মেসির মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে বার্সার এল ক্লাসিকো জয়

৮০ বার পঠিত

ম্যাচ শেষ হতে কয়েক সেকেন্ড বাকি। বার্সার ডি বক্সের পাশ থেকে বল নিয়ে ছুটলেন সার্জি রবার্তো। তার সামনে পেছনে ছুটছে রিয়ালের খেলোয়াড়রা। কিন্তু কে রুখে তার গতিকে? ডি বক্সের সামনে গিয়ে বল বাড়িয়ে দিলেন জর্ডি আলবাকে। সুযোগ বুঝে আলবা বল বাড়িয়ে দিলেন লিওনেল মেসিকে। মেসির নেওয়া জোরালো শট কেইলর নাভাসকে ফাঁকি দিয়ে জালে আশ্রয় নেয়।

বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন লিওনেল মেসি। জার্সি খুঁলে সটান দাঁড়িয়ে থাকেন বেশ কিছুক্ষণ। এরপর আচার-আনুষ্ঠানিকতা সেরে মাঠে ফিরে আসেন। তার আসার অপেক্ষায় ছিলেন রেফারি। তার হাতে ছিল হলুদ কার্ড। মাঠে আসতেই মেসিকে সেটি দেখালেন রেফারি। মেসির দোষ? দোষ কিছুই নয়, অতিরিক্ত উদযাপন। এটি রেফারির কাছে নিয়ম বহির্ভূত হতে পারে। কিন্তু মেসির জন্য? মোটেও নয়।

২০১৪ সাল থেকে এল ক্লাসিকোতে গোল পাচ্ছিলেন না মেসি। সেই মেসিই দলের মুমূর্ষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে দলকে জেতালেন মর্যাদার এল ক্লাসিকো। তাও আবার রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে! জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি ৫০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়ালকে পেছনে ফেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠিয়ে দিয়েছেন বার্সাকে। সে কারণে তার উল্লাস এবং উদযাপন একটু বেশিই ছিল। এটি যেমন তাকে স্বস্তি দিয়েছে। তেমনি বার্সেলোনাকে টিকিয়ে রেখেছে শিরোপার দৌঁড়ে। আজ হেরে গেলে লা লিগার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে কাতালানদের।দিনটি কেমন যাবে সেটি নাকি সূর্যোদ্বয় দেখেই বোঝা যায়। রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রে ঘটল তার উল্টো। ম্যাচের শুরুতেই কাসেমিরো কর্নার থেকে আসা বলে পা লাগিয়ে জালে পাঠান। এগিয়ে নেন দলকে। এরপর থেকে রিয়াল কেবল পিছিয়ে যেতে থাকে। ৩৩ মিনিটে লিওনেল মেসির অসাধারণ গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। ৩৮ মিনিটে ইনজুরি কাটিয়ে এল ক্লাসিকোতে ফেরা গ্যারেথ বেল সেই একই ধরণের ইনজুরিতে পরে মাঠ ছাড়েন। তাতে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই শেষ হয় প্রথমার্ধের লড়াই।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ডি বক্সের সামনে থেকে আনমার্ক ইভান রাকেটিকের বাঁকানো শট জালে আশ্রয় নিলে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পরে রিয়াল। ৭৭ মিনিটে লিওনেল মেসিকে বাজেভাবে ফাউল করে সরাসরি লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রিয়ালের অধিনায়ক সার্জিও রামোস। তাতে দশজনের দলে পরিণত হয় লস ব্লাঙ্কোসরা। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়ের ব্যবধানেও পিছিয়ে যায় জিদানের শিষ্যরা।

৮২ মিনিটে করিম বেনজেমার বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন হামেস রদ্রিগেজ। ৮৫ মিনিটেই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান কলম্বিয়ান এই তারকা। উল্লাসে ভাসান সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে। তাকে গোলটি করতে সহায়তা করেন মার্সেলো। মার্সেলোর জোরালো শটে পা লাগিয়ে গতিপথ বদলে দেন রদ্রিগেজ। বলটি বার্সেলোনার গোলরক্ষক আন্দ্রে টার স্টেগানের মাথায় আঘাত করে জালে আশ্রয় নেয়। এরপর অন্তিম মুহূর্তে আজকের ম্যাচের মহানায়ক লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এটা শুধু জয় নয় মেসি ও তার দলের জন্য। তার চেয়ে বড় কিছু।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com