বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

১১৬ বার পঠিত

বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যেই মূল দল আওয়ামী লীগের জন্মের এক বছর আগেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গৌরব ও ঐতিহ্যের এ ছাত্র সংগঠনটি। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নেতৃত্বেই ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়।

তৎকালীন সময়ের তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এক ঝাঁক মেধাবী তরুণের উদ্যোগে সেদিন যাত্রা শুরু করে ছাত্রলীগ। ৬৯ বছরে ছাত্রলীগের ইতিহাস হচ্ছে জাতির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রগতির সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে অধিকার আদায় করেছে। ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধীদল হিসাবে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’র আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা পরে আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে এ দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বাঙালি জাতির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাঙালির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, ৫৪’র সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ পরিশ্রমে যুক্তফ্রন্টের বিজয় নিশ্চিত, ৫৮’র আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা, ৬৬’র ৬ দফা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া, ৬ দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে পাক শাসকের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বন্দীদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা, ৭০’র নির্বাচনে ছাত্রলীগের অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ, স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের অসামান্য অবদান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এখনও দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান জাতীয় রাজনীতির অনেক শীর্ষনেতার রাজনীতিতে হাতেখড়িও হয়েছে ছাত্রলীগ থেকে। গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ৬৯ বছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগ চারদিন ব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, সকাল ৮টা ১ মিনিটে কার্জন হলে কেক কাটা এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শাহবাগ, মত্স্য ভবন, কাকরাইল, নাইটিঙ্গেল ও পল্টন মোড় হয়ে ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হয়ে গুলিস্তানে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রায় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। বৃহস্পতিবার (০৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে হবে রক্তদান কর্মসূচি। আর শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) বিকালে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ ও পরে টিএসসিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে ছাত্রলীগ। এছাড়া ৮ জানুয়ারি সকাল ১০টায় কলাভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে।

এদিকে ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি উৎসবমূখর করতে এবার নেয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে আঁঁকা হচ্ছে সাত দশকের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস- ‘চিত্রপটে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’। এসব ছবিতে ইতিহাস আর সমকালীন অর্জনগুলো তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে। আছে বই উত্সবের চিত্র, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। রোকেয়া হল সংলগ্ন দেয়ালে আঁঁকা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়-এর ছবি। অন্য ছবিগুলোতে আছে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা; ‍মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান আর ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রলীগের ভূমিকার কথা। সংগঠনের কর্মীরাই রঙ তুলি দিয়ে দেয়ালগুলো ‘ইতিহাসে মুড়িয়ে দিচ্ছেন’।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। এ জন্য সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন সফল করতে মোট নয়টি উপ-কমিটি করা হয়েছে। সেসব কমিটি প্রস্তুতি শেষ করেছে।

তারা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ। এর ১৭ হাজার নেতাকর্মী কেবল মুক্তিযুদ্ধেই আত্মাহুতি দিয়েছেন। ছাত্রলীগ সবসময় অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এ সংগঠন শুধুমাত্র ছাত্রসমাজের নয়, দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রিয় সংগঠন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সঙ্গে দেশের সকল মানুষকে যুক্ত করে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com