পঞ্চম ও শেষ দিনে আসা যাওয়ার মিছিলে বাংলাদেশ

৬৩ বার পঠিত
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ বাঁচাতে পঞ্চম ও শেষ দিনে ফের ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়া বাংলাদেশের উইকেটের মিছিলে যোগ দিয়েছেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৩ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাশ। গল টেস্টের শেষ দিনে দিনের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। আউট হতে পারতেন প্রথম বলেই। আসেলা গুনারত্নে স্লো মিডিয়াম বোলার হলেও ছুটে এসে করলেন অফ স্পিনের মতো। পুরোপুরি বিভ্রান্ত সৌম্য, সুইপ করতে গিয়ে আবার ঠেকাতে চাইলেন। ক্যাচ উঠল, শর্ট লেগ ফিল্ডার পারল না ধরতে।

পরের বলে ফিল্ডার লাগল না। এবার বেশ ফ্লাইট দেয়া বল। সৌম্য ডিফেন্স করেছিলেন, বল একটু বেরিয়ে তার ব্যাটের পাশ দিয়ে চুমু দিল স্ট্যাম্পে। এত ‘সফট ডিসমিসাল’ যে বোলার আবেদন করেছিলেন, সৌম্যও রিভিউ চেয়ে বসেছিলেন। কেউই শুরুতে বুঝতে পারেননি কি হয়েছে। সৌম্য বিদায়ের পর মাঠে নামের মুমিনুল তার আউটটি দেখে কেউ বুঝতেই পারবেন না যে এটা দ্বিতীয় ইনিংসের আউট। মনে হবে প্রথম ইনিংসের কার্বন কপি। একই বোলার, প্রায় একই বল, একই আউট!

দিলরুয়ান পেরেরার ফ্লাইটেড বল। সামনে খেলার বল মুমিনুল খেললেন পেছনে। আবারও ফ্লাইটে বিভ্রান্ত এবং বলের লাইন মিস। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছে আউট। আম্পায়ারও আঙুল তুললেন। তামিমে সঙ্গে কথা বলে মুমিনুল চাইলেন রিভিউ। কিন্ত রিভিউ চেয়েও আবার হাঁটা দিলেন ড্রেসিং রুমের দিকে। মনে হয় নিজেই বিভ্রান্ত!

ওদিকে সৌম্য ও মুমিনুলের বিদায়টা অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তামিম ইকবাল। তাদের দেখেই যেন কিছুটা শিক্ষা নিলেন তামিম। মনে মনে হয়তো সংকল্প করেছিলেন তাদের আউট তো কিছু না আমি এর থেকেও বাজে ভাবে আউট হব। দুই উইকেট হারিয়ে থিতু হওয়ার রেশ না কাটতেই নেই তামিম ইকবালও! বোলার আবারও দিলরুয়ান পেরেরা। অফ স্টাম্পে পিচ করা বল একটু লাফিয়ে টার্ন করেছিল। বলটি অবশ্য ভালো ছিল, তবে এমন নয় যে সামলানোই যাবে না। তামিম পারলেন না। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল স্লিপে। ৫৫ বলে ১৯ করে ফিরলেন তামিম।

তামিমের বিদায়ের পরই বাংলাদেশকে জোড়া ধাক্কা দিলেন বুড়ো হেরাথ। সাকিব ও মুশফিকে ব্যাটে কেবলই একটি জুটি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা। কিন্তু সেটিও শেষ জমে ওঠার আগেই। রঙ্গনা হেরাথ ফেরালেন সাকিবকে। সেটি যদি যথেষ্ট না হয়, এক বল পরই নেই মাহমুদউল্লাহও! এবার অবশ্য বাজে শটে ফেরেননি সাকিব। হেরাথের বল তাকে টেনে এনেছিল বাইরে। লম্বা পায়ে ডিফেন্স করেছিলেন। বল তার গ্লাভসে চুমু দিয়ে লেগ স্লিপে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নিলেন করুনারত্নে। সাকিব করেছেন ৮।

জায়গা বাঁচাতে লড়তে থাকা মাহমুদউল্লাহ এলেন আর গেলেন। হেরাথের আর্ম বলে এলবিডব্লিউ শূন্য রানে। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১০৪। মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে হেরাথ ছুঁলেন ড্যানিয়েল ভেটোরিকে। বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন যৌথভাবে এই দুজনের, ৩৬২টি। এর আগে ৪৫৭ রানের টার্গেটে চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে ব্যাটিং নামে বাংলাদেশ। তবে সৌম্য সরকারের ঝড়ো গতির হাফসেঞ্চুরি ও তামিম ইকবালের ধৈর্যলীল ব্যাটিংয়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান করে সফরকারীদের। যদিও আলোর স্বল্পতার কারণে দিনের শেষ ১১ ওভার খেলা মাঠে গড়ায়নি। সৌম্য ছয় চার ও এক ছক্কায় ৪৭ বলে ৫৩ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। অপরদিকে ১৩ রানে মাঠ ছাড়েন তামিম।

এর আগে উপল থারাঙ্গার সেঞ্চুরিতে (১১৫) লঙ্কানরা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে ভালো বল করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দুটি উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। সাকিব আল হাসানও নিয়েছেন সমান দুটি উইকেট। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) তৃতীয় দিনের তৃতীয় সেশন ভাসিয়ে নেয় বৃষ্টি! মাত্র ৫১.২ ওভারের খেলা হয়। বাংলাদেশকে ৩১২ রানে অলআউট করলেও বৃষ্টির কারণে লঙ্কানদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা হয়নি।

তার আগে মুশফিক-মিরাজের ১০৬ রানের সপ্তম উইকেট জুটিতে ফলোঅন এড়ায় টাইগাররা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৮৫। দলীয় ৩০৮ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন তিনি। চার রান যোগ হতেই দলীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। মিরাজ করেন ৪১। ২৩ রান করে আউট হন সাকিব আল হাসান। ১১৮ রানের ওপেনিং জুটিতে দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল (৫৭, রানআউট) ও সৌম্য সরকার (৭১)। কিন্তু, মুমিনুল-সাকিব-লিটন-মাহমুদউল্লাহদের ব্যর্থতায় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় লঙ্কানদের হাতে।

তিনটি করে উইকেট লাভ করেন দুই স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা ও দলপতি রঙ্গনা হেরাথ। সুরাঙ্গা লাকমল, লাহিরু কুমারা ও লক্ষণ সান্দাকান নেন একটি করে। প্রথম ইনিংসে কুশল মেন্ডিসের (১৯৪) ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্কোরবোর্ডে ৪৯৪ রান তোলে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা। অর্ধশতক হাঁকান অাসিলা গুনারাত্নে (৮৫), নিরোশান ডিকওয়েলা (৭৫) ও দিলরুয়ান পেরেরা (৫১)। একাই চার উইকেট দখল করেন মিরাজ। মোস্তাফিজুর রহমান দু’টি আর একটি করে নেন সাকিব, তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিস রায়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com