বন্ধু কি খবর বলো

এই সংবাদ ৮০ বার পঠিত

সফিউল্লাহ আনসারী # বন্ধুত্বের বন্ধনে নেই কোনো সীমানা। বন্ধুত্বের সমপর্ক শর্তহীন নিখাদ। বন্ধুত্বের নেই কোনো দিন-ক্ষণ বা গ-ি। একাকীত্বকে জয় করার একমাত্র উপায় বন্ধুত্ব গ্রহণ। বিশ্বে নানা বিষয়ের দিবসগুলোর গুরুত্বকে বাড়িয়ে দিতে বিশেষভাবে পালন করা হয়। যদিও বন্ধুত্ব প্রতিদিন একই রকম আবেগ-অনুভূতিতে অমলিন। তেমনি আগস্ট মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় বন্ধু দিবস হিসেবে।

একেকটা দিবস পালনের পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো ঘটনা। বন্ধু দিবস কিভাবে এলো জেনে নিই- ‘১৯৩৫ সাল থেকেই বন্ধু দিবস পালনের প্রথা চলে আসছে আমেরিকাতে। জানা যায় ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরের দিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। এরপরই জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষেই আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন ।’ (সংগৃহীত)

ইদানীংকালে বিশ্ব দিবস পালনের রেওয়াজ খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বন্ধু দিবসটিও নিখাদ বন্ধুত্বকে আরো অমূল্য করে তুলতে আমাদের দেশেও আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হচ্ছে। বন্ধু তো সে বিপদের সময়, নিঃসঙ্গতায়, হতাশায় পাশে থেকে নিজের মতোই অতি আপনজন হয়ে পাশে থাকবে। কথায় আছে বিপদে বন্ধুর পরিচয় সত্যি তাই। শুধু সুখের দিনে ভোগ করবে, বিপদে পড়লে কেটে পড়বে_ বন্ধুত্ব এমন হতে পাওে না। জীবনের সংকটকালে অপর বন্ধু ছুটে যান বন্ধুদের কাছে। জীবনের বাঁকে বাঁকে আনন্দ-উল্লাস, হাসি-কান্না, জীবনের সকল সময় বন্ধু থাকেন ছায়ার মতো, মায়ায় বাঁধনে। জীবনের শেষ সময়েও, অবসর জীবনে বন্ধুত্বের ভালোবাসা সঙ্গী হয়ে থাকে জীবনকে পূর্ণতা দিতে। বন্ধুত্বের যেমন কোনো সীমা নেই তেমনি নেই কোনো বাধ্যবাধকতা। বন্ধুত্ব হতে পারে মা-বাবা-সন্তানের সঙ্গে, ভাই-বোনের সঙ্গে, সহপাঠীর সঙ্গে, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর সঙ্গে, ছেলেমেয়ের সঙ্গে। লিঙ্গ বৈষম্য বন্ধুত্বে নেই। বন্ধুত্ব হতে পারে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়।

ইদানীংকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কাছের-দূরের কখনো দেশের গন্ডি পেরিয়ে বন্ধুত্ব হচ্ছে। বন্ধুর সাহচর্য এখন হাতের মুঠোয়। বন্ধুত্বের আবেদন বেড়েই যাচ্ছে। কখনো একটা কাজ করতে করতে কাজের সঙ্গে হয় বন্ধুত্ব। জীবনের সঙ্গে ধর্মীয় বা দেশ প্রেমের মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সঙ্গেও বন্ধুত্ব হয় গভীর বিশ্বাসে। সব বন্ধুত্বই জীবনকে অর্থবহ করে, করে সমৃদ্ধ জীবনকে দেয় পূর্ণতা। জীবন এবং জগতকে মহিমান্বিত করতে বন্ধুত্বই পারে অহিংস বিশ্ব গড়তে। বন্ধুত্ব যেন আমাদের সন্তানদের বিপথগামী না করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অনেক সময় সঙ্গদোষে বা অনৈতিক বন্ধুত্ব ছেলেমেয়ে বা আমাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে আসতে পারে। তাই বন্ধুত্ব যেন হয় সত্য-সুন্দর আর নৈতিক আদর্শকে ধারণ করে।

বন্ধুত্বের আহ্বান-বন্ধুত্বেই জীবন, বন্ধুত্বেই মরণ, বন্ধুত্বেই জীবনের সফলতা, বন্ধুত্বেই হোক উজ্জ্বল-উচ্ছল আগামীর পথচলা! আচমকা যদি বন্ধু বলে উঠে-বন্ধু কি খবর বল? কতদিন দেখা হয়নি। আবেগ আপ্লুত সেই ক্ষণ শুধুই বন্ধুত্বের, আর কোন সমপর্কে আছে? বন্ধুত্ব হোক বিশ্বাসে, ভালোবাসায়, আন্তরিকতায়, মায়া-মমতায়, তুমুল উচ্ছ্বাসে, বাঁধাহীন-দ্বিধাহীন পারফেক্ট! বন্ধু দিবস হোক প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ। বন্ধুত্ব ছিল, বন্ধুত্ব আছে, বন্ধুত্ব থাকবে অনন্তকাল। শুভ কামনা সকল বন্ধুর প্রতি…..

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার

আজো চেনা হরোনা নিজেকেই ...! 01715-787772

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com