অস্তিত্ত সংকটে শামা ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধি # সাবেক মন্ত্রী কে এম ওয়বাদুর রহমানের কন্যা শামা ইসলাম বেদিশা অস্তিত্ত সংকট তার পারিবারিক পরিচয় নিয়ে। দীর্ঘ দিন যাবত তিনি শামা ওবায়েদ নামে পরিচত ছিলেন। এবারের বিএনপির ৪২ সদস্যের যে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ অসন্তোষ বেড়েই চলছে। এরই মধ্যে তিনি দিশেহারা হয়ে পরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে টকশো তে তিনি ব্যাপক ভাবে পরিচিতি লাভ করেন। এর মধ্যে অবশ্য অনেক ইতিহাস আছে।

এরই মধ্যে নতুন করে তার অস্তিত্ত সংকট দেখা দিয়েছে নিজের পরিচয় নিয়ে। মেয়েরা সাধারণত বিয়ের পর স্বামীর পদবী ব্যবহার করে। এ বিষয়ে শামা ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার পিতা কে এম ওবায়দুর রহমান, তার নামের সাথে মিলিয়ে শামা ওবায়েদ ব্যবহার করি। আপনি কেন আপনার পিতার নাম ব্যবহার করেন বিয়ের পর মেয়েরা সাধারনত স্বামীর পদবী ব্যবহার করে, জবাবে তিনি বলেন এ দেশে অসংখ্য উদাহরন আছে শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার সন্তানরা কিন্তু তার পিতার পদবী ব্যবহার করে।তার মায়ের পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি নীরব থাকেন। একজন মাই একমাত্র বলতে পারেন তার সন্তানের পিতৃ পরিচয়। আপনার পিতা কে এম ওবায়দুর রহমান এটা আপনি কার নিকট থেকে জানলেন, নাকি আপনি পিতৃ মাতৃ হীন অনাথ।

এ পর্যায়ে তিনি বলেন আমি কে এম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান। কে এম ওবায়দুর রহমানের স্ত্রী সাহেদা ওবায়েদ এখন ও জীবিত আছে, জবাবে শামা জানান তার মা নেই।তাহলে সাহেদা ওবায়েদ আপনার মা নন, জবাবে শামা আবার ও না। কে এম ওবাদুর রহমান আপনার পিতা এত জোড়ের সহিত বলছেন কি ভাবে? এই প্রশ্নের সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র শিমুল বিশ্বাস এর সয্যা সঙ্গী হয়ে টাকার বিনিময়ে এত বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছে। সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায় জয়নাল আবেদিন ফারুকের হাত ধরে যাত্রা শুরু এখন তিনি শিমুল বিশ্বাসের রক্ষিতা।

আপনি বরাবরই পিতার আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতি করেন। আপনি আপনার পিতার কোন আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চান শেখ মজিবর রহমানের মৃত্যর দিন তার লাশের উপর পারা দিয়ে খন্দকার মোস্তাকের মন্ত্রী সভায় যোগদান, জেনারেল জিয়ার আমলে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে কারারুদ্ধ হন, তিনি জেল থেকে বের হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন,বিএনপির ক্ষমতাচ্যুত হলে জেনারেল এরশাদ কে এম ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে প্রেরন করে দুর্নীতির অভিযোগে। কারাগার থেকে সমযোতার মাধ্যমে বাহির হন। জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়ার গুঞ্জন উঠলে বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তখন তিনি বিএনপি ওবায়েদ নামে আলাদা দল ঘটন করেন।

পরে ৯৬ সালে আবার বিএনপিতে ফিরে এসে ফরিদপুর থেকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন, এর ও কোন জবাব আসেনি তার নিকট থেকে? আপনি কি ছোট বেলায় কখনো কারাগারে গেছেন,জবাবে বলেন কারাগারে গিয়েছে কার সাথে গিয়েছে মনে নেই, কোন প্রশ্নের সঠিক জবাব দেয়নি।এ ভাবেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারনে হাজারো পরিবার নিস্ব।অনেক পরিবারে অশান্তির কালো মেঘ নেমে এসেছে। কেউ হারিয়েছে আদরের সন্তান, কেউ হারিয়েছে স্বামী, আবার অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে পাগল প্রায়, শামার মত হাই সোসাইটির কল গার্ল অনেকের সয্যা সঙ্গী হয়ে টাকার বিনিময়ে সিনিয়র নেত্রীদের পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে।

দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন দলের এই দলের দুঃসময়ে শিমুল বিশ্বাস সহ কিছু নেতার সাথে বিশেষ সম্পর্কের কারনে শামা ইসলাম বেদিশাকে অতি মুল্যায়ন করা হয়েছে। এমন একজন বিতর্কিত জুনিয়র নেতার হাতে এত গুরুত্ব পূর্ণ দায়িত্ব দেয়া ঠিক হয়নি। তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিলম্বে তার আপসারন চায়।   শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের মতে, ঘোষিত কমিটির কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতার বিষয়টি হয়তো বিএনপি নেত্রী বুঝতে পেরেছেন। ফলে বাদবাকি কমিটি তিনি দেখে-শুনে সতর্কতার সঙ্গে দেবেন বলেই মনে হয়।

কমিটি ঘোষণায় দেরি হওয়ার এটি অন্যতম কারণ।গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কমিটি ঘোষণায় কেন দেরি হচ্ছে তা আমার জানা নেই। তবে যতদূর মনে হচ্ছে; খালেদা জিয়া ভয় পাচ্ছেন। কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল হবে—এর কূলকিনারা করতে না পেরে সম্ভবত তিনি এখন বসে আছেন। বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী বলে পরিচিত এই বুদ্ধিজীবীর মতে, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে ছেড়ে দিলে যা হবার তাই হয়েছে বিএনপিতে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্থায়ী কমিটিসহ অন্যান্য কমিটি যেকোনো দিন ঘোষণা হবে। চেয়ারপারসন এ নিয়ে কাজ করছেন দাবি করে তিনি বলেন, এ রকম বড় একটি দলে সব পর্যায়ে কমিটি সমন্বয় করতে হয়তো কিছুটা সময় লাগছে। তা ছাড়া কমিটি নিয়ে চেয়ারপারসন হয়তো বেশি সতর্ক বলেই দেরি হচ্ছে, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।  

 সূত্র মতে, নতুন কমিটিতে দুই মহিলা সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়েও দলের সর্বস্তরে কথা উঠেছে। বলা হচ্ছে এই দুজনকে পদায়ন করতে গিয়ে দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। অনেকেই কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়েদুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদের অবদানের কথা অনেকে স্বীকার করলেও হঠাৎ করে তাঁকে ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক করায় দলের ভেতরে-বাইরে প্রায় সবাই বিস্মিত। কারণ রাজনীতিতে তিনি নবীন। সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার আগে তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সভাপতি; যেটি আবার বিএনপির অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা হলো শামা নিজেই এত বড় পদ চাননি। দলে একটি আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদ পেলেই তিনি খুশি ছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। তাঁকে সাংগঠনিক সম্পাদক করায় দলে সিনিয়র-জুনিয়র সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সাবেক ছাত্র নেত্রীরা প্রায় সবাই এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ।

বাবা কে এম ওবায়েদুর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করা ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজাদা মিয়াকে এখন রাজনীতি করতে হবে শামার নির্দেশনায়। একইভাবে তিনবারের মেয়র ও এমপি রাজবাড়ী জেলার আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে করা হয়েছে সহসাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে তিনিও পদমর্যাদায় শামার নিচে চলে গেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর ওই দুই নেতাসহ অনেকেই শামার বিষয়ে খালেদা জিয়ার কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জানতে চাইলে শাহাজাদা মিয়া অবশ্য এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। আমদের প্রতিবেক তিনি বলেন, ‘আমি পদ নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমার নেতা ওবায়েদুর রহমানের মেয়ে শামা বড় পদ পাওয়ায় আমি খুশি।’ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, ‘এখন কিছু বলতে চাই না।

শিমুল বিশ্বাস কিভহু নেতার বিশেষ বিবেচনা করে তাকে শ্যামা ওবায়কে অতিমুল্যেইত ক তাজাক সময় হলে বলব।’প্রসঙ্গত, শামা ওবায়েদ ও বিলকিস শিরিনের বড় পদের উদাহরণ দিতে গিয়েই সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। বহু বছরের পরীক্ষিত নেতা শিরিন সুলতানা ও রেহেনা আক্তার রানু ওই দুজনের উদাহরণ টেনে তাঁদের চেয়ে সিনিয়র পদ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন খালেদা জিয়ার কাছে। আর এতেই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে খালেদা এখন শিরিনের বদলে আরেক মহিলা নেত্রী সুলতানা আহমেদের হাত ধরে হাঁটছেন, যা নিয়ে বিএনপিতে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।এদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার আগে বিলকিস শিরিন ছিলেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও মহানগরী মহিলা দলের সভাপতি। কিন্তু ওই জেলার সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র সাত-আটজন নেতাকে টপকে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। অনেকের মতে, শামার পদকে যৌক্তিক করতেই বিলকিস শিরিনকে একই পদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সবার সঙ্গে সদ্ভাব রেখে তিনি দলকে কতটা শক্তিশালী করতে পারবেন তা নিয়ে প্রায় সবারই সংশয় রয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৬১ বার পঠিত

আদিত্ব্য কামাল, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি #

Adithay Kamal House#412, Alhampara, Bhadughar 3400 Brahmanbaria, Bangladesh Mobile : 01713-209385

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com