‘স্বার্থবিরোধী চুক্তি এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না’ : ব্যারিস্টার মওদুদ

এই সংবাদ ১০০ বার পঠিত

জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। শনিবার ( ০৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবি এবং জঙ্গিবাদ দমনে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন।

মওদুদ আহমেদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী গতকাল ভারত সফরে গেছেন। গণমাধ্যম বরাতে শুনতে পাচ্ছি সেখানে অনেক গুলো সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার জন্য দুটো সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। অথচ কি স্বাক্ষর করছেন আমরা তা জানি না। তবে এই কথা বলা দরকার, প্রতিরক্ষার জন্য যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবেন তাকে সমঝোতা বলেন আর চুক্তি বলেন দুটো একই কথা অর্থ্যাৎ দুটো রাষ্ট্রের মধ্যে কমিটমেন্ট। কাজেই আপনি (প্রধানমন্ত্রী) এমন কিছু করবেন না যাতে করে আমাদের দেশের স্বার্থ হানি ঘটে। কারণ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোনো ধরনের সমঝোতা বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে মওদুদ বলেন, আজকে দেশে কোনো গণতন্ত্র নাই, রাজনীতিও নাই। আর সে কারণেই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান। আমরা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। এবং আমরা সব সময় বলে এসেছি এটা যদি বৈশ্বিক কোনো সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন, সবাইকে আহ্বান জানান কিন্তু আমাদের (বিএনপি) কে আহ্বান জানান না। তাই একটি কথা খুবেই স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ছাড়া জঙ্গিবাদ বিষয়ে কোনো জাতীয় ঐক্য কখনও সম্ভবপর নয়। এটা তিনিও (প্রধানমন্ত্রী) জানেন, দেশবাসীও জানেন। ফলে যদি এই জঙ্গিবাদ সত্যিকার অর্থে নির্মূল করতে চান তাহলে সরকারের উচিত হবে জঙ্গিবাদকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহিত করে সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা।’
 
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জঙ্গিবাদ উচ্ছেদের নামে নিরীহ মানুষ ও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। এটা বন্ধ করুন। এর প্রতিক্রিয়া দেশের প্রতিটি মানুষের মনে ভীষণভাবে দাগ কেটেছে। সেকারণে যারা আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করি তাদের উচিত হবে এ সমস্ত বিষয়গুলো সকলের কাছে তুলে ধরা। এবং দেশের মানুষকে এবিষয়ে আরও সর্তক করে তোলা।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন জঙ্গিবাদ চলে যাবে। আর সেজন্য দরকার সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার। কারণ আমরা সবাই জানি ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশে কোন ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুটো জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

বিএনপির নিবন্ধন প্রসঙ্গে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘অনেকে আজ বলে থাকে যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির নিবন্ধন চলে যাবে। কথা হচ্ছে নিবন্ধন থাকুক আর না থাকুক সেটা বিষয় নয়, বিএনপি মনে করে এই মূহুর্তে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন আর স্থায়ী পর্যায়ের নির্বাচনের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। জাতীয় নির্বাচনে সরকারের পরিবর্তন হয়। আর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারের পরিবর্তন হয় না। আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সমঝোতা সংলাপের মাধ্যমে আলোচনা চাই, সমাধান চাই। দেশের মানুষ যাতে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পায়। তবে আওয়ামী লীগ যদি সমঝোতার পথ বন্ধ করে দেয় তাহলে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট এবং ১৬ কোটি মানুষের জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প থাকবে না।’

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফুর রহমান প্রমুখ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com