কাদের বিকৃত মস্তিস্কের মানুষ: গয়েশ্বর

৩৪ বার পঠিত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একজন বিকৃত মস্তিস্কের মানুষ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শনিবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এক মাস গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ করা পর শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে ৪৪ মিনিটে যে ১৩ দফা সুপারিশমালা উপস্থাপন করেছেন, ওবায়দুল কাদের তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রত্যাখান করেছেন। এতে বুঝা যায় তিনি কতটা বিকৃত মস্তিস্কের মানুষ। না হলে এই উত্তরটা কয়েক সেকেন্ডে দেওয়া যায় না।

গয়েশ্বল বলেন, ইসি গঠনে খালেদা জিয়ার সুপারিশ নাকচ করা ছাড়া আওয়ামী লীগের উপায় নেই। অবাধ, সুষ্ঠুও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতির কাছে প্রত্যাশিত হলেও আওয়ামী লীগের জন্য অভিশাপ। কারণ দেশের কতগুলো মৌলিক বিষয় আছে, সে ব্যাপারে আমরা এখনও ঐক্যমতে আসতে পারিনি। প্রতিটি জিনিসকে যার যার মতো করে দেখি। অথচ কিছু জিনিস আছে যে গুলো যার যার মতো চলে না। সবাইকে একমত হতে হয়। সেই বিষয়ে একমত হতে পারিনি বলেও হয়তো কোনও কোনও বিষয়ে ঐক্যমত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারি না। তবে একটা কথা ঠিক সরকার যত লিবারেল হবে গণতন্ত্র তত শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী দরকার নেই বলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আইভী যে কথা বলেছেন সেটা ঠিক। কারণ নৌকায় উঠলে আর কোনো কিছুর দরকার নেই। নৌকায় উঠলে মুজিব বাহিনী ছাড়া আর কোনো বাহিনীর দরকার পড়ে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারকে দেখেছি ট্রাফিক জ্যাম সমাধানে, রাস্তা ঘাট পরিস্কার, ব্রীজ নির্মাণে সেনাবাহিনী নামায়। আর যেই জনগন ক্ষমতার উৎস সেই জনগণের এক মাত্র ক্ষমতা ভোট  নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন পড়ে না। কাজেই এ থেকে বুঝতে হবে মতলববাজী আর গণতন্ত্র এক নয়। তাই গণতন্ত্রকে সঠিক রাখতে হলে উদারনীতি গ্রহণ করতে হবে। সবার সঙ্গে একমত না হতে পারলেও তার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান দিতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। তবে তা ছিনতাই করে নয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সংবিধানের জন্য দেশ নয়, দেশের জন্য সংবিধান। কিন্তু নির্বাচন কমিশন পরিবর্তনে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না, আর উনি (হাসিনা) আজীবন ক্ষমতায় থাকতে সংবিধানকে বলবেন এটা বাইবেল, কোরআন শরীফ এটা পরিবর্তন করা যাবে না। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের অধিকার বুঝে, খুন, গুম, লুটপাট বুঝে, কিন্তু তাদের দায়িত্বটা বুঝে না। বুঝে না কারণ তারা তো জনগণ দ্বারা নির্বাচিত নয়। জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। জবাবদিহি করবে তাদের প্রতিবেশির কাছে যাদের দয়ায় তারা ক্ষমতায় আছে এবং ক্ষমতায় থাকবে। সে কারণেই আলোচনা, নির্বাচন কমিশনসহ কোনো ব্যাপারে আওয়ামী লীগ একমত হবে না। কারণ একমত হলে যদি ক্ষমতা যায় সে বোকামী তারা করবে কেন?

তিনি বলেন, আইভীর পক্ষে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংসদ শামীম ওসমানকে ডেকে পাঠিয়েছেন। অথচ শামীম ওসমান একজন সংসদ সদস্য। সিটি নির্বাচনে ভোট দেওয়া ছাড়া তার (শামীম)  কোনো অংশগ্রহণ সঠিক নয়। তাহলে তো দেখা যাচ্ছে নির্বাচন শুরুর আগেই আচরণ বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com