আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ রাত ২:২১ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

তামিম-সাকিবের ঝড়ো ব্যাটিয়ে রানের চূড়ায় বাংলাদেশ

তামিম-সাকিব যখন আউট হন তখন বাংলাদেশকে যথারীতি রানের পাহাড়ে উঠিয়ে দিয়ে গেছেন। এর কিছুটা আঁচ পাওয়া গেলো শেষ দিকে মোসাদ্দেকের ৯ বলে ২৪ এবং মাহমুদউল্লাহর ৭ বলে ১৩ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে।  আগের বলটিতেই সম্ভাব্য ক্যাচকে ছক্কা বানিয়েছেন সিরিবর্ধনা। কিন্তু শেষ সময়ে ভাবাভাবির কিছু নেই। শুধু চাই রান। পরে বলে আবার উড়িয়ে মেরে লংঅনে ধরা পড়লেন তামিম ইকবাল। ফিরলেন ১২৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে।

শহিদ আফ্রিদির ১২৪ ছাড়িয়ে এই মাঠের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন তামিমের। আফ্রিদির ইনিংসটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১০ এশিয়া কাপে। ১৫ চার ও ১ ছক্কায় ১৪২ বলে ১২৭। ইনিংসের ১৩ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ২৮৯। তামিম, সাব্বির, সাকিব শেষদিকে মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহ খুনে ব্যাটিংয়ে লঙ্কানদের সামনে ৩২৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করাল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত তামিমে উড়ন্ত বাংলাদেশ। সত্যিই ডাম্বুলায় ব্যাট হাতে যা দেখালেন টাইগার ড্যাশিং ওপেনার সেটির বিশেষণ হতে পারে অনেক কিছুই।

 

৫৬ বলে ৫৪ রানের ক্লাসিক ইনিংস খেলে আউট হয়ে হন সাব্বির রহমান। তামিমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ৯০ রানের। মুশফিক আউট হন ১ রানে। তার আগে ওপেনার সৌম্য করেন ১০ রান। সৌম্য ও মুশফিকের আউট দুটি ছাড়া বাংলাদেশ ইনিংসের কোনো হতাশা নেই। সবচেয়ে বড় স্বস্তি আসে তামিম ও সাকিবের ব্যাটিংয়ে। ৭২ বলে ৭০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ফিরে যান সাকিব। ওয়ানডেতে সাকিবের এটা ৩৩ নম্বর হাফ সেঞ্চুরি। আউট হবার আগে তামিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে তুলেন ১৪৪ রান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে কোনো উইকেট জুটিতে এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রান।যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডেও আছেন তামিম ইকবাল। ২০১৫ সালে মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে ঢাকাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছিলেন ১৭৮ রান। সেটা ছিল তৃতীয় উইকেট জুটি।
শনিবার রনগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে বেলা তিনটায় মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লঙ্কান দলপতি উপল থারাঙ্গা। তবে, টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা জানান, টস জিতলে তিনি ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নিতেন।

সৌম্য সরকারের বিদায়ে দলীয় ২৯ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে তামিম-সাব্বির যোগ করেন আরও ৯০ রান। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন হাফ-সেঞ্চুরি করা সাব্বির। দ্রুত বিদায় নেন মুশফিকও। এরপর শত রানের (১৪৪) জুটি গড়েন তামিম-সাকিব। আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে টাইগারদের হয়ে ইনিংসের শুরু করতে নামেন বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। শুরুটা সতর্ক থেকেই করেছিলেন তামিম-সৌম্য। তবে, ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বিদায় নেন সৌম্য। লাকমলের করা চতুর্থ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে দিনেশ চান্দিমালের গ্লাভসবন্দি হন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। ১৩ বলের ইনিংসে দুটি চার হাঁকান সৌম্য। দলীয় ২৯ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

১৯তম ওভারে টাইগারদের দলীয় শতক পূর্ণ হয়। ২০তম ওভারে সাব্বির ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পান। ৪৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫০ করেন সাব্বির। তবে, ইনিংসের ২২তম ওভারে বিদায় নিতে হয় সাব্বিরকে। গুনারত্নের বলে থারাঙ্গার তালুবন্দি হয়ে ফেরেন ৫৬ বলে ৫৪ রান করা সাব্বির। দশটি বাউন্ডারিতে তিনি এই ইনিংসটি সাজান। দলীয় ১১৯ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তামিম-সাব্বির মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৯০ রান।

সাব্বিরের বিদায়ে মাঠে আসেন মুশফিক। সান্দাকানের করা ২৩তম ওভারে বোলারের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১ রান। দলীয় ১২০ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৬তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম অর্ধশতকের দেখা পান তামিম। পরে সেটি ক্যারিয়ারের অষ্টম শতকে রূপ নেয়। তিনি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৭৫ বলে, তাতে ছিল ছয়টি চারের মার। শতক ছুঁয়েছেন ১২৭ বলে, ১২টি চারের সাহায্যে। শ্রীলঙ্কা সফরে মোরাতুয়ায় বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে তামিম করেছিলেন ১৩৬ রান। এরপর গল টেস্টে করেছিলেন ৫৭ ও ১৯ রান। কলম্বো টেস্টে করেছিলেন ৪৯ ও ম্যাচ জেতানো ৮২ রান।

দলীয় ১২০ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে সাকিব-তামিমের ব্যাটে এগুতে টাইগাররা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৩তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে সাকিব বিদায় নেন ৭২ রান করে। ৭১ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কা হাঁকান সাকিব। দলীয় ২৬৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়। সাকিব-তামিম জুটি থেকে আসে ১৪৪ রান।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক হাঁকিয়ে ১২৭ রানে বিদায় নেন তামিম। কুমারার বলে ইনিংসের ৪৮তম ওভারে গুনাথিলাকার হাতে ধরা পড়েন তামিম। ১৪২ বলে ১৫টি চারের পাশাপাশি তামিমের ইনিংসে ছিল একটি ছক্কার মার। দলীয় ২৮৯ রানের মাথায় টাইগারদের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন তামিম। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৭ বলে একটি ছক্কায় ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ সময়ে ব্যাটে ঝড় তুলেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৯ বলে তিনটি চার আর একটি ছক্কায় ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

এ ম্যাচের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় মেহেদি হাসান মিরাজের। তার মাথায় ওয়ানডে অভিষেকের ক্যাপ পড়িয়ে দেন আরেক অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১৯ বছর বয়সী মিরাজ বাংলাদেশের ১২৩তম ওয়ানডে ক্রিকেটার। টেস্টে সিরিজ ড্র (১-১) হওয়ার পর এই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দিকে তুমুল আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে দুই দল। ডাম্বুলায় আজ থেকে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজে বাড়তি শক্তি বদলে যাওয়া টাইগারদের পারফর্ম। শেষবার এই মাঠে ২০১০ সালের এশিয়া কাপে খেলেছিল লাল-সবুজরা। সে আসরের সবক’টি ম্যাচই বাজে ভাবে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

তবে, ২০১০ সালের তুলনায় এই বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রিকেট বিশ্বকে এখন আর চমকিয়ে দিতে হয় না টাইগারদের। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই জায়ান্ট দলগুলোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নেয়। মাশরাফির নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত আর অভিজ্ঞ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com