শেষ পর্যন্ত এটাই হলো বিএনপির রাজনীতি

৩০ বার পঠিত

অবিচল বিএনপি। বিস্ময়কর হলেও ঘটনা তাই। নড়তে ভুলে গেছে দলটি। রাজনীতি নেই। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কিছু প্রেস ব্রিফিং। চেনা দুই-তিনটি মুখ। সংগঠন গোছানোর ঘোষণা এসেছিল আড়াই বছর আগে। ঘোষণাই সার। কাউন্সিল হয়ে গেছে তিন মাস। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির ঘোষণা আসেনি আজও। নির্বাহী কমিটির বেশির ভাগ নেতার নামও জানানো হয়নি। যদিও বলা হচ্ছে, শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করা হবে। বিএনপির ভেতরে কী হচ্ছে তা নিয়ে বিএনপি নেতারাও ওয়াকিবহাল নন। আন্দোলনে একের পর এক ব্যর্থতা দলটির নেতাদের একটি অংশের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যে কারণে দলে এখন আর খোলামেলা তেমন আলোচনা হয় না। বিএনপি নেতাদের একাংশের  দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে সরকার একটি নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো ক্রমান্বয়ে সরকারের সঙ্গেই সম্পর্ক পাকাপোক্ত করেছে।

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূর্তির আন্দোলনে ব্যর্থতা বিএনপি নেতাকর্মীদের গভীর হতাশায় ফেলে। পেট্রলবোমা আর অগ্নিসংযোগের কারণে বিএনপির ভাবমূর্তি সে সময় ক্ষুণ্ন হয়। দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশকে বড় মূল্য দিতে হয়। ক্রসফায়ার আর গুমের শিকার হন বেশ কিছু কর্মী। আর সরকারের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলে একটি অংশ। ঢাকায় আন্দোলন বেগবান করার জন্য সাদেক হোসেন খোকাকে সরিয়ে মির্জা আব্বাসকে নেতৃত্বে আনা হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের সময় তার ঠিকুজিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওইসময় তিনি কোথায় ছিলেন তা আজও রহস্য হয়ে রয়েছে। আন্দোলনে ব্যর্থতার পর দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু বেশির ভাগ জেলা-উপজেলার কমিটিই পুনর্গঠন করা হয়নি। কাউন্সিলে জাতীয় কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। নেতা নির্বাচনের গণতান্ত্রিক নীতিও সেখানে অনুসরণ করা হয়নি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারমুক্ত হয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এ নেতা দলে গতি ফেরাতে তেমন কোনো উদ্যোগ এখনও নেননি। সংগঠন ঠিক করতে তার কার্যক্রমও চোখে পড়ছে না।

বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের সময় দল পুনর্গঠনের একটি ছক তৈরি করা হয়েছিল। তারেক রহমান এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়া দেশে ফেরার পর সে পরিকল্পনার তেমন কিছুই কার্যকর হয়নি। শোনা গিয়েছিল, দলে ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার আনা হবে। সংস্কারের শুরু হওয়ার কথা ছিল খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় থেকেই। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই ভোজ-বাজির মতো পালটে যায় সবকিছু। সেই পুরনো বৃত্তেই বন্দি হয়ে যান তিনি। যে কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা শোনা গিয়েছিল তারাই আবার অবস্থান নেন তার চারদিকে।

প্রবল-প্রতাপশালী দুই/তিন জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হেনস্থার শিকার হন বিএনপির অনেক নেতা। তাদের কড়া মাশুলও দিতে হয়। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও বিএনপির হাইকমান্ড তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি অথবা নিতে পারেনি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্তের কথাও জানা যায় না। কোন্‌ অদৃশ্য শক্তিতে তারা এতো বলবান সে এক রহস্য বটে। দলের এই চরম দুঃসময়েও কিছু নেতার বিরুদ্ধে উঠেছে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ। তাদের ব্যাপারেও দল এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সার্বিক পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে। কারণ পরিস্থিতি উত্তরণে দলের মধ্যে কোনো কার্যক্রম নেই। বিএনপি আসলে ভবিষ্যতে কী করতে চায় সে ব্যাপারেও কোনো ধারণা তারা করতে পারছেন না। বেগম খালেদা জিয়াও আগের মতো এখন আর আপোষহীন ভূমিকায় নেই। দলের ব্যাপারে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে আর তা কার্যকর করতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন নানামুখী চাপে পড়েন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গ্রুপ তাদের পছন্দসই নেতাদের পক্ষে তদবির চালাতে থাকে। চলতে থাকে নানা প্রচার-অপপ্রচার।

দলের এই চরম দুঃসময়েও কিছু কিছু নেতার অবিশ্বাসী কর্মকাণ্ডের খতিয়ান খালেদা জিয়ার হাতেও রয়েছে। কিন্তু দলের ভবিষ্যৎ আর ঐক্যের কথা চিন্তা করে অনেক ব্যাপারেই তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। খালেদা জিয়ার একাধিক মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়টিও বিএনপির হাইকমান্ডের ওপর চাপ তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে বিএনপি তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃসময় অতিক্রম করছে। কিন্তু এ দুঃসময় কাটাতে বিএনপির থিঙ্ক ট্যাঙ্কের কোনো কর্মপরিকল্পনা রয়েছে কি-না অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকই এ ব্যাপারে সন্দিহান। সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কোনো কার্যক্রমই নেই বিএনপির। এতোদিন বিএনপির কর্মীরা অপেক্ষায় ছিলেন নতুন নেতৃত্বে দলে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেন কি-না তা দেখার। এখন তারা অপেক্ষায় রয়েছেন তা দেখতে যে, দলে আদৌ কোনো নেতৃত্ব আসে কি-না?

— নুর-ই আলম সিদ্দিকী

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নূর-এ আলম সিদ্দিকী, বিশেষ প্রতিনিধি #

নূর-এ-আলম ছিদ্দিকী, পিতা: হাজী মোঃ ওয়ায়েদ উল্লাহ, মাতা: মোসাঃ খোদেজা বেগম। জন্ম : ২ জুন, ১৯৭২, ৬৭/১, পাওয়ার হাউজ রোড, শিমরাইল কান্দি, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া। বর্তমানে অবস্থান : বাড়ী নং #১১২, ব্লক-সি, ওয়ার্ড নং- ২, কান্দিপাড়া, মিজমিজি, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। মোবাইল নম্বর : ০১৭১১-৩৯৬০৪৮, ০১৮১৯-৪৪৪০২২, ই-মেইল : rezveahmed121@gmail.com জাতীয় পরিচয় পত্র নং: ১৯৭২১২১০৪৬৮২২০৬০৩

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com