বিএনপি নতুন কমিটিতে নেই উচ্ছ্বাস

৪৩ বার পঠিত

বিএনপির কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলেও নেতাদের মধ্যে নেই তেমন কোনো উচ্ছ্বাস। রোববার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দু-চারজন ছাড়া দেখা যায়নি শীর্ষ কোনো নেতাকে। অথচ রুহুল কবির রিজভী যখন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন, তখন দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর ছিল দলীয় কার্যালয়।

কমিটি ঘোষণার আগেও দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেলেও কমিটি ঘোষণার পরের দিনের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৫৯৪ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির মাত্র ৮ জনকে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসতে দেখা গেছে। এ ঘটনা হতাশ করেছে গণমাধ্যম কর্মীদের। সরেজমিনে থেকে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গতকাল শনিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫০২ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি কমিটি ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে ঘোষণা করা হয়, ১৯ সদস্যের জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল।

গত ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর তিন দফায় মহাসচিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, কোষাধ্যক্ষ, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোট ৪২ জনের নাম ঘোষণা হয়।

কাউন্সিলের ১০ দিন পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহাসচিব, রুহুল কবির রিজভীকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মিজানুর রহমান সিনহাকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আর কাউন্সিলের আগে চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যথাক্রমে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচিত হন।

ওই সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। রুহুল কবির রিজভী তখন নিয়মিত কার্যালয়ে আসতেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ পাওয়ার লক্ষ্যে তদবির করতে নেতাকর্মীরা  প্রায় প্রতিদিনই দলীয় কার্যালয়ে আসতেন। শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র দেশ থেকেই আসতেন তারা। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর একেবারে বিপরীত চিত্র।

রোববার সকালে দলীয় কার্যালয়ে আসেন দলের তিন সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন ও বেলাল আহমেদ। তাদেরকে ঘিরে কিছু নেতাকর্মীরও আগমন ঘটে। তারা দাপ্তরিক কিছু কাজকর্মও করেন। এরপর আসেন নির্বাহী সদস্য খালেদা ইয়াসমিন। পরবর্তীতে কার্যালয়ে আসেন নির্বাহী কমিটির নতুন তিন সদস্য ছাত্রদলের সাবেক নেতা ওমর ফারুক সাফিন, আবু বকর সিদ্দিক ও ওবায়দুল হক নাসির। সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীনও আসেন। তবে বিকেলের আগেই তারা সবাই কার্যালয় ত্যাগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাসে বিশাল কমিটি ঘোষিত হলেও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। পদ পাওয়ার পরও নেতারা যে সন্তুষ্ট না, দলীয় কার্যালয়ে না আসা সেটারই বহিঃপ্রকাশ।’

ঘোষিত কমিটিতে অনেকের পদোন্নতি হয়েছে, অনেকে আবার একইপদে বহাল রয়েছেন। তবে অবনমনও (ডিমোশন) হয়েছে অনেকের। সদ্য ঘোষিত কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক পদ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার চেয়ে শনিবারই মহাসচিব বরাবর চিঠি দেন বিগত কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম। তার অভিযোগ, ঘোষিত কমিটিতে তার প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে।

এদিকে, পদপ্রাপ্তির সাড়ে ৪ ঘণ্টার মাথায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোসাদ্দেক আলী ফালু। অবশ্য এজন্য চেয়ারপারসন বরাবর লেখা পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত ও শারীরিক কারণ দেখান তিনি। বিদায়ী কমিটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন ফালু।

জানতে চাইলে নয়াপল্টনে নিয়মিত আসা বিএনপির এক কর্মী বলেন, ‘কমিটির পরের দিনই সবাইকে নয়াপল্টনে আসতে হবে, এমনতো কোনো নিয়ম নাই। আস্তে আস্তে হয়তো নেতারা আসবেন। তবে কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে কোনো উচ্ছ্বাস নেই বলে স্বীকার করেন তিনি।

তিনি এও মনে করেন, ‘এখানে না আসলেও নেতারা হয়তো রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যাবেন। সকল ক্ষমতা তো সেখানেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি কার্যালয়ের একজন স্টাফ বলেন, ‘কমিটি ঘোষণার পর নেতারা দলীয় কার্যালয়ে আসেননি, এটাকে সেভাবে বড় করে দেখার কিছু নেই। সকাল থেকে শীর্ষ কোনো নেতাও তো কার্যালয়ে আসেননি। তাহলে অন্য নেতারা কাদেরকে উদ্দেশ্য করে এখানে আসবেন?’

তিনি আরো বলেন, রুহুল কবির রিজভী স্যার বিএনপি কার্যালয়ের প্রাণ। যখন তিনি ছিলেন তখন দলীয় কার্যালয়ে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। এখন তিনিও আসতে পারছেন না, নেতাকর্মীদেরও দেখা মিলছে না।’

গত ২৫ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলায় রুহুল কবির রিজভীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তারপর থেকে আর দলীয় কার্যালয়ে আসতে পারছেন না রিজভী।

এদিকে, বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হওয়ায় পরের দিন নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের উৎসবমুখর পরিবেশ থাকবে, এমনটা ভেবে সকাল থেকেই প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সংবাদ কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও কোনো নেতাকর্মী না আসায় দুপুরের মধ্যেই তাদেরকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com