বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়েও ওরা ‘যন্ত্রমানব’

৩,০২৮ বার পঠিত

সোহাগ পারভেজ # বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে ‘যন্ত্রমানবের’ মতো ১ ৮ঘন্টা কাজ করে চলেছেন ওরা। তবুও নেই চাকুরীর নিশ্চয়তা। কর্মকর্তার সন্তুস্টির মেয়াদ-ই চাকুরীর স্থায়ীত্ব। এরা মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। হ্যাঁ দেশবাসী এদের কথাই বলছি। এরা বৃস্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে ক্রমাগত সেবা দিয়ে যাচ্ছে আর্ত-পীড়িত লক্ষ-কোটি বাঙ্গালীর। নিজের পরিবারই সেখানে অভোক্ত, আর্থিক অ-স্বচ্ছলতায় ক্লিষ্ট, সেখানে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে ১৬ কোটি বাঙ্গালীর মুখে হাসি ফুটাবার, সুস্থ্য, স্বাভাবিক রাখবার। কিন্তু এই পারার অভিপ্রায়, সরকারের সু-দৃষ্টিতে অপেক্ষমান। পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বাংলাদেশে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ। আড়াই লক্ষ মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভদের’ জীবন আজ যন্ত্রনাদায়ক, ভবিষ্যৎও কালো মেঘে ডাকা।

‘মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভদের’ সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে কথা হয় বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ এ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শেখ মোঃ সোহাগ পারভেজের সঙ্গে। তিনি আমাদের  জানান, আমরা যদিও অফিসার পদে চাকুরী করি, তবু আমাদের নেই কোন চেয়ার, টেবিল, কিম্বা অফিস।

২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টা ডিউটি করতে হয় দাড়িঁয়ে থেকে। রোদ-বৃষ্টির বালাই দূরে থাক, বেতনের আশায় ছুটে চলতে হয় ডাক্তারদের দ্বারে দ্বারে। পরিবার-পরিজন, ও সন্তান-সন্তুতিদের একটু সময় দেওয়ার ফুলসরত নেই। শুক্রবারের ছুটি ভাগ্যে জুটে না। ভোগ করতে পারি না কোন সরকারি ছুটিও । মে দিবসেও পেটের দায়ে ছুটে চলতে হয় র্টাগেট ফিলাপের জন্য।

তিনি অশ্রু-সজল চোখে আরো বলেন, আত্বীয়-স্বজন মারা গেলেও সেখানে যাওয়ার সুযোগ হয় না। কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট করে দেওয়া অংকের ঔষধ বিক্রয় করতে না পারলে কর্তন করা হয় বেতনের টাকা। প্রতিবাদ করলে চলে যায় চাকুরী। ফলে অ-স্বাদ অ-শান্তির কারণে সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত মানসিক চাপ। যার দরুন ৭০ ভাগ মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ রিপ্রেজেন্টেটিভ মারা যান হার্ট এটাক বা স্ট্রোক করে। এ ব্যাপারে তিনি চাকুরীর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন ও চাকুরীর নিশ্চয়তায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করেন।

বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ এ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) কেন্দ্রীয় কমিটির এ দপ্তর সম্পাদক বলেন, আমার এ দাবি সার্বজনীন। মানুষ ও মানবিক অধিকারেই যুক্তিযুক্ত। তাই, সরকারের কাছে মে দিবসে সবিনয় নিবেদন, সরকার যেন আমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি দেন। এ কথা সত্যি যে, এদেশের স্বাস্থ্য খাতে পরিশ্রমী এই মানুষগুলো সারাদেশের মানুষকে সুস্হ্য রাখার জন্য যে পরিশ্রম করে যাচ্ছে তা অকল্পনীয় অসাধ্য। তাই দেশ ও মানুষের কল্যাণে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com