ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজই আমার শেষ : মিসবাহ-উল-হক

উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার মনোনীত হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন স্যার গাবি এলেনের পর সবচেয়ে বেশি বয়সী টেস্ট ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়া পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। ইংল্যান্ড সফর দিয়ে বিদায় নিচ্ছেন? নাকি অস্ট্রেলিয়া? নইলে কবে! গত এক-দেড় বছর ধরে পাকিস্তানের প্রতিটি সিরিজের আগে এই প্রসঙ্গ ছিল অবধারিত। অবশেষে মিলল সেটির সুনিশ্চিত উত্তর। পথচলায় ইতি টানলেন।

বৃহস্পতিবার লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে অবসরের ঘোষণা দিয়ে মিসবাহ জানান, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজই আমার শেষ।’ কোনো চাপে নয়, নিজেই নিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত। “এটিই আমার শেষ সিরিজ, পিসিবি প্রধানকে সেটি জানিয়েছি। চেষ্টা করব, দারুণ কিছু করে বিদায় নিতে।”
“আরব আমিরাতে ইংল্যান্ড সিরিজ শেষেই (২০১৫ সালের অক্টোবরে) আমি বিদায় নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু ব্যপার ছিল, যে কারণে খেলা চালিয়ে যেতে হয়েছে। এখন সব ঠিক আছে। আমাকে কেউ চাপ দেয়নি বা কিছু নির্দেশ দেয়নি। নিজেই উপলব্ধি করেছি, পুরোপুরিই নিজের সিদ্ধান্ত।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন বলে জানান ৪২ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার, ‘আমি ঘরোয়া পর্যায়ে খেলা চালিয়ে যাব। ঘরোয়া ক্রিকেট কবে ছাড়ব, সেটা পরে জানাব।’ মিসবাহ-উল-হক আরও আগেই চেয়েছেন অবসর নিতে কিন্তু দলটাকে গুছিয়ে আনার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডই (পিসিবি) তাকে এতদিন ধরে রেখেছিল। মিসবাহ অবসর নিলে তার পরিবর্তে পাকিস্তানের অধিনায়ক হবেন আজহার আলি। একই সঙ্গে পাকিস্তান দলেও আসবে বসসড় পরিবর্তন।

টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে আগেই ছেড়েছিলেন মিসবাহ। সম্প্রতি পাকিস্তান দলে মিসবাহ’র খেলা, না খেলা নিয়ে বেশ নাটকীয়তা তৈরি হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) লাহোরে সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন ১৭ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়া অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যান। বুধবারই ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইজডেনে মর্যাদাপূর্ণ পাঁচজন ক্রিকেটারের মধ্যে নিজের নাম লেখান ৪২ বছর বয়সী মিসবাহ। যেখানে সম্প্রতি তার টেস্ট খেলা নিয়ে সুবিবেচনা করা হয়। অথচ ‍তার অধীনেই প্রথমবারের মতো টেস্টে শীর্ষ দল হিসেবে পাকিস্তান পরিচিতি পায়। পরে অবশ্য টানা ছয়টি ম্যাচে পাকিস্তান হেরেছে।

২০০১ সালে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের মধ্যদিয়ে সাদা পোশাকে অভিষেক হয়েছিল মিসবাহ’র। পরে কয়েক দফায় খেলেছেন আরও চার টেস্ট, ওয়ানডেতেও ছিল আসা-যাওয়া। দল থেকে ছিটকেও পড়েন লম্বা সময়ের জন্য। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পুনরুজ্জীবন ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে। সবাহ পাকিস্তানের সবচেয় সফল টেস্ট অধিনায়কও। তার অধীনে ৫৩ ম্যাচের ২৪টিতেই জয় পেয়েছে দলটি। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে অবসর নেন তিনি। আর ২০১২ সালে সর্বশেষ টি-২০ খেলেছিলেন।

টি-টোয়েন্টি থেকে ওয়ানডে ও টেস্ট, সব সংস্করণেই পাকা করেন জায়গা। ২০১০ সালে ফিক্সিং বিতর্কে জর্জরিত দুঃসময়ের মিসবাহকে দেওয়া হয় অধিনায়কত্ব। তার নেতৃত্বেই টালমাটাল সময়টা কাটিয়ে ওঠে পাকিস্তান। পাকিস্তান টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবার শীর্ষে ওঠে মিসবাহর নেতৃত্বেই। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করাসহ টেস্টে দল পেয়েছে অসাধারণ কিছু সাফল্য। ব্যাট হাতে নিজেও খেলেছেন দারুণ সব ইনিংস। গড়েছিলেন টেস্টে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও।

টি-টেয়েন্টিকে বিদায় জানিয়েছিলেন ২০১২ সালে। ২০১৫ বিশ্বকাপ শেষে ওয়ানডেকে। এবার টেস্টের পালা। গত কিছুদিনে সাদা পোশাকে মলিন তার ও দলের পারফরম্যান্স। টানা ছয় টেস্ট হেরেছে পাকিস্তান। মিসবাহর ব্যাটেও নেই রানের সেই জোয়ার। তাই গুঞ্জন ছিল, বিদায়ের ঘোষণা আসছে যে কোনো সময়ই। এখনও পর্যন্ত টেস্ট খেলেছেন ৭২টি, রান ৪ হজার ৯৫১। ব্যাটিং গড় এক সময় ছিল পঞ্চাশের ওপর। গত কিছু দিনের রান খরায় সেটি নেমে হয়েছে ৪৫.৮৪। সেঞ্চুরি ১০টি, পঞ্চাশ ৩৬টি। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রানের তালিকায় সাতে রয়েছেন।

পাকিস্তানকে সবচেয়ে বেশি ৫৩ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মিসবাহ। সবচেয়ে বেশি জয়ও তার নেতৃত্বেই, ২৪টি। পাকিস্তানকে ১৫ টেস্ট জয়ে নেতৃত্বও দিতে পারেননি আর কেউ। শেষ সিরিজেও পাকিস্তানের একটি অপূর্ণতা ঘোচানোর মিশন নিয়ে যাচ্ছেন মিসবাহ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ জিততে পারেননি কখনোই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের যে দশা, তাতে এবার মিসবাহদের সুবর্ণ সুযোগ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৭৪ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com