প্রধানমন্ত্রীর নিকট অধরা হাসান-এর খোলা চিঠি

এই সংবাদ ১,০২১ বার পঠিত

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকেই বলছি, যদিও জানি পিঁপড়ের চিৎকার হাতির কান অবধি পৌঁছোয় না। তবু বলছি গোটা দেশকে যিনি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, তাকেই ঠিক এর বিশৃংখলার দায়িত্বে বড্ড বেমানান দেখায়।

বসুন্ধরা রেসিডেনশিয়াল এরিয়ার ই- ব্লকে অবস্থিত ‘অ্যাপোলো হসপিটাল’। ওখানকারই একজন ডক্টরের সাথে কনসাল্ট করতে প্রধানমন্ত্রী বসুন্ধরা আসেন। যার দরুন গোটা ঢাকাবাসীকে ভুগতে হলো ঘন্টার পর ঘন্টা। ঢাকা- ময়মনসিংহ সড়ক জুড়ে আজ সন্ধ্যে থেকে রাত অবধি ভয়াবহ জ্যামের সৃষ্টি হয়। স্পেইশালি গাজীপুর- জয়দেবপুর থেকে কুড়িল চোরাস্তা কিংবা ৩০০ ফিট এরিয়া পুরোটাই জ্যামে ব্লক। অজস্র গাড়ি নির্বিকার দাঁড়িয়ে।

একজন প্রধানমন্ত্রী কি করে এতো অপরিকল্পিত যাতায়াতে অভ্যস্ত হন! আমরা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম! এক্সিকিউটিভ বডি যেমন মন্ত্রী মিনিস্টার, লেজিসলেচার কিংবা ভি.আই.পি যে কেউ যাতায়াত করলেই জনসাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই। আমরা কেউ ছাড় দিতে শিখিনি। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য চুলপরিমাণ জায়গা কাউকে ছেড়ে দিতে রাজী নই।

এম্বুলেন্সে আটকে থাকা কতো মুমূর্ষু রোগী সময়মত হয়তো গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে প্রাণ হারাচ্ছেন। কতো সাধারণ মানুষের ফ্লাইট মিস হচ্ছে, কতো মানুষের ইম্পরট্যান্ট মিটিং ক্যান্সেল হয়ে যাওয়ায় ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ডে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, অফিস-আদালাত থেকে শুরু করে দোকানপাট এমনকি রাস্তার ফুটপাতে বসে থাকা খেটে খাওয়া মানুষটিকেও এই অনিষ্টের স্বীকার হতে হচ্ছে কোন না কোনভাবে। শিক্ষার্থীরাও এই ক্ষতির অংশ থেকে মুক্ত নয়।

সম্পূর্ণ একটি অপরিকল্পিত ঢাকাশহরের মধ্যে আমরা বাস করছি। সময়ের মূল্য এখানে নিছক ছেলেখেলা। একটু হালকা বৃষ্টি হলেই রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম সৃষ্টি হয়। গাড়ি চালকদের মধ্যে অলিখিত প্রতিযোগিতা চলতে থাকে- কে আগে যাবে। ফিটনেসহীন গাড়ি, চালকের অদক্ষতা, ঢাকা শহরের অনেক লোকাল বাসেই দেখেছি ছোটো ছোটো বাচ্চা ছেলে ড্রাইভারের আসনে, সাথে তাদের অত্যাধিক অ্যগ্রেসিভনেস!

কই পেলো এরা লাইসেন্স? এত যে মামলা দিচ্ছে পুলিশ, তার আউটপুটটা আসলে কী? উত্তর নেই কোনো…

বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। সব তো আর পত্রিকায় আসে না। আমাদের চোখেও পড়ে না। যাত্রাপথেই কতো কতো ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে মানুষ!

শুভ উদ্যোগের আশা করা রূপকথার গল্পের মত। বড় বড় ফাঁপা বুলির দাপটে চাপা পড়ে রক্তের দাগ, স্বজনের আহাজারি। নির্মম বাস্তবতা!

প্রধানমন্ত্রী বিকল্প হিসেবে হেলিকপ্টারে যাতায়াত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন। যে কোন ভি.আই.পি কারো এরূপ বিকল্প পন্থাতেই যাতায়াত করা উচিৎ। আমরা তো সময়ের অভাবেই আমাদের প্রোডাক্টিভিটি নষ্ট করছি। সামান্য কিছু অর্থ বাঁচাতে বহু সময়কে খেয়ে ফেলছে অসময়। জনসাধারণের এমন নির্মম ভোগান্তি একজন দেশমাতার কাছে কাম্য নয় কখনো । জনসাধারণ এর বিপুল সহযোগীতাতেই আজকে দেশ কিংবা রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী আপনি। তাই সকল সাধারণ মানুষের ভালো-মন্দ রক্ষার দায় ও সকল দায়িত্ব আপনার।

আমরা একটি পরিকল্পিত বাংলাদেশকে দেখতে চেয়েছি। তা সকল ক্ষেত্রে। আজকের শিশুই আগামীর পিতা। এভাবে অযথা অপ্রিয় হয়ে ওঠা জরুরী নয়। একেবারেই জরুরী নয়।

—অধরা হাসান

১৮০৭১৭

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com