আফরোজা খান রীতার স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি

১৪০ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার # মানিকগঞ্জে বিএনপি রাজনীতির দলীয় কোন্দল আজ কোনো নতুন বিষয় নয়। বিএনপি’র প্রয়াত সফল মহাসচিব এ্যাড. খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং দানবীরখ্যাত সাবেক দপ্তর বিহীন মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নু মিয়ার মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি’র রাজনীতি নিয়ে দলীয় কোন্দল সবারই জানা কথা। যার ফলোশ্রুতিতে জেলা বিএনপি’র কমিটি অনেক বার আটকে গেছে। দলের দুঃসময়ের কান্ডারী খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন যখন বিএনপি’র মহাসচিবের দায়িত্বে তখন মুন্নু-দেলোয়ারের দন্দ কিছুটা কমলেও তোজাম্মেল হক তোজা গ্রুপিং এবং রাজনীতিতে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠেন। এ্যাড. খোন্দাকার দেলোয়ার হেসেনের শেষ নির্বাচনে  আওয়ামীলীগের সঙ্গে আতাত করে তোজাম্মেল হক তোজা সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দেলোয়ার সাহেবকে নির্বাচনে সাধারন মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মহাসচিব থাকা অবস্থায় গ্রুপিংয়ের কারনে মানিকগঞ্জে জেলা বিএনপি’র কমিটি করতে পারেননি।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন পরলোক গমন করলে মানিকগঞ্জ জেলায় তিনটি পরিবার যাথাক্রমে (১) এ্যাড. খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন (২) হারুনার রশিদ খান মুন্নু মিয়া এবং (৩) শামসুল ইসলাম খান (নয়ামিয়া) বিএনপির এই তিন সফল নেতার পুত্র-কন্যা দিয়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি কেন্দ্র হতে ঘোষিত হয়। এই ১৬ সদস্যবৃন্দ বসে তিন মাসের মধ্যে জেলা বিএনপি’র একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি করবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে সাধারন সম্পদক বারবার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সভাপতির একগুয়েমীর কারনে গত তিন বছরেও তারা জেলা বিএনপি’র পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি। যা এই ১৬ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটির পূর্ণ ব্যার্থতার চিত্র। মূলত আফরোজা খান রীতা তার নিজস্ব লোক দিয়ে কমিটি করতে চাইলে দ্বন্দের কারনে ১৬ সদস্যের কমিটি একত্রে বসে একটি মিটিংও করতে পারেনি।

হারুনার রশিদ মুন্নু মিয়ার কন্যা আফরোজা খান রীতাকে জেলা সভাপতি, শামসুল ইসলাম খান (নয়ামিয়ার) পুত্র ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তকে সাধারন সম্পাদক এবং খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই পুত্র খোন্দকার আক্তার হামিদ ডাবলুকে সহ. সভাপতি ও ড. খোন্দকার আকবার হোসেন বাবলুকে কৃষি বিষয়ক সম্পাদকসহ এস এ কবির জিন্নাহকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৬ সদস্যের একটি কমিটি কেন্দ্র হতে অনুমোদিত হয়েছিল। উল্লেখ থাকে যে, ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, আফরোজা খান রীতার চেয়েও সিনিয়র হবার পরও তাকে ডিঙ্গিয়ে তদবীর করে আফরোজা খান রীতা সভাপতি হয়েছিলেন। মঈনুল ইসলাম খান শান্ত সিনিয়র হবার পরও বিব্রত বোধ করা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বিএনপির চেয়ারপার্সনের অনুরোধে মঈনুল ইসলাম খান সাধারন সম্পাদকের পদে অধিষ্ঠিত থেকে দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে শান্তর দুঃখও কম নয়। রীতিমত তিনি বিব্রত বোধ করেন কিন্তু শান্ত সাহেব দলীয় স্বার্থে তিনি সব ভুলে রীতার একছত্র দাপটের কাছে ভদ্রতার কারনে রাজনীতি করতে থাকেন।

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মনোনয়ন বানিজ্য নিয়ে গ্রুপিং মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আফরোজা খান রীতা টাকার দাম্ভিকতায় ১৬ সদস্যের কোরাম সংখ্যক সদস্যদের পাশ কাটিয়ে একাই এস এ কবীর জিন্নাহ ও তোজাম্মেল হক তোজাকে সঙ্গে নিয়ে দেলোয়ার পরিবার এবং নয়ামিয়ার পরিবারকে বাদ রেখে এমনকি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাকে পাশ কাটিয়ে একাই সমস্ত জেলায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে অযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেন। তার সাঙ্গপাঙ্গদের অনেকেই মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে বলে সমস্ত জেলায় জনশ্রুতি রয়েছে। পুরনো গ্রুপিং নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খলেদা জিয়ার আস্থাভাজন হওয়াতে ধরাকে সরা জ্ঞান করে জেলা সাধারন সম্পাদকসহ জেলা নেত্রীবৃন্দের কোরাম সংখ্যকদের বাদ রেখে সমস্ত জেলার ৭ থানায় তার নিজস্ব লোকদের দিয়ে থানা কমিটি ঘোষনা করেন। অনেক স্থানে আফরোজা খান রীতার ফ্যাকটরির কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দিয়ে কমিটি করেছেন। এমনকি ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে আফরোজা খান রীতার বীরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। রীতার ঘোষিত কমিটির নেত্রীবৃন্দ এখন বিএনপির নেতা কর্মীদের জনরোশে পড়ে অফিসে বসতে পারছেন না।

অযোগ্য এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তি দিয়ে প্রতিটি থানায় কমিটি করে মানিকগঞ্জে বিএনপি’র রাজনীতি ধ্বংসের গভীর সড়যন্ত্রে আফরোজা খান রীতা জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানিকগঞ্জের এক নেতা বলেন- ‘মানিকগঞ্জের তিনটি সিটেই রীতার নির্বাচনে অংশ নেয়ার আকাঙ্খা থেকেই তিনি নিজের লোকদের দিয়ে থানা কমিটি করেছেন’। যা দলীয় গঠনতন্তের পরিপন্থী।

অপরদিকে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তর বাসভবনে কোরাম সংখ্যক নেত্রীবৃন্দ দফায় দফায় বৈঠক করে এই অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রেজুলেশন করে বিএনপি’র হাই কমান্ডকে অবগত করেছেন। ৬ অক্টোবর বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানিগঞ্জ জেলা নেত্রীবৃন্দকে ডেকে এনে বৈঠক করেন। দিনব্যাপী উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পরে এস এ কবীর জিন্নাহ, আতাউর রহমান আতা এবং এ্যাড. আজাদকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে বিএনপির মহাসচিব আফরোজা খান রীতার সেচ্ছাচারী কর্মকান্ড বন্ধ করবেন বলে জানান এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেন।

উল্লেখ থাকে যে, তোজাম্মেল হক তোজাকে দলীয় পদ থেকে বহিঃষ্কার করা হলেও বহিঃষ্কার আদেশ প্রতাহার না করে বিএনপির গঠণতন্ত্রের বাইরে তাকে জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক করা হয়। পরে তিনি নিজেই ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ দলীয় পদ হতে পদত্যাগ করেন। এই পদত্যাগি ব্যক্তিই এখন আফরোজা খান রীতার দক্ষিণ হস্ত।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন- দলের সকল নেতা কর্মীদের সাথে তিনি কর্মচারীসুলভ মনোভাব পোষন করেন। হারুনার রশিদ খান মুন্নু মিয়া যৌবনের পারম্ভে একটি প্রেসে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত থাকলেও একজীবনে শ্রমিকের মাসিক বেতন এবং বোনাস ঠকিয়ে তিনি আজ পাহাড় সমান টাকার মালিক বোনে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে তিনি দানবীর হিসেবে খ্যাত। এ বিষয়ে কেউ এই প্রতিবেদকের নিকট মুখ খুলতে রাজি হননি।

বর্তমান সরকারের আমলে ঘোষিত তালিকাভূক্ত ঋণ খেলাপী আফরোজা খান রীতা সরকারের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে তার ব্যবসায়িক কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে চালানোর পাশাপাশি একশত কোটি টাকার সুদ মওকুফ করান। আফোরাজা খান রীতা একজন বৃটিশ নাগরিক বলে জানা যায়। তাই টাকার জোরে ধরাকে সরা জ্ঞান করে মানিকগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি ধ্বংস করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আন্দোলন সংগ্রামে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা  মোকদ্দমা নেই। চোখে পরার মত রাজ পথে কোন দলীয় ভুমিকাও নেই।

সর্বপরী বর্তমানে মানিকগঞ্জে বিএনপি’র দূর্গ বলে পরিচিত রাজনৈতিক এলাকাটি গ্রুপিং এবং একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়া-ছুড়ির কারনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। এতে করে করতালি বাজাচ্ছে জেলা আওয়ামীলীগের নেত্রীবৃন্দ।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংবাদটির সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান– তৎকালীন সময় পূর্ণ কমিটি গঠণ করা সম্ভব হয়নি কারণ- সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো: মোতালেব হোসেন এবং দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সালামকে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রীতা বহিস্কার করতে চাইলে এরা কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিবের স্বাক্ষরিত ১৬ সদস্যে ঘোষিত ব্যক্তি হওয়ায় মঈনুল ইসলাম খান শান্ত তাদের বাদ দিতে অসম্মতি জানালে রীতা সংক্ষুব্ধ হয় বলে জানান। পরে শান্ত সাহেব এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় মহাসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও উল্লেখিত দু’জনকে বহিঃষ্কার করা অগণতান্ত্রিক হবে বলেও মত প্রকাশ করে ছিলেন। সভাপতি রীতার এ ধরনের বহু এক চেটিয়া সিদ্ধান্তের কারনেই গত তিন বছরেও বিএনপির কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পায়নি।

ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন– “একদা বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি আজ ভাংগনের দারপ্রান্তে। শিল্পপতি হারুনুর রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রীতা দলকে পরিচালনায় ব্যক্তিস্বার্থ ও পরিবারতন্ত্রকে প্রধান্য দিতে গিয়ে কেন্দ্রের নির্দেশনা অমান্য করে জেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনসহ বিভন্ন উপজেলার বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠন করেন। এসব কমিটি গঠনকালে পার্টির গঠনতন্ত্রসহ নির্দেশনা কিছুই মানা হয়নি। তাঁর স্বেচ্ছারিতা টাকার গরমের কারনে আজ জেলা বিএনপি সস্পষ্টত দু’ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে জেল-জুলুম, দ্বারা নির্যাতন, মামলা হামলাভোগী সাধারন নেতা-কর্মী এবং আর এক ভাগে তার নেতৃত্ব সুবিধা ভোগী জেল, মামলা-হামলা থেকে সম্পর্ন মুক্ত কতিপয় জেলা নেত্রীবৃন্দ। সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা ও স্থানীয় সরকার মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের কারনে মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনসহ বিভন্ন উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের চরম ভরাডুবি ঘটে যা ইতোপূর্বে কখনই ঘটেনি। বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারীখ্যাত মানিকগঞ্জের বিএনপির সাবেক সফল মহাসচিব  খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের  নাম ঠিকানা মুছে ফেলার জন্য হেন জঘন্য কাজ নেই যা জেলা সভাপতি আফরোজা খান রীতা করছেন না। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের নির্বাচনী  এলাকা মানিকগঞ্জ -১ (ঘিওর দৌলতপুর শিবলয়) এলাকায় তার নিজস্ব লোককে অবৈধ্য ভাবে কমিটিতে এনে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই পুত্র ড. খোন্দকার আকব হোসেন বাবলু ও এ্যাড খোন্দকার আব্দুল হমিদ ডাবলু কে  রাজনীতি থেকে মাইনাস করার জন্য এক গভীর স্বড়যন্ত্রে লিপ্ত এই জেলা সভাপতি আফরোজা খান রীতা”।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন– “প্রকৃত পক্ষে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে  ১৭/৭/২০১৩ তারিখে অর্থাৎ তিন বছর তিন মাস আগে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে ঐ কমিটির ষোলো জন নেতা-সদস্য একবারও একত্রে বসে মিটিং করতে পারেননি এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতেও পারেননি। এখন সভাপতি মনগড়াভাবে একা স্বৈরাচারী কায়দায় দল চালিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপিকে ধ্বংস করার পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি মো: আতাউর রহমান আতা উপজেলা পরিষদ ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ এর সভাপতি ও চেয়ারম্যান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জাগিয়ে যুবদল থেকে বিএনপি কমীর্দের একজন প্রতিষ্ঠা যুবদলের জেলা কমিটির সদস্য। দুই বার সদর থানা যুবদলের সভাপতি। একবার জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছয় বছর জেলা যুবদলের সভাপতি ছিলাম। মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির ঘাঁটি পূনরায় উদ্ধার করতে হলে আমার শ্রদ্ধাভাজন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিকট বিনীতভাবে প্রস্তাব করছি। অবিলম্বে জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে মাঠের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে একটি নতুন জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা ও সকল উপজেলায় এবং পৌরসভায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা জরুরি। এ আহ্বায়ক কমিটি সকল ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে অতঃপর ইউনিয়ন কমিটি গঠন করবে তারপর  কাউন্সিল ও সম্মেলন করে থানা কমিটি গঠন করলে দল শক্তিশালী হবে। কারো পকেট কমিটি দলকে শক্তিশালী করতে পারবে না বরং দূর্বল ও ধংস করবে”।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ কবির জিন্নাহ সাহেবের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সংবাদটি প্রশ্নবিদ্ধ বলে তার মন্তব্য জানাতে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। তিনি সময় সুযোগে সংবাদটির ভিত্তিহীনতার বিষয়ে তথ্য উপাত্য নিয়ে হাজির হবেন বলে সময়ক্ষেপন করছেন।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা জনাব জামিল সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান– মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠনের থানা এবং জেলা কমিটিগুলোতে আফরোজা খান রীতা কৌশল করে তার লোকজন বসিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপিতে একছত্র আধিপত্য বিস্তারের চক্রান্তে লীপ্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার টাকা ও ক্ষমতা এবং কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দের সঙ্গে সু-সম্পকের দাপটে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সহজে সাহস পায় না।

বিগত আন্দোলন সংগ্রামে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা মোকাদ্দমা নেই বলে অনেকেই অভিযোগ করে বলেন- আওয়ামীলীগের সঙ্গে আতাত করে রীতা মানিকগঞ্জের বিএপির রাজনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপর দিকে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন যুবদল ঘিওর থানা শাখার সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল আলীম খান মনোয়ার। তিনি বলেন- রীতা আপার মতের বাইরে মানিকগঞ্জে রাজনীতি করলে তাকে মানিকগঞ্জে প্রবেশ করতে দিবে না বলে হুমকী দিচ্ছে তার বাহিনীর লোকজন। এছাড়াও থানা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ে গনসংযোগ চালাতে গেলে কিংবা যে কোনো ধরনের কর্মী সংযোগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন রীতা আপার গুন্ড বাহিনী।

উপরোক্ত সংবাদটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠ সকলের মতামত জানার জন্য সকল ব্যক্তির নিকট ই-মেইলে সিসি আকারে সংবাদটি প্রেরণ করা হলে আফরোজা খান রীতার পক্ষের লোকজনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বারবার আফরোজা খান রীতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য জানতে এ প্রতিবেদক ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তোজাম্মের হক তোজার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদটির বিষয়ে পরে মন্তব্য জানাবেন বলে উল্লেখ করেন। পরপর তিন দিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার মন্তব্য জানতে স্বরজমিনে সংবাদ সংগ্রহকারী ব্যর্থ হয়েছেন। সংবাদটি যেহেতু স্পর্শকাতর তাই আরো তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী কিস্তিতে সংবাদটির ফলোআপ আকারে ছাপার জন্য সংবাদ সংশ্লিষ্ঠ সাংবাদিকগণ কাজ করছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com