গ্যাসের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত : মির্জা ফখরুল ইসলাম

১২৯ বার পঠিত
লাগামহীনভাবে রাজস্ব আদায় করতেই সরকার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করেছে করছে বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। দলটি বলছে, এক বছরের ব্যবধানে আগামী ১ মার্চ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক, অনৈতিক এবং ‘গণবিরোধী। এ সকল গণবিরোধী সিদ্ধান্ত জনগণ মানবে না। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনতিক কার্যালয়ে তাৎক্ষনিক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কোনও কর্মসূচি দেওয়া হবে কিনা, সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘বল্গাহীনভাবে রাজস্ব আদায় করতেই সরকার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে অল্পসময়ের মধ্যেই বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়ানো হতে পারে।’

তিনি বলেন, জনগণকে জিম্মি করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া এ সিদ্ধান্ত অনৈতিক, অযৌক্তিক ও গণবিরোধী। দেশের জনগণ সরকারের এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নেবে না। আমরা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের আনুকূল্যতুষ্ট ব্যবসায়ীদের এলপিইজি আমদানির সুযোগ করে দিতেই একটি লাইসেন্সরাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে সরকার। এর ফলে প্রতিযোগিতাহীন বাজারে কিছু মুখচেনা ব্যক্তি অনার্জিত মুনাফা গুনবেন। জনগণ শোষণের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হবে।’

তিনি দাবি করেন, ‘এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মানতে গিয়ে একদিকে গ্যাসখাতের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণের ওপর বর্ধিত দামের চাপ পড়ছে। আসলে সরকার রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করতে গিয়েই দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে সবক্ষেত্রে করের বোঝা বৃদ্ধির অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে।’ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের সাধারণ মানুষ নানামুখী সমস্যায় পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে, বেড়ে যাবে জীবনযাত্রার খরচ, গণপরিবহন ভাড়া। উচ্চমূল্যে গ্যাসের দাম পরিশোধ করতে গিয়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে শিল্প-কারখানা।

তিনি বলেন, সরকারের এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে শিল্পখাত দারুণভাবে ধাক্কা খাবে। আমাদের গার্মেন্ট খাত ভারত ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। যার নেতিবাচক প্রভাব শিল্পখাতের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে বাধ্য। সুতরাং, এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানো যাবে না।

দাম বাড়ানোর পরিবর্তে গ্যাসের সিস্টেম লস কমানো ও অপচয় রোধের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাইকার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিটন সার উৎপাদনে গ্যাস খরচ হওয়ার কথা ২৫ হাজার ঘনফুট। আমাদের দেশে বেসরকারি খাতে প্রতি টন সার উৎপাদনে গ্যাস খরচ হয় ৪০ হাজার ঘনফুট। অন্যদিকে সরকারি খাতে প্রতি টন সার উৎপাদনে গ্যাস খরচ হয় ৪০/৫০ হাজার ঘনফুট গ্যাস।

এই বল্গাহীন অপচয় রোধ না করে দফায় দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। সরকারের এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আ ন হ আখতার হোসেন ও ইসমাইল জবিউল্লাহ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com