামিম।  খেলার ৩৬তম ওভারের প্রথম বলে আশরাফকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লংঅনে নাবিন-উল-হকের হাতে ধরা পড়েন তামিম। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে করেছেন মূল্যবান ৮০ রান।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে সাকিবের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়েন রিয়াদ। তিনিও উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ নবীর বলে ক্যাচ দিয়ে দলীয় ২০৩ রানে ব্যক্তিগত ৬২ রান করে ফিরে যান রিয়াদ। এরপর সাকিবের সঙ্গে জুটি বাধেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তিনিও ৬ রান করে দলীয় ২১৫ রানে ফিরে যান। সাত নম্বরে নামা সাব্বির রহমানও ২ রানের বেশি করতে পারেননি। দলীয় ২২৭ রানে রাশীদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি।

তবে রানের গতি সচল রেখে যাচ্ছিলেন সাকিব। দলীয় ২৪৬ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে করেন ৪৮ রান। অধিনায়ক মাশরাফিও এদিন নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। দলীয় ২৫৪ রানে নাবিন উল হকের বলে রশীদ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাশরাফি। এর পর তাসকিন ফিরে যান। শেষ বলে তািইজুলও উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন। ততক্ষণে স্কোর বোর্ডে ২৬৫ রান যোগ করে বাংলাদেশ। আফগান বোলারদের হয়ে পেসার দৌলত জাদরান একাই নেন ৪ উইকেট। তাছাড়া মোহাম্মদ নবী ও রশীদ নেন ২টি করে উইকেট।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com