পদ্মায় দুর্নীতি হয়নি: আদালতের রায়ে মুখে তালা সমালোচকদের

নোভা খন্দকার: দেশ নয় রাজনৈতিক স্বার্থই তাদের কাছে বড় কথা। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের ভাবমূর্তির দিকে খেয়াল রাখে না বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ও কিছু বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) । সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে তারা অনেক ক্ষেত্রই বিশ্ব দরবারে দেশবিরোধী মন্তব্য করে থাকে। তার জলজলে প্রমাণ এশিয়ার বৃহত্তম বহুমুখী দ্বিতল বিশিষ্ট পদ্ম সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে। এমন মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। সমালোচকদের মুখে এখন তালা।

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে প্রথম দিকে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন করবে বলে চুক্তিও হয়। জাপানের জাইকাও প্রকল্পে সহয়তার জন্য চুক্তি করে। কিন্তু সে সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও দেশি- বিদেশি এনজিও দুর্নীতির অভিযোগ তোলে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটসহ কয়েকটি বাম রাজনৈতিক দল এর প্রতিবাদে সভা-সমাবেশও করে। এক পর্যায় বিশ্ব ব্যাংক সরকারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। এর কদিন পর জাইকাও সহয়তা চুক্তি সময়িকভাবে স্থগিত করে। বাংলাদেশ সরকারও বিশ্বব্যাংককে না বলে দেয়।

বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ২০১০ সালে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ সম্পর্কে নিজেদের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আরসিএমপিকে অনুরোধ জানায়। এ সময় বিএনপি নেত্রী বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক করেন। সে সময়ই বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজে দুর্ণীতি হচ্ছে। বিভিন্ন মিডিয়াতেও এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হয়।

ট্রান্সপেরেনসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবিসহ বেশ কয়েকটি এনজিও বিএনপির সুরে কথা বলে। সংবাদ সম্মেলনও করে তারা। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এক ফেসবুক বার্তায় তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এখন আদালতের রায়ের পর তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, এটা আদালতের বিষয়। তাই এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারছিনা। নানা ঘটনার পর এক পর্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থায়নেই হবে। দেশের অনেক মানুষ সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে টাকা দেয়।

দেশের বিষয় নিয়ে অন্যদেশের কাছে অভিযোগ করা সম্পর্কে সড়ক, যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা এ কাজটি করেছে তাদের দেশপ্রেম নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন জাগে। পদ্মা সেতুর উপড় দিয়ে শুধু আওয়ামী লীগের লোকজন যাবেনা। সব দলমতের মানুষই যাতায়াত করবে। তার চেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের একটি বৃহৎ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ঘটবে। যাতায়াত ব্যবস্থার র‌্যাপিড চেঞ্জ হবে। নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে। রেললাইন বসছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা দেশের জন্য কাজ করে- তারা দেশের মানুষের সহয়তা ও বুদ্ধি-পরামর্শ নিতে পারে। কাজে ভুল হলে দেশের মানুষের কাছ থেকে ভুল শোধরানোর উপায়ও বের করতে হবে। যারা কাজ করে তারা অভিযোগ করেনা। আর নিজের দেশ নিয়ে যারা অন্য দেশের কাছে অভিযোগ করে- তাও আবার সত্যি নয় , তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না।

তিনি বলেন, কানাডার আদালতের রায়ের পর আজ তারা কী বলবে? মিথ্যা নিয়ে কিছু দিন চিৎকার করা যায়। কিন্তু সত্যটা এ সময় চিৎকারের মাঝ দিয়েই বেরিয়ে আসে। সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, যারা এ দেশের অবকাঠামো ও মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন চায় না- এমন গুটি কয়েক মানুষ ছাড়া দেশের কোটি কোটি মানুষ পদ্মা সেতুর জন্য দোয়া করছেন। আল্লাহ একজনের দোয়া নিশ্চয় শুনবেন। আর আমাদের চেষ্টা- সব মিলিয়েই নির্ধারিত সময়েই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, এ নিয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই। তবে আমি আবাক হচ্ছি- এখনও কেন বেগম জিয়া বলেননি- কানাডার আদালতের বিচারকের উপর তার আস্থা নেই।

 
বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে যারা একই সুরে কথা বলেছিলে, তাদের মধ্যে সিপিবির মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, হায়দার আকবর খান রনো, গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, টিআইবির চেয়ারম্যান ড. ইফতেখারুজ্জামান, সুসাশনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধীকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। এরা সবাই একই ধরনের মন্তব্য করেন- নো কমেন্টস। এর বেশি কেউই কোন মন্তব্য করতে চাননি।

এর আগে জাতীয় সংসদে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন আটকাতে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগসাজশকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সংসদে বক্তৃতাকালে বলেন, আমাদের দেশের কোনো এক স্বনামধন্য পত্রিকার সম্পাদক এবং ড. ইউনূস মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে লবিইং করিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের টাকা আটকে দেয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

কানাডার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিন গ্রুপের তিন কর্মকর্তাকে পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের একটি আদালত। স্থানীয় সময় শুক্রবার ওই তিন কর্মকর্তাকে খালাস দিয়ে রায় দেন বিচারক ইয়ান নর্ডহেইমার।

–যমুনা নিউজ
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
১৩৯ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com