৯ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

৭৭ বার পঠিত

চতুর্থ দিনেই শেষ ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্টে ৯ উইকেটে জয় পেয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। ক্রাইস্টচার্চেই হার দিয়ে শুরু হয়ে আবার সেখানেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৮৯ রানের টার্গেট দেয় নিউজিল্যান্ডকে। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে কিউইরা করে ৩৫৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ সব উইকেট হারিয়ে তাদেরকে ১০৮ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়।  এই সহজ লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে তাদের খুব বেশি সময় নিতে হয়নি। ১৮.৪ ওভারেই জয় তুলে নেয় কিউইরা। 

১২.৩ ওভারের সময় কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে আউট হন রাভাল। ৪০ বলে ৩৮ রান করেন এই ওপেনার।  এরপর গ্র্যান্ডহোম ও লাথাম জুটিতে জয় আসে কিউইদের। কলিন ডে গ্র্যান্ডহোম ১৫ বলে ৩৩ রান করেন। অন্য দিকে ৫৯ বলে ৪১ রান করেন। গ্র্যান্ডহোম ও লাথাম ৫৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। এই টেস্টে ম্যাচ সেরা হয়েছেন টিম সাউদি।  এই ম্যাচে তিনি মোট ৮টি উইকেট পান। উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড সফরের ৩টি ওয়ানডে, ৩টি টি-টোয়েন্টি ও ২টি টেস্টের সব ক’টিতে হেরেছে  বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সব টপ অর্ডার যখন পেস বোলিং সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন তখন নিজেকে চিনিয়ে দিলেন তাসকিন আহমেদ। শুধু বল হাতেই নয়, ব্যাট হাতেও তিনি পারেন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যা সহজে করতে পারেননি, সেটিই করে দেখাচ্ছিলেন  তাসকিন আহমেদ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৩৩ রান করে বিদায় নেন তাসকিন আহমেদ। বোল্টের বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই সিরিজে অভিষিক্ত এই সুদর্শন খেলোয়াড়। তাসকিন আহমেদ কামরুল ইসলাম রাব্বির সাথে ৫১ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন। দ্বিতীয় ইনিংসে এটাই সর্বোচ্চ জুটি বাংলাদেশের। 

কামরুল ইসলাম রাব্বি করেন অপরাজিত ২৫ রান। রুবেল হোসেন আউট না হলে আরও কিছু রান সংগ্রহ করতে পারতেন কামরুল। টিম সাউদির বলে ক্যাচ আউট হন রুবেল হোসাইন। রুবেলের আউটের পরই শেষ হয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের পরিসমাপ্তি ঘটে। ক্রাইস্টচার্চের ওভালে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসটা কিছুটা সুবিধাজনক হলেও দ্বিতীয় ইনিংসের সেই ধরাবাহিকতা রক্ষা করা যায়নি। প্রথম ইনিংসের টাইগারদের দেয়া ২৮৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে কিউইরা ৩৫৪ রান করে। অর্থাৎ ৬৫ রানের লিড নেয় ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

এরপর বাংলাদেশের ইনিংসটা খুব একটা সুবিধাজনক হয়নি। শুরু থেকেই বাউন্সিংয়ের চাপে ছিলো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। মোটেও সামাল দিতে সক্ষম হননি টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের কেউই। দ্বিতীয় ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের সময় টিম সাউদির শর্ট বল খেলতে গিয়ে নিজের ব্যাক্তিগত ১৯ বলে ৮ রান নিয়ে ফিরে যান ওপেনার তামিম ইকবাল। অধিনায়ক তামিমের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিলো ১ উইকেট হারিয়ে ১৭ রান।
 
এরপর লাঞ্চের সেশনের পর  কিছুক্ষণ  ভালোভাবে ব্যাটিং করলেও তা সুবাধাজনক হয়ে উঠেনি। ১৯.৪ ওভারের সময় ডে গ্র্যান্ড হোমের বলে ৬৪ বলে ৩৬ রান করে রাভালের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান সৌম্য সরকার। সৌম্যের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিলো ২ উইকেট হারিয়ে ৬৪ রান। ইনিংসের ২২.৩ ওভারের সময় টিম সাউদির বলে অফ সাইডে পুল করতে গিয়ে ডে গ্র্যান্ডহোমের হাতে নিজেকে সঁপে দেন সাকিব আল হাসান। প্রথম ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব ৭ বল খেলে মাত্র ৮ রান সংগ্রহ করেন। সাকিবের বিদায়ের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ৭৩ রান।

 সাকিব আল হাসানের বিদায়ের পর টাইগার শিবিরের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বেশ দৃঢ়তার সাথেই নাজমুল হোসাইন শান্তকে নিয়ে ব্যাট করছিলেন তিনি। মাহমুদুল্লাহ ৬৬ বলে ৩৮ রান করে বিদায় নেন । ওয়াগনারের বলে বোল্ড আউট হন তিনি।  ফিরে যাওয়ার আগে উইলো হাতে ৫টি চার মারেন। তার বিদায়ের  পর বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ৯২ রান।
 
অধিনায়ক তামিম ইকবালের বিদায়ের পরই ওয়ানডাউনে নামেন এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। এরপর সৌম্য সরকারের সাথে ৪১ রানের জুটি গড়েন। 
মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর আসা যাওয়ার মিছিলে সামিল হলেন সাব্বির রহমান। প্রথম টেস্টে দুটি অর্ধশতক হাঁকানো এই ব্যাটসম্যান কোনো রকমের সুবিধাই করতে পারলেন না। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের কিছুক্ষণ পরই ওয়াগনারের বলে উইকেট রক্ষক ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান তিনি।  ব্যাট হাতে ১১ বলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি। এই সময়ে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ৫ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com