আজ শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ দুপুর ১২:২০ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

গাপটিলের তান্ডব: সিরিজে সমতায় নিউজিল্যান্ড

ম্যাচ শুরুর আগেও এমন রেকর্ডের কথা জানতো ক্রিকেট বিশ্বের কেউ কিংবা আইসিসিও। কিন্তু ম্যাচ শুরুর পর এমনই এক ইতিহাস তৈরি করলো নিউজিল্যান্ড যা ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম। বিরল ঘটনার সাক্ষী হলো নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা চতুর্থ ওয়ানডে। ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রথম ইনিংসে দুই স্পিনার দুই প্রান্ত থেকে বোলিং শুরু করলেন। বিরল এই কীর্তি গড়েছেন দুই কিউই স্পিনার জিতান প্যাটেল ও মিচেল স্যান্টনার।

হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে টস হেরে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বোলিং শুরু করেন প্যাটেল। ৩৬ বছর বয়সি অফ স্পিনার দলকে সফলতাও এনে দেন, তৃতীয় বলেই ফিরিয়ে দেন কুইন্টন ডি কককে। প্রথম ওভারে ২ রান দিয়ে ডি ককের উইকেটটি নেন প্যাটেল। অন্য প্রান্ত থেকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার শুরু করেন বাঁহাতি স্পিনার স্যান্টনার। তাতেই ৪৬ বছরের ওয়ানডে ক্রিকেট সাক্ষী হয় বিরল ঘটনার। স্যান্টনার এই ওভারে খরচ করেন ৩ রান।

রেকর্ড ম্যাচের পাশাপাশি বিধ্বংসী ছিলেন মার্টিন গাপটিল। মার্টিন গাপটিল এই ভেবে আফসোস করতেই পারেন, দক্ষিণ আফ্রিকা যদি আর ২৫-৩০ রান বেশি করত! তাহলে হয়তো গাপটিলের নামের পাশে এতক্ষণে ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরি লেখা থাকত দুটি। মার্টিন গাপটিলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পেল নিউজিল্যান্ড। আর এ জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ২-২ এ সমতায় ফিরলো কিউইরা। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ১৮০ রানে অপরাজিত থাকেন গাপটিল।

হ্যামিল্টনে চতুর্থ ওয়ানডেতে যে গাপটিল খেললেন অপরাজিত ১৮০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ২৭৯ রান ৩০ বল বাকি থাকতেই টপকে গেছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের ৭ উইকেটের জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজ এখন ২-২ সমতা। আগামী শনিবার অকল্যান্ডে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি তাই সিরিজ নির্ধারণী। এই হারে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার কাছে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটাও হারিয়েছে।

প্রথম ম্যাচে খেলার পর হ্যামস্টিংয়ে চোট পেয়েছিলেন গাপটিল। সেই চোট তাকে পরের দুই ম্যাচে খেলতে দেয়নি। ফেরেন আজ চতুর্থ ওয়ানডেতে। সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজকের ম্যাচটি জিততেই হতো নিউজিল্যান্ডকে। ২৮০ রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ডের শুরুটা যদিও ভালো হয়নি। দলের ৫ রানেই দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার কাগিসো রাবাদার বলে কুইন্টন ডি কককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডিন ব্রনলি। এরপর দলকে ৭৫ পর্যন্ত টেনে নিয়েছিলেন কেন উইলিয়ামসন ও গাপটিল। তাহিরের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে উইলিয়ামসন করেন ২১ রান।

অধিনায়ক ফিরলেও এক প্রান্তে গাপটিল ছিলেন অবিচল। তৃতীয় উইকেটে তিনি রস টেলরের সঙ্গে গড়েন ১৮০ রানের বড় জুটি। এ জুটি গড়ার পথেই ১২ চার ও ৪ ছক্কায় ৮২ বলে ক্যারিয়ারের দ্বাদশ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গাপটিল। আর ১২৩ বলে পূর্ণ করেন ১৫০। টেলর ৬৬ করে ফিরলেও লুক রনকির সঙ্গে ২৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন গাপটিল। ১৩৮ বলে ১৫ চার ও ১১ ছক্কায় ১৮০ রানের ইনিংসটি সাজান ডানহাতি ব্যাটসম্যান। অবশ্য ৬২ রানে ডোয়াইন পিটোরিয়াসের বলে এলবিডব্লিউ হয়েও ডিআরএস-এর সৌজন্যে বেঁচে গিয়েছিলেন। লক্ষ্য তাড়ায় তার অপরাজিত ১৮০ রানই নিউজিল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস। সব মিলিয়ে তার চেয়ে বড় ইনিংস আছে আর তিনটি- বিরাট কোহলির ১৮৩, মহেন্দ্র সিং ধোনির ১৮৩* ও শেন ওয়াটসনের ১৮৫*।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই প্রান্ত থেকে দুই স্পিনার জিতান প্যাটেল ও মিচেল স্যান্টনারকে দিয়ে বোলিং শুরু করে কিউইরা বিরল ঘটনার জন্ম দেয়। ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে দুই স্পিনারের বোলিং শুরুর ঘটনা যে এটিই প্রথম। ইনিংসের তৃতীয় বলে ডি কককে ফিরিয়ে দলকে সফলতাও এনে দিয়েছিলেন প্যাটেল। টানা ছয় ইনিংসে পঞ্চাশ ছোঁয়ার রেকর্ড ছুঁতে নামা ডি কক ডাক মেরেছেন।

শুরুর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সের অপরাজিত ৭২ ও ফাফ ডু প্লেসির ৬৭ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৯ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে সফরকারীরা। তখনো কে জানত, খুনে ব্যাটিংয়ে প্রোটিয়াদের ২৭৯ রানও মামুলি বানিয়ে ফেলবেন গাপটিল! দক্ষিণ আফ্রিকার রানটা আরেকটু বেশি হলে কিউই ব্যাটসম্যান হয়তো গত বিশ্বকাপে ওয়েলিংটনে খেলা অপরাজিত ২৩৭ রানের পর আজ দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিই পেয়ে যেতেন!

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com