আজ চট্টগ্রাম বিএনপির কর্মী সমাবেশ

শংকা আর উত্তেজনার মাঝেই আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কর্মী সমাবেশ। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় মহানগর বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনের মাঠে এ কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দীঘর্দিন যাবত নগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকার হতাশা ও ক্ষোভ থেকে সমাবেশে যে কোন ধরনের সংঘাতের আশংকা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বুধবার দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং মঙ্গলবার উত্তর জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে দুটি সমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পারিণত হয়েছে আজকের সমাবেশ।

বিগত কিছু দিন যাবত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন দলের নেতাকর্মীরা। অনেকে কমিটি গঠনের জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করারও হুমকি দিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনেরও মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে বিএনপির আজকের সমাবেশ। যেকোন ধরনের সংঘাত, ভাংচুর, নাশকতা মোকাবেলায় পুলিশ প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে মহানগর বিএনপি নেতারা এমন কোন সংঘাত মারামারি কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেও সমাবেশকে সফল করতে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভাগুলোতে এই বিষয়টিকে প্রধান্য দিয়ে হানাহানি ও দলীয় কোন্দল এড়াতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

আলাপকালে নগর বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মহানগর বিএনপির আজকের কর্মী সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, সমাবেশে আসার সময় এবং সমাবেশস্থলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, দলের সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য কোন নেতার ছবিযুক্ত ব্যানার বা ফেস্টুন নিয়ে কর্মী সমাবেশে প্রবেশ করা যাবে না। আমন্ত্রিত অতিথি এবং স্থানীয় নেতাদের নাম ঘোষণা ছাড়া অন্য কোন নেতা মঞ্চে উঠতে পারবেন না।

দলের উল্লেখিত তিন শীর্ষ নেতা ছাড়া আর কোন নেতার নামে শ্লোগান দেওয়া যাবে না। মিছিল নিয়ে কর্মী সমাবেশের মঞ্চের সামনে যাওয়া যাবে না। যে যেখানে স্থান পাবেন সেখানে অবস্থান নিবেন। বিগত দিনের মত মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থল ত্যাগ করার প্রবনতা পরিহার করে সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমাবেশস্থলে থাকার ব্যপারে স্ব-স্ব ওর্য়াড, থানার দায়িত্বরত নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। কর্মী সমাবেশে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ভিডিও ফুটেজ দেখে তার বিরুদ্ধে সংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা সমাবেশের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা, মারামারির আশঙ্কা করছি না। তারপরও আমরা সর্তকতামূলক কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে বিশঙ্খলা এড়ানো যায়। তিনি বলেন, অন্য জেলার মত আমাদের মহানগরীতে তেমন কোন দলীয় কোন্দল নেই। আমরা সব নেতারা মিলেমিশে কাজ করছি।

বিএনপির সমাবেশে নিরাপত্তা এবং আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি’র কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, বিএনপি যেহেতু তাদের দলীয় অফিসের সামনে সমাবেশ করবে সেহেতু নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তাবে। আমরা তাদের সমাবেশে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না। তবে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হলে এবং তারা মাঠের বাইরে চলে আসলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কোন ধরনের নাশকতার চেষ্টা হলেই পুলিশ অ্যাকশনে যাবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৮৮ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com