আজ মঙ্গলবার, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৭শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ বিকাল ৫:৪৭ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

জামায়াত শেষ! এবার বিএনপির পালা

মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান #  ১৩ মে-২০১৬ প্রকাশিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ম্যাডামের একটি বিবৃতি প্রচারিত হয়েছে— ‘বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, আমি মনে করি- দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্যের বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে সবার অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচন ও জনগণের ভোটে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।’  এই খবর পড়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে যদি তাই হয় তাহলে এই নির্বাচনের বাধা কোথায়? বিএনপির কথামতো এখন সরকার যদি জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে তাহলে বিএনপি তথা ২০ দলীয় ঐক্যজোট কি সেই নির্বাচনে যাবে? সবার অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচন ও জনগণের ভোটে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প না থাকলে ম্যাডাম কি এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন? তবে কি বিএনপি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি থেকে সরে যাচ্ছে?

জানি না বিবৃতিটি প্রকাশ হওয়ার আগে বা প্রকাশ হওয়ার পরেও ম্যাডাম দেখেছেন কিনা এই মর্মে গত ১৩ মে ফেসবুকে আমার দেয়ালে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশিত হয়েছিল। হয়তো ম্যাডাম পরশুরামের সরকারের মোসাহেব ইউএনওর জন্য তার অফিসেরই কোনো সরকারি এজেন্টের কথা শুনে একটি বিবৃতি দিতে হয়তো কাউকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা অস্বাভাবিক কিছু নয়! কিন্তু সেই বিবৃতিটি যে ম্যাডাম পড়ে দেখেননি, সে ব্যাপারে মনে হয় অনেকেই এখন নিশ্চিত। কারণ এই বিবৃতিতে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে। বিবৃতিটি পড়ে অনেকের মনে হতে পারে যদি সরকার ‘সবার অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচন ও জনগণের ভোটে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার’ ব্যবস্থা করে তাহলে বিএনপি হয়তো সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে!

ঈশানকোণে মেঘ দেখা দিয়েছে। মাইনাস টু থিওরি আবার আলোচনায়। জামায়াত নেতৃত্বশূন্য। বিএনপিও কোণঠাসা, ঘরে আবদ্ধ। রাজনীতি বিবৃতি আর সংবাদ সম্মেলনে সীমাবদ্ধ। ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে— দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্যের বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে সবার অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচন ও জনগণের ভোটে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। অথচ সেই নির্বাচন কার অধীনে হবে তা কুয়াশাচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। বিএনপি তথা ২০ দলীয় ঐক্যজোট এই সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে যাবে কিনা তা এখনো পরিষ্কার নয়। কিন্তু এই বিবৃতিটি পড়ে জনমনে ধাঁধা সৃষ্টি হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। ম্যাডামের নামে এই বিবৃতি দিয়ে ম্যাডামের সরকারবিরোধী অবস্থানকেই প্রকারান্তরে দুর্বল করা হয়েছে। ইউএনও পর্যায়ের কর্মকর্তার পক্ষে ম্যাডামের বিবৃতি, যা বিবৃতির গুরুত্বকেই গুরুত্বহীন করেছে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের জাল আরও বেশি বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনের খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের ম্যাচ ফিক্সিংয়ে এখন তত্পর হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসরায়েল এখন নাক গলাচ্ছে এবং তারা ফাঁদে ফেলতে টার্গেট করেছে বিএনপিকে এবং বিএনপিও মনে হচ্ছে সেই ফাঁদে পা দিয়েছে। ইসরায়েলসহ বিশ্বের অনেক অপশক্তি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে তত্পর। তারা তাদের পাতানো খেলায় নিজ লক্ষ্য অর্জনে বিএনপিকে আবারও ব্যবহার করতে চায়। বিদেশি শক্তি তাদের অবস্থান থেকে বাংলাদেশে একটি জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায়, যার জন্য তারা উন্নয়ন বনাম গণতন্ত্র এই বিতর্কে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করে দিয়েছে। সরকারও মনে হয় মানসিকভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। সম্প্রতি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী (১২ মে-২০১৬) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ২১তম জাতীয় কনভেনশনে বক্তৃতার একপর্যায়ে তাদের উদ্দেশে বলেন, আগামী ২ বছর ৭ মাসের মধ্যেই নির্বাচন হবে, কাজেই এর ৩ মাস আগে চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সেদিন হাস্যরস করে বলেছিলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারলে অন্য কেউ ক্ষমতায় এসে ভিন্ন কথা বলতে পারে। যাই হোক, একটি বিষয় এই হাস্যরসপূর্ণ বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছে— সরকার আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা ছেড়ে দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত— এরকম একটি ধূম্র আবহ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন বলে মনে হয়। জনগণ যাতে তাড়াতাড়ি নির্বাচনের জন্য উদ্বিগ্ন না হয় সেই মেসেজটিও হাস্যরসের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন। এখন জনমনে বিশ্বাস সৃষ্টি হতে পারে যে, যথাসময়েই জাতীয় নির্বাচন হবে। তবে বলা যায় আগামী দুই বছরের মধ্যে সেই জাতীয় নির্বাচন হবে না। কারণ সরকার জামায়াত নেতাকে ফাঁসি দিয়ে এখন কিছুটা বেকায়দায় আছে। এই ফাঁসির কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে মার্কিন বলয়ে সরকার অনেকটা প্রতিকূল অবস্থানে আছে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই বছরের আগে সরকারের নির্বাচনের পথে হাঁটা তার স্বার্থের অনুকূল হবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া সরকার এখন গণতন্ত্রের বিকল্প উন্নয়নতন্ত্রের রাজনীতিতে বেশি উৎসাহিত। কাজেই বাধ্য না হলে হাতের প্রকল্পগুলো শেষ না করে জাতীয় নির্বাচনে সরকার উৎসাহিত হবে না বলেই বিশ্বাস। বরঞ্চ আগামী দুই বছরে সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রাখতে চূড়ান্তভাবে প্রচেষ্টা চালাবে। ইতিমধ্যেই সরকার জামায়াতকে রাজনীতির বাইরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। জামায়াত আওয়ামী লীগের জন্য আর কোনো মাথাব্যথা নয়। তবে জামায়াতকে কাবু করতে গিয়ে সরকার যে পরিকল্পিত ঝুঁকি নিয়েছিল, সফলভাবে সে কাজ করতে পারায় আগামী নির্বাচনে তার সুফল পেতে যাচ্ছে।

১/১১-উত্তর রাজনীতিতে সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথমেই তার লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়েছিল। ২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, সরকারি কর্মকর্তাদের সমর্থন ও নির্বাচনে তাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব এবং নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর ভীতিকে চিহ্নিত করে সরকার সে কারণগুলো দূর করার ব্যবস্থা নেয়। তাই ১/১১-উত্তর ক্ষমতায় এসেই সে তার নিজ সৃষ্ট তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতিই বাতিল করে দেয়। সেই সঙ্গে গত ৭ বছরে সরকার সরকারি কর্মচারীদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতার হিস্সা দেয়, যাতে তারা সরকারের রাজনৈতিক শক্তির সহায়ক হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি সামরিক বাহিনীকে সরকারের উন্নয়নের কাজে অংশীদার করে নেয়। সরকারের এই ত্রিমুখী সহযোগী সৃষ্টি করার পাশাপাশি একটি মারাত্মক রক্ষণাত্মক পদক্ষেপও গ্রহণ করে।

এই পদক্ষেপটি হলো প্রতিপক্ষের সঙ্গে বোঝাপড়া করার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পদক্ষেপ। শাস্ত্রে আছে প্রতিপক্ষ একের অধিক হলে একসঙ্গে সবার সঙ্গে না লড়ে একজন একজন করে লড়তে হবে। গ্রামের চাষিদের মাঝে একটি গল্প আছে। একজন কৃষক তার ইক্ষু খেতে গিয়ে দেখে দুজন মিলে মহানন্দে তার ইক্ষু ভেঙে খাচ্ছে। দুজনই বেশ মোটাতাজা, তাই তাদের দুজনের সঙ্গে একা লড়তে পারবে না তা কৃষক বুঝে গেছে। তখন পোশাক লক্ষ্য করে দেখল দুজনের একজন মুসলমান এবং অপরজন হিন্দু। কৃষক তখন মুসলমানের কাছে গিয়ে বলল, ভাই আখ খাবেন, খান, আসেন আমি ভেঙে দিই, আপনি ভালো করে খান। তবে আপনার কাছে আমার বিচার ওই হিন্দু বেটা আমার আখ ভেঙে খাচ্ছে কেন?

আসেন আমরা ওর বিচার করি। মুসলমান বেটা দেখল, এত ভালোই, আমাকে তো কিছু বলছে না, কাজেই হিন্দু বেটাকে বললে আমার কি? তখন কৃষক হিন্দু বেটাকে লাঠিপেটা করলে সে নীরব থাকে এবং কৃষকের ইক্ষু খেত ভেঙে ইক্ষু খাওয়ার জন্য ওই হিন্দু লোকটিকেও দোষারোপ করে। তখন হিন্দু বেচারা মার খেয়ে ইক্ষু খেত ছেড়ে দৌড়ে চলে যায়। হিন্দু লোকটি মার খেয়ে চলে যাওয়ার পরে কৃষক স্বমূর্তি ধারণ করে মুসলমান লোকটিকে বলে— শালা, ওই বেটা হিন্দু মানুষ, আমার জমিতে একটি ইক্ষু খেয়েছে, ঠিক আছে, একজন হিন্দু মানুষ আমার জমির ইক্ষু খেতেই পারে, তুই বেটা মুসলমান হয়ে আমার ইক্ষু খেলি কেন? এই বলে আচ্ছামতো ওই লোকটিকে উত্তম-মধ্যম বসিয়ে দিল। তখন ওই বোকা মুসলমান তাকে বাঁচানোর মতো আর তার পাশে কাউকে পেল না।

এই ছিল আমাদের কৃষকের গল্প। যার একশত ভাগ সফলতার সঙ্গে প্রয়োগ করেছে বর্তমান চৌকস সরকার। প্রথমে ধরেছে জামায়াতকে। বেটা তুই রাজাকার। তুই কেন এদেশে রাজনীতি করবি! বিএনপিকে বলেছে, ভাই, আপনারা মুক্তিযোদ্ধা, আপনারা কেন এই রাজাকারদের নিয়ে রাজনীতি করবেন! এই দাওয়াইয়ে খুব কাজ হয়েছে। বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে ১৯ দল ২০ দল করে, ক্ষমতায় গিয়ে একসঙ্গে চেটেপুটে রস খেয়েছে, তখন জামায়াত রাজাকার, সেটা মনে হয়নি! কিন্তু জামায়াতকে যখন নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে তখন বিএনপির মেউ মেউ শব্দ, আমরাও রাজাকারের বিচার চাই, তবে সেই বিচার সূক্ষ্ম হতে হবে! এখন তো সব ফাঁসি হয়েই গেছে, এখন বিচার সূক্ষ্ম হলেই কি না হলেই কি? এবার অপেক্ষা করেন। এখন আপনাদের পালা!

বিএনপি ফেঁসে গেছে। বিএনপিতে এখন সৎ সাহসী নেতা  নেই। সবাই ম্যাডামের অকর্মণ্য স্তাবক। তৃণমূল বিএনপির কর্মীরা হতাশ। বিএনপির সব পর্যায়ের নেতৃত্ব ভুল লোকদের হাতে। সরকারের চালে দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচনে যাওয়ার ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দেওয়ার আলামত ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস চরম আকার ধারণ করেছে। বেশির ভাগ নেতা জনবিচ্ছিন্ন। ছাত্র ও যুবসমাজ দিগ্ভ্রান্ত। কৌশল, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের অভাবে সরকারি দলের সঙ্গে লড়তে পারছে না। ফলে তারা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। সবাই চরম আস্থাহীনতায় ভুগছে। কারও নিরাপত্তা নেই।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে ম্যাডামের নির্বিকার অবস্থানের জন্য। তাছাড়া ম্যাডাম নিজেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি মনে হয় সাহস হারিয়ে ফেলেছেন। সব ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব একা ম্যাডামকেই নিতে হচ্ছে। অনেক বড় বড় নেতা ম্যাডামের সামনে অনেক বাগাড়ম্বর বুলি আওড়ান কিন্তু কোনো জেলায় গিয়ে নেতা-কর্মীদের সামনে কথা বলতে পারেন না। নতুন পদে আসীন কোনো নেতাই এখন পর্যন্ত কোনো জেলা বা উপজেলায় গিয়ে একটি জনসভাও করতে পারেননি। শুধু ম্যাডামের সামনে বড় বড় বুলি। সবাই বসে আছে, ‘কবে শেখ হাসিনা সরবে (!) আর আবার আমরা চেটেপুটে খাব’!

এদের দিয়ে হবে না। ম্যাডামকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ম্যাডামের কোনো বাহিনীর দরকার নেই। ম্যাডামের নিরাপত্তা ম্যাডাম নিজেই। যারা ম্যাডামের নিরাপত্তার কথা বলে ভয় দেখায় তাদের জানিয়ে দেওয়া উচিত, সরকারের নিরাপত্তাও ম্যাডামের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। দেশে-বিদেশে সবাই জানে ম্যাডামের কিছু হলে এই সরকার এক মুহূর্তের জন্যও টিকে থাকতে পারবে না। কাজেই সরকার তার নিজ অস্তিত্বের জন্যই ম্যাডামের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখবে। তবে সরকার ম্যাডামকে জনগণের কাছে যেতে দেবে না। তাই ম্যাডামকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি জনগণের মাঝে কীভাবে যাবেন। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। নষ্ট করার মতো সময় এখন হাতে নেই। তাই নিবেদন সব নেতাকে ঢাকা ছেড়ে নিজ এলাকায় যেতে নির্দেশ দেওয়া হোক।

সব নেতাকে এলাকায় গিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে বলা হোক। সরকার পতনের পুরনো ধ্যান-ধারণার রাজনীতির সাবেকি ঢং থেকে বেরিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতির চর্চা এবং সৎ, দক্ষ নেতৃত্বের মূল্যায়নের রাজনীতি শুরু করতে হবে। সরকার পতনের তথাকথিত আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যমূলক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারের মেয়াদ বিশ্বব্যাপী সুনির্দিষ্ট। সরকারও একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর ক্ষমতা হস্তান্তর করতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। তাই নির্বাচনই হলো এই সরকার পরিবর্তনের এখন একমাত্র গ্রহণযোগ্য উপায়, যা অনেকের বিশ্বাস। সরকার পতনের আন্দোলন নয়, সঠিক রাজনীতির স্বার্থে বিএনপিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় আন্দোলন। বর্তমান রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব নতুন জটিলতা সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রীর এমপি বানানোর অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা পরিহার করে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এমপিরা প্রধানমন্ত্রী বানানোর গণতান্ত্রিক রাজনীতি জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে, যা অনেকে মনে করেন। প্রচলিত মনোনয়ন পদ্ধতি পরিহার করে দলের স্থানীয় নির্বাচকমণ্ডলীর প্রত্যক্ষ ভোটে দলের এমপি প্রার্থী নির্ধারণ করার রাজনৈতিক চর্চাই দেশের বিদ্যমান দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্যের দুঃসহ পরিস্থিতির অবসান চিরকালের জন্য ঘটানো সম্ভব বলে জনগণের বিশ্বাস। সেই সঙ্গে সবার অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচন ও জনগণের ভোটে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।  জনগণ সেদিনের অপেক্ষায় যেদিন জাতীয় নেতারা জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে সমর্থ হবে। বিডিপ্রতিদিন

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com