দিনের অপেক্ষায় এরশাদ : মামলা খালাস

৩৫২ বার পঠিত

পল্লীবন্ধুর মামলা খালাস

: কানাডা থেকে লিখেছেন- ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাহাবুদ্দিন লাল্টু।

Laltu Md Shahabuddin

দিনের অপেক্ষায় এরশাদ!
শুনলাম এরশাদ কোনো একটি মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন। এরশাদের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্র-জনতা ৯ বছর গনতান্ত্রিক আন্দোলন করেছিলো। তখন আন্দোলনকারীদের মধ্যে যে স্বপ্ন ছিলো, এরশাদ পতনের ২৭ বছর পর আজ সে স্বপ্ন অলীক প্রমানিত হয়েছে। প্রমানিত হয়েছে যে, ছাত্রজনতার নিস্পাঁপ মনের কাছে সেটি গনতান্ত্রিক আন্দোলন হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতানেত্রীর কাছে সেটি ছিলো এরশাদকে সরিয়ে ক্ষমতা দখলের একটি হীনমন্যতা যা এরশাদ পতনের পরবর্তী ২৭ বছরে তিলে তিলে প্রমানিত হয়েছে।

৯১-৯৬ তে শেখ হাসিনা এরশাদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে নির্বাচিত তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছিলেন। তাদের সে সখ্যতা ৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচন পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য ২/৩ টি আসনের ঘাটতি থাকায় শেখ হাসিনা এরশাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন। বিনিময়ে আনোয়ার হোসেন মন্জু মন্ত্রী হন। এরশাদ কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

এদিকে বিএনপিও এরশাদকে সাথে পাবার জন্য কম যায় নি। ৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে বিএনপি ১১২ টি আসন পায়, যা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত ছিলো না। এক পর্যায়ে বিএনপি এরশাদকেই সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেয়ার গোপন প্রস্তাব দেয়। শুধুই কি সমর্থন? বিএনপি ঐ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত কয়েকজন এমপিকে ব্রিফকেইস ভর্তি করে টাকাও দেয়, যাতে তারা এরশাদ নিজেই যেন সরকার গঠন করেন সে মোতাবেক পরিস্থিতি তৈরী করেন। কিন্তু আনোয়ার হোসেন মন্জুর একচ্ছত্র দলীয় প্রভাবের কারণে বিএনপির সে প্রচেষ্টা সেবার সফল হতে পারে নি।

এরশাদের দল জনপ্রিয়তার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে থাকায় বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ মনের দিক থেকে এরশাদকে ভয়ানক অপছন্দ করলেও ক্ষমতায় আসা এবং থাকার প্রশ্নে সব সময়ই এরশাদের সাথে একটি সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এরশাদ বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ এ দুটোর একটিকেও বিশ্বাস করেন না। কিন্তু বাধ্য হয়ে একটিকে যদি করেন, সেটা আওয়ামীলীগ। মাঝেমধ্যে বিএনপির সাথে এরশাদ সম্পর্ক রেখেছেন যখন বিএনপি ক্ষমতাসীন ছিলো অথবা ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, খালেদা হাসিনা দুজনই মনে করেন যে, তারা এরশাদকে বলদের মত ব্যবহার করে যাবেন। এরশাদ কিন্তু তাদের এ মনোভাবটি ঠিকই বুঝতে পারেন। আর তাই এরশাদ নিজেও নানান কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে টিকে থাকার জন্য খালেদা হাসিনাকে ব্যবহার করে গেছেন। পরিস্কার করে বলতে গেলে বলতে হয়, হাসিনা খালেদা এরশাদকে বলদ বানাতে চেষ্টা করেছেন। পক্ষান্তরে এরশাদ তাদের দুজনকে গরু বানাতে চেষ্টা করেছেন। আর এ চেষ্টার মধ্য দিয়ে বলা যায় এরশাদ এখন বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে একটি নির্নায়ক ফ্যাক্টর।

তিনি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন বিশেষ দূত। তার স্ত্রী রওশন সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী। জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্য। শক্তিশালী একটি দূর্নীতি মামলা থেকে বেকসুর খালাস পাওয়াটাও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এরশাদের সুসংহত রাজনৈতিক অবস্থানেরই বহি:প্রকাশ। এ সংহত অবস্থান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনাই বেশী। বিএনপি আওয়ামীলীগের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে যতদিন যুদ্ধভাব বজায় থাকবে, ততদিনই দু’দলের কাছ থেকেই এরশাদ সুবিধা ভোগ করেই যেতে থাকবেন।

এদিকে এরশাদের পতনের ২৭ বছরের মাথায় বাংলাদেশের অনেকেই এরশাদকে খালেদা হাসিনার চেয়ে খারাপ নন এমন একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে বিবেচনা করতে শুরু করেছেন। শুধু কি তাই? বরং দেশে যদি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য কোন নির্বাচন হতে পারে, তাহলে এরশাদ প্রথম যদি নাও হতে পারেন, অন্ত:ত ৩য় যে তিনি হবেন না, তা অনেকেই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। যদিও দেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে ফিরে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই, তারপরও এরশাদ যদি কোনদিন কোনভাবে একদিনের জন্য হলেও দেশের নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেন, তাহলে এটা অনেকটাই নিশ্চিত যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের বড় বড় নেতানেত্রীদের অনেককেই গুলিস্তানে এনে জনসমক্ষে অর্ধনগ্ন করে নিজ হাতে বেত্রাগাঁত করে তার মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমনের পদক্ষেপ তিনি নেবেন। এখন শুধু দেখার বিষয় এ দিনটি তার জন্য আদৌ আসে কি না।

 

  • সাহাবুদ্দিন লাল্টু, কানাডা

————
বাংলাদেশের মহান সংস্কারক এরশাদ
————

  • প্রচারে : জাতীয় পার্টির প্রচারনা টিম সাইবার পার্টি।
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার

Bogra Offce

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com