বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্যই খালেদাকে সরানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার ● বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্যই খালেদাকে সরানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার দেশে আবার একদলীয় বাকশাল শাসন কায়েম করতে চায়। আজকে একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এটা কোনো দিন সম্ভব হবে না।

রবিবার বিকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠিাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৫তম মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনা বাহিনীর একদল বিপদগামী সদস্যের অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন।

রবিবার সভা অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অতিথি সারিতে বসে আলোচনা শোনেন। তার পাশে দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, বিএনপি সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ।

সভা পরিচালনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সভায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওপর কবি আল মাহমুদের লেখা কবিতা ‘ডানা ওয়ালা মানুষ’ আবৃত্তি করেন অ্যাডভোকেট সাবিনা ইয়াসমীন সীমা ইসলাম।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তৃনমূল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদেও নেত্রীকে একরকম মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই,১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত যে দুঃশাসনের মধ্য দিয়ে তারা দেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলো। আজকে তারা আবার গণতন্ত্রের মুখোশ পড়ে তারা একইভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায়।

দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে দলমত নির্বিশেষে সকলকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনে ঐক্যবন্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে তারা (আওয়ামী লীগ) বিনষ্ট করে দিয়েছে। সমস্ত প্রতিষ্ঠান একে একে ধ্বংস করে দিয়েছে। আজ বাংলাদেশ একটি অগণতান্ত্রিক, বদ্ধ শ্বাসরুদ্ধকারী একটি দেশে পরিণত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিনদিন আগে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে মিটিংয়ের ভিডিও ক্লিপ বের হয়েছে। মেন্দি এন সাফাদি নিজেই যখন বলছেন মিটিং হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ বলছে এটাকে বলছে এটা নাকি সাজানো নাটক। আওয়ামী লীগের লোক হলে সাজানো নাটক আর বিএনপির হলে নাকী রাষ্ট্রদ্রোহ। জয়কে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান, আমাদের দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক শওকত মাহমুদকে কেনো আটকিয়ে রাখা হয়েছে। আটকে রেখে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে- এর জবাবও সরকারকে একদিন দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, চার বছর রাষ্ট্রপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমান এমন কোনো ক্ষেত্রে নেই যেখানে তার স্পর্শ লাগেনি। জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের কাছে ছিলেন সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি ও নেতা। এদেশের জনগণ বিএনপির আর্দশ,দর্শন, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, সরকার যখন দেখেছে হামলা-মামলা দিয়ে বিএনপি বিভক্ত করা যাচ্ছে না, তখনই পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালিয়ে নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করতে চায়। এ ব্যাপারে সকলকে সর্তক থাকতে হবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন-এটা ঐতিহাসিক সত্য। আজকে এতো নির্যাতন, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, জেল-জুলুম, হত্যা-খুন হচ্ছে, কই আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির কিংবা ইউনিয়ন পর্য়ায়ের একজন নেতা তো শহীদ জিয়ার আর্দশ ছেড়ে আওয়ামী লীগ যায়নি। এখনো আমরা টিকে আছি। তাই নেতা-কর্মীদের বলব, হতাশ হওয়ার কিছু নেই্।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ব্যারিষ্টার শাহজাগান ওমর, আবদুল হালিম, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, হায়দার আলী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম, নাজিমউদ্দিন আলম, কবীর মুরাদ, শামা ওবায়েদ, অঙ্গসংগঠনের শাহ আবু জাফর, এম এ তাহের, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, আনোয়ার হোসেইন, হাফেজ আবুল মালেক, শাহ নেসারুল হক, নুরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
১৪ বার পঠিত

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com