ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপিতে হ য ব র ল অবস্থা

৪২ বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৪ নির্বাচনী এলাকা কসবা উপজেলা, কসবা পৌরসভা, আখাউড়া উপজেলা ও আখাউড়া পৌরসভা ৪ টি সাংগঠনিক ইউনিট নিয়ে গঠিত এ নির্বাচনী এলাকা। এ নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক সচিব, সাবেক সাংসদ মুশফিকুর রহমান। বিএনপির ঘাটি ক্ষ্যাত এই নির্বাচনী এলাকাকে শ্বশানে পরিণত করেছে পাশাপাশি জেলা বিএনপিকে ও ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। কথিত আছে কসবা আখাউড়ার নেতৃত্বে আসতে কোরআন শপথ করে আসতে হয়।

জেলার ১৪ টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৪ টি এই নির্বাচনী এলাকায়। ১/১১ এর পর তার বিরুদ্ধে উথ্যাপিত সকল দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই পান তৎকালীন জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতার আত্নিয়ের মধ্যস্থতায়। সেই আত্নিয় এখন জেলা বিএনপির সভাপতি ২ জনে মিলে বিএনপি টাকে আওয়ামীলীগের নিকট লীজ দিয়ে দিয়েছে। বেশীর ভাগ সময় কানাডাতে অবস্থান করে। দেশে যে কদিন থাকেন শুরু করেন কমিটি বানিজ্য। তার টাকা কালেকশনের এজেন্ট গুলো হচ্ছে ইয়ার খান, মোঃ হানিফ ও তার পিএস কাম আখউড়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন। অনেকে আখাউরায় টাকে মিস্টার ১০ পার্সেন নামে ডাকে। আখাউড়া বীএণপীকে ধ্বংস করে হাত বেড়িয়েছে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দিকে।

আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি থেকে ইউনিয়ন কমিটি পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এবার ইউপি এবং পৌর নির্বাচনের মনোনয়ন বানিজ্যের পর পারি জমান কানাডায়। আর দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে যান আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পক্ষে। সাড়া দেশের বিএনপি নেতাকর্মীরা যখন মামলা হামলায় জর্জরিত হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ৫ ই জানুয়ারি নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদ মন্ত্রী আনিসুল হককে পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে অভিনন্দন জানান।

কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক হলে বিএনপির নিবেদন কসবা আখাউড়ার মাটি ও মানুষের নেতা, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাছির হাজারী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। পদে পদে তাকে বাধা গ্রস্ত করছেন তার কিছু নেতাকর্মী, পাশাপাশি নাছির হাজারীর সাথে কোন নেতাকর্মী যোগাযোগ রাখলে বিনা নোটিশে বহিষ্কার। বহিষ্কার করতে করতে দলটাকে নেতৃত্ব শুন্য করে ফেলেছে।এবারের পৌর এবং ইউপি নির্বাচনে এজেন্ট দেয়ার মত নেতা পাওয়া যায়নি। আর যারা এজেন্ট হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর তারা প্রকাশ্যে নৌকায় শীল মেরেছে। এ ব্যাপারে মুশফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে বলেন, ওরা আমার লোক ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। আওয়ামীলীগের সাথে আতাত করে মুশফিকুর রহমানের কাছের নেতাকর্মীরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তার একটা মাসিক কমিশন নিয়মিত পান। দল জাহান্নামে যাক তাদের সকল অপকর্ম জায়েজ।

তার আরেক সঙ্গী আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু আসিফ আহমেদ। মাগিবাজ হিসেবে আছে তার অসম্ভব খ্যাতি। চিকনা জাকির নামে একজন নিয়মিত মাগি সাপ্লাই দেয়, প্রতি রাতে ২/৩ জন মাগী লাগে। তার বউ থাকে ঢাকায়। তার এই ইতিহাস আলাদা একটা লিখায় লিগব। প্রশাসনের সাথে আতাত করে এটাকে বেশ্যালয় বানিয়েছে। আমাদের অনুসন্ধানী রিপোর্টে অনেক কিছু বাহির হয়ে এসেছে।

নবীনগর উপজেলা ও পৌর বিএনপি=

নবীনগর উপজেলা বিএনপিতে ২ টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে, কসবা আখাউড়ার ৪ টি মিলে মোট ৬ টি সাংগঠনিক ইউনিট মিলে এখন সাবেক দলছুট নীতি আদর্শহীন নেতারা হালের গড ফাদার দলটাকে একেবারে তলানিতে নিয়ে ছেড়েছে। আজ আবার ও রিয়াদ উপজেলা বিএনপি নিয়ে লিখতে বসেছি যে রহিমের সাথে আতাত করে কচি মোল্লা কাজী আনয়ার ও মঞ্জু মিলে দীর্ঘ ৪ মাস ঘুড়িয়ে আনুমোদন করেছে। সেই রহিম আজ প্রবাসী কোন কমিটিতে নেই তার অপকর্মের জন্য প্রবাসী নবীনগর উপজেলা, রিয়াদস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি এবং প্রবাসী সৌদিআরব কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতারিত। কাজী আনোয়ার, কচি মোল্লা ও মঞ্জুরা মিলে নবীনগর বিএনপি টাকে শেষ করেছে এটাকে করেছে জাতীয় আওয়ামীলীলীগ।

তখন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন রফিকুল ইসলাম ঈনু ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মান্নান, তৎকালীন ছাত্রনেতাদের মধ্যে ওবায়দুল হক লিটন,মামুনুর রসীদ, গোলাম হোসেন টিটু, মোঃ মলাই মিয়ার তত্বাবধানে তকদীর হোসেন জসীম ভাইয়ের সার্বিক সহযোগিতায় কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হত। আজ ওরা সকলেই নবীনগর বিএনপির রাজনীতি থেকে নির্বাসিত। এর মধ্যে নবীনগর উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নবীনগর পৌরসভার পৌর প্রসাশক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মলাই মিয়া বহিষ্কৃত।

সাবেক ভিপি গোলাম হোসেন টিটু আজ বিএনপির রাজনীতিতে অবহেলিত আর অনেক সাবেক ছাত্রনেতা যারা নবীনগর বিএনপিকে একটি শক্ত ভিতের উপর দার করিয়ে ছিল বেশীর ভাগই অবহেলিত। এখানে সকলের নাম উল্লেখ করতে পারছি না বলে দুঃখিত। এবার মুল প্রসঙ্গে আশা যাক ৯০ এর দশকের উদীয়মান ছাত্রনেতা তকদীর হোসেন জসীম যার সার্বিক সহযোগিতায় এবং তৎকালীন বিএনপি নেতাকর্মী সহ মোঃ মলাই মিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে নবীনগর উপজেলা বিএনপি একটা শক্ত ভিতের উপর দাঁড়ায়।

১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উদীয়মান ছাত্রনেতা তকদীর হোসেন জসীম বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পায়। হালের বিএনপি নেতা তৎকালীন জাতীয় পার্টি নেতা জাতীয় পার্টি নেতা কাজী আনোয়ার হোসেন ঋণ খেলাপির কারনে নির্বাচন করতে পারেনি শুধু মাত্র তকদীর হোসেন জসীম কে হারানোর জন্য আওয়ামীলীগের সাথে হাত মিলিয়ে তকদীর হোসেন জসীম কে পরাজিত করে। ২০০১ সালে ৪ দলীয় ঐক্যজোটের জাতীয় পার্টি না ফি প্রাথি হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হয় কাজী আনোয়ার হোসেন। জাতীয় পার্টি এরশাদের অবস্থা খারাপ দেখে এরশাদের সাথে বেঈমানি করে কাজী আনোয়ার হোসেন। এর পর জাতীয় পার্টির না ফির সাথে বেইমানী করে বিএনপিতে ভিড়ে যায়।

২০০৮ সাথে বিএনপি থেকে নির্বাচন করে জাসদ প্রার্থীর নিকট বিপুল ভোটে পরাজিত হয় কাজী আনোয়ার হোসেন। ১/১১ এর পর সংস্কার বাদীদের সাথে হাত মিলিয়ে মইন ফকরুদ্দিনের নিকট থেকে ব্যাপক সুবিধা নেয় এই কাজী আনোয়ার হোসেন জিয়া পরিবার তথা বিএনপির উপর যখন অসহনীয় নির্যাতন চলে তখন মইন ফখরুদ্দিনের সহযোগী এই কাজী আনোয়ার হোসেন। ১/১১ এর সময় জসীম ভাই, এডভোকেট মান্নান ও মলাই মিয়া সহ তৎকালীন বিএনপি যুবদল ছাত্রদল নেতারা দলের পক্ষে হাল ধরতে যেয়ে অসহনীয় নির্যাতনের সন্মুক্ষিন হয়। আজ তারা উপেক্ষিত আজ বিএনপি করে জাতীয় পার্টি থেকে আগত সুবিধাবাধি কিছু নেতা যারা  বরাবই আওয়ামীলীগের সাথে আতাত করে রাজনীতি করে এসেছে।

মোঃ মলাই মিয়া বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রায় ৩০০০০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়। কাজী আনোয়ারের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সিভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম বিজয়ী হয়। আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা প্রতিদ্ধন্ধিতায় আসতে পারেনি কারন কাজী আনোয়ার ও আওয়ামীলীগের আতাতের ফসল হচ্ছে ইঞ্জি শফিকুল ইসলাম যিনি আজ বিএনপির পরিচয় দেন না। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কারনে আজ মলাই মিয়া বিএনপি থেকে বহিষ্কার। বহিষ্কার হওয়ার তৃণমূল বিএনপির ব্যানারে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের নির্দেশে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে ও মলাই মিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে না কাজী আনোয়ার এর অদৃশ ইশারায়।

২০১৫ সালে নবীনগর উপজেলায় কোন আন্দোলন সংগ্রাম করতে পারেনি কাজী আনোয়ারের বিএনপি। ওরা আওয়ামীলীগের সাথে আতাত করে ব্যবসা বানিজ্য ভাগ বাটোয়ারা করে ভালই চলছে। সারাদেশে বিএনপির উপর যে নির্যাতন চলছে তার ছিটে ফোঁটা নেই। নবীনগর বিএনপিকে দেখলে সরকারের অংশই মনে হয়। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায় সরকার বিএনপি ভেঙ্গে আগামী নির্বাচনের জন্য নতুন দল করছে আর এ দলে আছে মুশফিকুর রহমান, কাজী আনোয়ার ও আবু আসিফ আহমেদ মনোনয়ন নিশ্চিত হলে তাদের অনুসারী অনেকেই মধ্যবর্তী এ নির্বাচনে যাবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আদিত্ব্য কামাল, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি #

Adithay Kamal House#412, Alhampara, Bhadughar 3400 Brahmanbaria, Bangladesh Mobile : 01713-209385

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com