জঙ্গিবাদ জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় সরকার : মির্জা ফখরুল

৮৯ বার পঠিত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার জঙ্গিবাদের সমাধান চায় না। আমরা (বিএনপি) বারবার বলেছি জঙ্গিবাদ নিমূর্লে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার এটা চায় না। বরং এটাকে জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়।’ শনিবার ( ২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় এক আলোকচিত্র প্রর্দশনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি  এ অভিযোগ করেন। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল।

প্রতিদিনের ঘটনায় মানুষ প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে তিন-চারটি ঘটনা ঘটেছে, আত্মঘাতী বোমা হামলাও হয়েছে। অথচ সরকার এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্যে নিয়ে আসছেন না। সংশ্লিষ্ট একেকটি প্রতিষ্ঠান একেক রকমের বক্তব্য দিচ্ছে। দেখতে পেয়েছি গতকালের আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় একদিকে বলা হলো- এটার সঙ্গে আইএস, অন্যদিকে বলা হচ্ছে, এই ঘটনা পূর্বের ঘটনার মতো নয়। কাজেই প্রশ্ন থেকে যায়, যে মানুষটি আত্মঘাতী বোমাতে নিহত হলো সে কি নিহত হওয়ার জন্যই আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তাই এ ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য বক্তব্য না এলে জনগণের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হবেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো কিছু ঘটলেই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বিএনপিকে দোষারোপ করেন। অথচ জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা অনুসন্ধান না করে, সঠিক সত্য উৎঘাটন না করে যদি এ ধরনের উক্তি করা হয় এবং যাদের এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে গ্রেফতার করে হত্যা করা হয় তাহলে কোনো দিন সত্য প্রকাশিত হবে না। ফখরুল আরও বলেন, ‘বিএনপি বারবার দাবি জানিয়েছে যে, জঙ্গিবাদের সঠিক সত্য বের করুন, কারা এই জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত এবং মদদ দিচ্ছে। কারণ জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মোকাবেলা করতে না পারলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐক্য তৈরি করুন। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার মাসের পরপরই ভারত সফরে যাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী ছিলাম যে, আমাদের পানির সমস্যা সমাধানের এজেন্ডা দেখতে পাবো। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা জানি না কি বিষয়ে আলোচনা হবে। কী চুক্তি হবে, কোন সমঝোতা স্মারক হবে। পত্রপত্রিকায় দেখছি, তিস্তার পানি চুক্তি হওয়ার কোনো রকম সম্ভবাবনা নেই। তাহলে কী জন্য ভারত যাচ্ছেন তিনি। আমরা কি ভারতকে সহায়তা করতে নাকি আমাদের সমস্যা সমাধান করতে যাচ্ছি। এখন আলোচনায় এসেছে সামরিক চুক্তি। অতীতের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ধরনের সামরিক চুক্তি বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত নয়। এবং এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর বিএনপি একারণেই বারবার বলছে এখনও বলছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।’

২৫ মার্চরে গণহত্যাকে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ২৫ মার্চে ভয়াবহ গণহত্যা ঘটেছিল। এবং হাজার হাজার মানুষকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হত্যা করেছিল। স্বাধীনতার যে দাবি উঠেছিল, মুক্তির যে দাবি উঠেছিল তাকে থামাতেই এ গণহত্যা চালানো হয়। কিন্তু স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় এদেশের মানুষ দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। অথচ আজকে সেই বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই। এমনকি কয়েকদিন ধরে যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে মনে হয় বাংলাদেশের কোনো সরকার নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার কাজে নিয়োজিত সংক্রান্ত ফ্লোরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বেশকিছুদিন আগে এই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে যায়। পত্রপত্রিকা মারফত জানতে পারলাম যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে ব্যাংকে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং বাইরে কেউ জড়িত। তাই সন্দেহ করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে যে, ইচ্ছাকৃতভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ তলায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক রাটষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের আলোকচিত্র জাতীয়তাবাদী যুবদল জীবন্ত করার চেষ্টা করেছে। একটি কথা মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সেই প্রতিষ্ঠান যারা শহীদ জিয়ার আর্দশ, দর্শনকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছে। এবং তারা মানুষের পক্ষে সবর্দা সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের দুঃসময়। মানুষ তার মৌলিক অধিকার গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলেছে। জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছিল সেখানে তিনি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে জনগণ যখন তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্র পরিচলানা করবার জন্য তখন তিনি বাংলাদেশকে নতুন করে নির্মাণ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে ছেন।

জিয়াউর রহমান আজকের যে বাংলাদেশের ভিত্তি সৃষ্টি করেছিলেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, যে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে লুণ্ঠন করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, জিয়াউর রহমান সেই গণতন্ত্রকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রে রূপ দিয়েছেন। অবরুদ্ধ অর্থনীতিকে সচল করেছেন। মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছেন। দুর্ভাগ্য আজকের সরকার, আওয়ামী লীগ এবং কুচক্রীমহল জিয়াউর রহমানকে সঠিক মূল্যায়ন করতে চায় না বরং অবমাননাকর মন্তব্য করে। অথচ ২৬ মার্চ যদি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন তাহলে স্বাধীনতাযুদ্ধ কবে শুরু হতো বলা যায় না। কারণ জাতি যেভাবে দিক নির্দেশনাশূন্য হয়ে পড়েছিল তখন কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব আহবান জানাননি।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র নেই দাবি করে তিনি বলেন, কোনো অধিকার নেই। কথা বললেই মামলা হয়, গ্রেফতার করা হয়। দলের কেউ আইন সম্মত ভাবে স্লোগান, মিছিল, প্রতিবাদ করতে গেলে তখন তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। বিগত দিনে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলের দু’হাজারের ওপর নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক। আজকে মিছিল করতে দেয় না। সভা করতে পুলিশের অনুমতি নিতে হয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com