শিবির-ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগের বড় নেতা

১১২ বার পঠিত

নববার্তা রিপোর্ট :

আদর্শের দিক থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করলেও শিবির ও ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মীরা পক্ষ বদলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ দিচ্ছেন। শুধু ছাত্রলীগ নয়, মূল দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদেও জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় যোগ দিচ্ছেন বলে সারাদেশ থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত-বিএনপি ও শিবিরের নেতাকর্মীদের দলে অন্তর্ভুক্তি আওয়ামী লীগের জন্য অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

 

শিবির কিংবা ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রলীগ হয়ে যাওয়া নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা হলেও বিষয়টি এখন আর কানাঘুষা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

 

সর্বশেষ মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রদল নেতা শিহাব আহমেদ’র অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ছাত্রলীগের ভেতরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে

 

সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে গত সোমবার কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকে চার সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি সংক্রান্ত ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, শিহাব আহমেদ (দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা) এর ওপর আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।’

তদন্ত কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে উক্ত রিপোর্ট দপ্তর সেলে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

শিহাব আহমেদ’র ফেসবুক টাইমলাইনের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সম্প্রতি ভাইরাল হয়। এই পোস্টে দেখা যাচ্ছে, শিহাব ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন।’ 

২০১৩ সালের ১৩ আগস্টের একটি পোস্টে দেখা গেছে, শিহাব লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগকা বাচ্চা কাভি নেহী আচ্ছা জো ভি আচ্ছা, ও ভি শুয়োরকা বাচ্চা।’

 

এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে তিনি নিকট অতীতেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ইস্যুতে ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষে ছাত্রদলের পক্ষ হয়ে আতাউর রহমান শক্ত ভূমিকা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।   

 

আতাউর রহমানের ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসের একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়েও সামাজিক মাধ্যমসমূহে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। সেই পোস্টে আতাউর রহমান লিখেছিলেন, ‘সাপকে বিশ্বাস করা যায়,  আওয়ামী লীগকে নয়।’

 

আরেকটি ঘটনায় জানা গেছে, ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি তানভীর হোসাইন রুমী ছাত্রলীগের উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ অর্জনের প্রক্রিয়ায় আছেন। ইদানীং পোস্টার ছেপে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তার মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন।       

 

ছাত্রলীগে শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগকে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এমন অনেক অভিযোগ পাচ্ছি। তদন্ত করে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে’।

 

 

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ইতোমধ্যেই ছাত্রলীগকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

 

 

শুধু ছাত্রলীগ নয়, মূল দল আওয়ামী লীগেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা দলে দলে প্রবেশ করছেন। ২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিএনপি-জামায়াত জোটের দুই শতাধিক নেতাকর্মী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের হাতে নৌকা তুলে দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

 

এদের মধ্যে একজন হলেন একাধিক নাশকতা মামলার অভিযুক্ত আসামি জামায়াত নেতা ও বারঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মো. আবুল খায়ের। এই জামায়াত নেতার সাথে আওয়ামী লীগে আরও যোগদান করেন বিএনপি নেতা ও সদ্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জেলা পরিষদের ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল বাসার, বারঘরিয়া ইউপি সদস্য নেতা সেমাজুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্যরা। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে যোগদান জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ।

 

একই জেলায় ২০১৬ সালের অক্টোবর ২ তারিখে আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন হত্যা ও নাশকতাসহ একাধিক মামলার আসামি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মাওলানা সোহরাব আলী ও জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আফরোজ জুলমাত আলী, জামায়াত নেতা নবাবগঞ্জ মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ-হেল-কাফী ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঠিকাদার মসিদুল হক মাসুদ, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মোতাহার আলী, সাবেক পৌর কমিশনার শওকত আলীর নেতৃত্বে সদর উপজেলার আলাতুলি, চর অনুপনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের জামায়াত-বিএনপির পাঁচশ নেতাকর্মী।

 

২০১৫ সালের সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে, সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

সারাদেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় যখন ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের রোকন নওশের আলী যুবলীগ আয়োজিত এক সভায় আওয়ামী লীগের  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের লোকজন আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে ঢুকছে।’ তিনি বলেন, ‘এরা এখন কিছু করবে না। ধীরে ধীরে এরা বলয় বাড়াবে। ভেতরে ভেতরে এরা দলবল বাড়াচ্ছে। এই লোকগুলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের ভেতরে অন্তঃকলহ সৃষ্টি করে। বিভক্ত করবে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা এদের মূল উদ্দেশ্য। আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে এখন অনেক সাবধান হতে হবে। অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে হলে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে নিজেদের অনেক সৎ ও আন্তরিক হতে হবে। এসব অনুপ্রবেশকারীকে কৌশলের সাথে মোকাবেলা করতে হবে।’

 

সূত্র : ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার

Bogra Offce

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com