খালেদা ও তারেকের পর কে ধরবে বিএনপি হাল ?

১৯ বার পঠিত

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির দুটি মামলার প্রতিসপ্তাহে শুনানি হচ্ছে। দ্রুত গতিতে মামলা এগিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর যত দিন যাচ্ছে খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়টি রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি থেকে একসময় বলা হয়েছিল খালেদা জিয়ার সাজা হলে দলের দায়িত্ব নিবেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। কিন্ত সে কথা এখন আর বলা হচ্ছে না। এখন বলা হচ্ছে দলের সিনিয়র নেতারা হাল ধরবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া অনেক সিনিয়র নেতাদেরকে বিশ্বাস করতে পারছে না। অনেক মনে করেন খালেদা ও তারেকের সাজা হলে দল নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েবে। আবার অনেকে মনে করেন তাদের সাজা হলে আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি আরো বেগবান হবে।

৩ মে দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে এক বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই, আর খালেদা জিয়ার যখন সাজা হবে তখন বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দায়িত্ব নেওয়ার বিএনপিতে অনেক যোগ্য লোক আছে। খালেদা জিয়ার পর দলের দ্বিতীয় ব্যক্তি তারেক রহমানের অবস্থান প্রবাসে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার দেশে ফেরার কোন সম্ভাবনাই নেই। তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে কয়েকটি মামলা। দু’জনের মামলারই যে কোন সময় নিষ্পত্তি হতে পারে বলে আইনজীবীদের ধারণা। এইসব মামলায় খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমানের সাজা হলে বিএনপি চরম নেতৃত্ব সঙ্কটে পড়বে বলে দলের নেতাকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

দলের একাধিক সূত্র দাবি করছে, ভবিষ্যত নেতৃত্বের অনিশ্চয়তায় কাউন্সিল করেও দলের গতি ফিরাতে পারেননি খালেদা জিয়া। উপরন্তু মাঠ পর্যায়ে চরম হতাশায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংগঠন চাঙ্গা করার লক্ষ্যে ইউপি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত লড়ে গেলেও ফল কিছু হয়নি। নির্বাচনে বিপর্যয়কর ফল এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে সংগঠন চাঙ্গা হওয়ার পরিবর্তে বরং ক্ষতিই হয়েছে বেশি। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের দীর্ঘ দিন পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে না পারার কারণে মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের কাছে অশুভ বার্তা যাচ্ছে।

দলের সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব, তারেক রহমান অনুসারীদের দৌরাত্ম্য এবং সর্বোপরি মামলা মোকদ্দমার ঝক্কিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। শুধু কেন্দ্রীয় কমিটি নয়, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত করেও দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা মহানগর কমিটি করতে না পারার কারণে আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের মধ্যেও হাতাশা। সব মিলিয়ে দলের বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে যুক্ত হয়েছে শীর্ষ দুই নেতার মামলা নিয়ে দুশ্চিন্তা। অদূরভবিষ্যতে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত হলে কে ধরবেন দলের হাল এ নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) ১৫টি মামলা থেকে মুক্ত হয়েছেন। অথচ আমার একটি মামলাও প্রত্যাহার হয়নি। উপরন্তু একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া চলছে। খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যে দলের নেতাকর্মীরা আরও নিশ্চিত হয়ে গেছেন, শীঘ্রই তারা নেতৃত্ব সঙ্কটের মুখে পড়ছেন।

বিএনপির এখনই দুই গ্রুপ বেশ স্পষ্ট। তারেক রহমানের অনুসারী তরুণ একটি গ্রুপ সব সময়ই সক্রিয়। দলের প্রবীণ নেতারা রয়েছেন অন্য দিকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে তারা তারেক রহমানের নেতৃত্ব পছন্দ করেন না। এনিয়ে দলের মধ্যে প্রায়ই নানা ঘটনা ঘটে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দুই কুল রক্ষা করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্তই থেকে যেতে হয়েছিল। দুই দিকের টানাটানিতে কোন রকমে সমন্বয় রক্ষা করে চলেছেন খালেদা জিয় নিজে। মামলায় শান্তি হয়ে গেলে এই সমন্বয় ভেঙ্গে পড়বে এটি নিশ্চিত। এ কারণে এখন থেকেই অনেক নেতা দল ছেড়ে অন্য দলে আশ্রয় নেয়ার পথ খুঁজছেন। কেউ কেউ রাজনীতি ছেড়ে দেয়ারও চিন্তা ভাবনা করছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুমাট ১৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা হচ্ছে পাঁচটি। বাকিগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় করা সহিংসতা, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির পিটিশন মামলা। মামলাগুলো যেভাবে দ্রুত চলছে, তাতে মনে হয় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ফলে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগে রয়েছে পাঁচটি মামলা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলাগুলো দায়ের করে। এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ও নাইকো দুর্নীতি মামলা সচল রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য জেরা এবং কেস ডকেট চেয়ে করা আবেদন খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপীল শুনানি ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। এর আগে ১৫ মে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার দুটি আবেদন খারিজ করে আদেশ দেয়। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে ২৬ মে আপীল করেন খালেদা জিয়া।

ধর্মীয় উস্কানি ও বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির অভিযোগের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com