প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রতিহিংসামূলক: মির্জা ফখরুল

এই সংবাদ ৩৩ বার পঠিত

সাম্প্রতিক কালে দেশে সংঘটিত গুপ্তহত্যার সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য, অসত্য বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য, অসত্য বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এই বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বিপন্নকারী। তার এই বক্তব্যে রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ, বিভাজনের পরিসর আরো বিস্তৃত হবে, জঙ্গিবাদ উৎসাহিত হয়ে আরো বেশি সংগঠিত ও তৎপর হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য জঙ্গিবাদকে রেহাই দেয়ার শামিল। আমি প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দৃঢ়প্রত্যয় সহকারে প্রত্যাখান করছি এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “জঙ্গিবাদ বিএনপি সমর্থন করে না বরং জঙ্গিবাদ নির্মূলে সব রকমের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। কারণ জঙ্গিবাদ দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আফগানিস্তান, পাকিস্তান, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে।”তিনি অভিযোগ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার বক্তব্যে বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে এবং না থাকলেও জঙ্গিদের মদদ দেয়। অথচ ৮ বছর যাবৎ ক্ষমতাসীন সরকার বার বার বলে বেড়াচ্ছে তারা জঙ্গিবাদ দমনে তৎপর, জিরো টলারেন্স। দেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আইএসের কথা উড়িয়ে দিয়েছেন কিন্তু আজ তাই চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত বলে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলেই কি তাহলে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হচ্ছে?” 

তিনি বলেন, “জঙ্গিরা মানবতা, সভ্যতা ও রাষ্ট্রের শক্র। এদের নির্মূলে বিএনপি সব সময় দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সরকার এতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটে যাওয়ার পরও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের এখনো খুঁজে বের করতে পারেনি। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডগুলোই প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটেছে। এ সমস্ত নারকীয় ঘটনার ন্যূনতম কোনো হদিস বের করতে না পেরে চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর এগুলোর দায় চাপাচ্ছেন।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি মনে করে এই সমস্ত নিখুঁত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া এবং এর সংঘটনকারীদের লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা অর্থ্যাৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতাশীলদের ঈঙ্গিত না থাকলে এটি কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।”তিনি অভিযোগ করে বলেন, “হেড অব দি গভর্নমেন্ট হিসেবে প্রধানন্ত্রীর কাছে যদি এতোই তথ্য থাকে তাহলে নাটোর উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন বাবু, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য পেলেন না কেন? বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের তথ্য, মর্মস্পশী রক্তাক্ত ঘটনার আগে প্রধানমন্ত্রী পাননি কেন? তখনও তো তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।”

মির্জা আলমগীর বলেন, “বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরুসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে অদৃশ্য করা হয়েছে। ঠিক যেভাবে বিএনপিসহ বিরোধীদলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিচারবহির্ভূত হতাকাণ্ডের শিকার করা হয়েছে। ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো তথ্য পাননি কেন?”

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com