একুশ একটি চেতনার নাম

২৬৪ বার পঠিত

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি সমুজ্জ্বল প্রদীপ। স্বমহিমাময় বিশ্ব দরবারে জানান দিলো বাংলাদেশ নামক সবুজ শ্যামল ভূখন্ডের ১৯৫২ এবং ১৯৭২ এর মাধ্যমে কাদা মাটির মত নরম বাঙ্গালী প্রয়োজনে কতটা বীরদর্পে জেগে উঠতে পারে। কেউ কি ভাবতে পেরেছিলো ভিতু, কাপুরুষ পরিচয়ে পরিচিত বাঙ্গালী জাতি পাকিস্তান নামক অবাস্তব একটি রাষ্ট্রের জন্মের ৬ মাস না যেতেই অবাস্তব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার মাতৃভাষার অধিকার অর্জনে গর্জে উঠবে?  তারপররের কিছু বছর যেতে না যেতেই বাঙ্গালী জাতি আবার ফুলে ফেঁপে অগ্নিকুন্ডে রূপ নিয়ে সামরিক জ্ঞানশূন্য,  মাথায় গামছা বেঁধে ২১ এর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মরণাপন যুদ্ধ করে মাত্র নয় মাত্র স্বাধীনতা আনবে। জৈষ্ঠরসের মতই স্বাধীনতার রস পান করে বাঙ্গালী জাতি আবার প্রমাণ করল বাঙ্গালী বীরের জাতি।

সেই থেকে আজ পর্যন্ত স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের। ইতিহাসের ক্যালেন্ডারের পাতায় বাঙ্গালী জাতি বার বার কেটেছে বিজয়ের দাগ। পেয়েছি ৫২, পেয়েছি ৭১।  জাতীয়তাবাদের চেতনাবাহী প্রধান স্তম্ভ হলো ভাষা।  বাঙ্গালীই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য লড়াই করতে হয়েছে। যারা মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য পিচডালা কালো রাজপথ লাল করেছে তাজা রক্তে। সেই ১৯৫২, ২১ শে ফেব্রুয়ারি স্মরন হতেই চিত্তে ফুটে উঠে এক সম্ভাবনার স্কেচ। ভালোবাসা আর বীরত্বগাথার মধুর সুরে গেয়ে উঠি “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি,  আমি কি ভুলিতে পারি”। আসলে ভোলার মত নয়।  কিন্তু আমরা এই জায়গাটিতে কি এখন দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছি?

ছোটবেলার কথা স্পষ্ট মনে আছে ২১ শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে মধুর কত স্মৃতি।  ইতিহাসটা সঠিকভাবে জানতে পেরেছি বলেই হয়ত একুশের চেতনা এখনো বুকে ধারন করে আছি। কবি নজরুলের মত বিদ্রোহী সুর তুলতে চেষ্ঠা করি।  কাল পরিক্রমায় এক দীর্ঘশ্বাস বুকে জমাট বাধতে শুরু করেছে। যখন দেখি মাতৃভাষার পাঠ্যবই ভুলে ভরা। শহীদ দিবস, বিজয় দিবস এলোমেলো করে ফেলি।  আল্ট্রা-মডার্ন  বিদেশী ভাষার সংমিশ্রণে ভুলে যাচ্ছি রক্তের দামে অর্জিত মাতৃভাষা।

তাহলে কি আমরা আমাদের মূল্যবোধ হারিয়ে সেই নির্বোধ জাতিতে ফিরে যাচ্ছি? ইতিহাসে পাতায় কেন ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে বার বার? একুশ, বাহাত্তর এর চেতনা, ইতিহাস ভুলে যাওয়া জাতিই শুধু পারে বর্তমান বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে। যেখানে কুসংস্কার,  সাম্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, জংগীবাদ, দুর্নীতি ইত্যাদি দানা বাধতে পারে। আমাদের প্রয়োজন আমাদের অতীত গৌরবের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মকে জানানো। আরো একবার একুশ, বাহাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বিশ্ব দরবারে উপমা হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। 

স্বপ্নগুলো ছুঁইবে আকাশ, বিশ্ব জানবে-
“এই পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়”।

মহিউদ্দিন শ্রাবণ
ছাত্র
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com