আজ শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ দুপুর ১:৫৯ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

বৈরিতা নয়, আজ ক্রিকেটের জয় হোক

অমিত গোস্বামী, কলকাতা # ক্রিকেট খেলা নিয়ে লাগামহীন উন্মাদনা এই উপমহাদেশে যেমনটি দেখা যায় তেমনটি অন্য কোন দেশে দেখা যায় না। ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকায় যেমন ফুটবল তেমন এই উপমহাদেশে ক্রিকেট। বলা যেতে পারে ভারতে ও বাংলাদেশে ক্রিকেট । আর খেলাটি যদি হয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেই উন্মাদনা অনেকগুণ বেড়ে যায়। 
 
বর্তমানে বাংলাদেশ তার ক্রিকেট উন্মাদনার চূড়ান্ত প্রকাশের মঞ্চ হিসেবে নির্ধারণ করে ফেলেছে ভারত ম্যাচকে। ভারতের সঙ্গে ম্যাচ এবং তাদের হারানোই বাংলাদেশের ক্রিকেট-স্বপ্নের সীমান্ত। আর তাই আজ যখন আবার বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি, মাঠের ক্রিকেটের অঙ্ক ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে দু’দেশের আধুনিক ক্রিকেট সম্পর্ক। আজকের ম্যাচটা তাই সেই ঝাঁঝালো ক্রিকেট সম্পর্কের আর একটা অধ্যায়ের মঞ্চায়ন। আর তাই মাহমুদউল্লাহ-র বিশ্বকাপ আউট বিতর্ক, ধোনির মুস্তাফিজুর রহমানকে ধাক্কা জাতীয় ঘটনাগুলো স্মৃতির দেওয়াল ভেঙে উঠে আসে। চোখ রাঙায় বিরোধের নতুন ডালপালা। কোনও নতুন তিক্ততার স্রোত যেন ঝাপটা দেয় আগাম।
 
যদিও সাধারণ ধারণা যে, গত বিশ্বকাপের বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনার শুরু। কিন্তু সেই ম্যাচে আসলে প্রথম প্রকাশটা ঘটেছিল । কিন্তু তা নয়। তলে-তলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্তেজনা অনেক দিনের। আগের দিনগুলোতে ক্রিকেটীয় শক্তিতে ঠিক পাল্লা দেওয়া যাচ্ছিল না বলে অতটা উত্তেজনা ভেতরেই রয়ে যাচ্ছিল। বিশ্বকাপ বা তার পরের সিরিজে যখন দেখা গেল শক্তিতেও বাংলাদেশ পাল্লা দিতে সক্ষম, তখনই খুলে গেল উন্মাদনার বন্ধ দরজাটা। আর সেই দরজা দিয়ে রাজনীতি-সংস্কৃতি, বড় প্রতিবেশী-ছোট প্রতিবেশীর অঙ্কও ঢুকে পড়ে দিব্যি। পৃথিবীর সব জায়গায় ছোট প্রতিবেশীরা সব সময় নিজেদের বঞ্চিত মনে করে। অন্য ক্ষেত্রে সেই বঞ্চনার জবাব দেওয়ার খুব সুযোগ থাকে না বলে ওরা অপেক্ষা করে থাকে খেলার মাঠের। আর এ ভাবেই নানান বঞ্চনাবোধ ক্রিকেটের পিঠে এমন সওয়ার হয়ে যায় যে ম্যাচটা যেন প্রায় ‘যুদ্ধ’।
 
একটা সময় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষোভ আছে। তিস্তার জল বন্টন প্রশ্নেও তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, এটা আমার মত অনেক ভারতীয় মানেন। তাই মুস্তাফিজুর হাতে যেন সেই আফশোস মিটিয়ে দেওয়ার টিকিট, যেন আধুনিক ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য দুর্ভেদ্য কাঁটাতারের বেড়া।  আজকের লড়াই যেন বাঙালি জাতিসত্ত্বা বনাম ভারতীয় বিবিধের মাঝে ঐক্যের লড়াই। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা ওয়েষ্ট ইন্ডিজের পোর্ট অব স্পেনে ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ বিশ্বকাপের গ্রুপ বি’র খেলায় বাংলাদেশ ভারতকে ৫ উকেটে হারালে তারা প্রথম পৃষ্টায় শিরোনাম করেছিল ‘ক্রিকেটতো খেলেছে পদ্মাপাড়ের বারজন বাঙালি। বাংলাদেশের এগারজন আর একজন সৌরভ গাঙ্গুলি ‘। ভারতের ১৯১ রানের ইনিংসে সেই ম্যাচে সৌরভ একাই করেছিল ৬৬। 
 
সেবার কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত পুরো ভারতে হায় হায় রব উঠেছিল। স্যাটেলাইট চ্যানেলে ভারতীয় দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শত শত কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দেয় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো। কোম্পানিগুলোর ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হন- আমির খান, অক্ষয় কুমার, অমিতাভ বচ্চনের মতো মেগাস্টারেরা। কি হাস্যকর! ভারত বাংলাদেশের কাছে হেরে দেশের পথ ধরেছে, ওদিকে সব টিভি চ্যানেলে ক্রিকেট টিমের জন্য শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন হচ্ছে। সারা দুনিয়ার হাসির পাত্র হয়ে দুই দিনের মধ্যে সমস্ত বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা হয়। শত শত কোটি টাকা গচ্চা যায় টিভি ও বিজ্ঞাপনদাতা উভয়েরই। কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের স্বপ্নের চাকরিটা আর থাকেনি। রাহুল দ্রাবিড়ের অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়া হয়।
 
সব পত্রিকায় কার্টুন বের হয়- ক্রিকেটারদের কাউকে তারা বানায় সবজি বিক্রেতা, হকার, দর্জি ইত্যাদি। ধোনির বাড়ি পাহারায় নামানো হয় আধাসামরিক বাহিনীকে। দ্রাবিড়ের বাড়িতে ঢিল পড়ে। শেহবাগ পালিয়ে পালিয়ে থেকেছেন, মানুষের সামনে যাতে না পড়তে হয়। ক্রিকেট দেবতা টেন্ডুলকারের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারতেন না টিটকারির ভয়ে। টেন্ডুলকার হয়ে উঠলেন ‘Endulkar’ টেন্ডুলকার তার আত্মজীবনীতে জানাচ্ছেন, ‘১৮ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকার পর পত্রিকায় ‘Endulkar’ লেখা দেখে দুঃখে ফেটে পড়লাম আমি। কিন্তু কিছুই করার ছিল না।’ ভারতজুড়ে কৌতুক চালু হলো- এই হারের জন্য আসলে দায়ী ইন্দিরা গান্ধী, তিনি কেনো মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে স্বাধীন হতে সহায়তা করেছেন?
 
২০১১ সালে উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটাই ছিলো ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে। টসে জিতে ব্যাট করতে নামে ভারত। ইনিংসের প্রথম বলেই শেবাগ চার মেরে রানের খাতা খুলেন। শেবাগের ১৭৫ রানের সুবাদে ভারত ৪ উইকেটে ৩৭০ রানের পাহাড় গড়ে তুলে। অনায়াসে ম্যাচটি জিতে নেয় ভারত ৮৭ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে। টেন্ডুলকার তার আত্মজীবনী ‘Ôplaying it my way’ তে জানাচ্ছেন ‘২০০৭ এর পরাজয়ের প্রতিশোধটা নেয়া হলো আর আমরাও আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী শুরু করতে পারলাম।’
 
২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রায় এক লক্ষ দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন মেলবোর্ন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হলো ভারত-বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নামলো ভারত। ৭৯ রানে ২ উইকেট পড়ে যায়। ভারতের রান রেট একপর্যায়ে ওভারপিছু পাঁচ। শুষ্ক গলায় সৌরভ গাঙ্গুলী কমেন্ট্রি বক্সে বলে বলতে লাগলেন-২৫০ রানই যথেষ্ট বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিততে হলে। তিন তিনটি বাজে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। সুরেশ রায়না যখন ১০ রানে ব্যাট করছিলেন, মাশরাফি স্ট্যাম্প লক্ষ্য করে বল ছুঁড়লে লাগল রায়নার পায়ে। আম্পায়ার আউট দিলেন না। সেই রায়না পরে করলেন ৬৫ রান।
 
দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটিও বিতর্কিত। ৪০তম ওভারে রুবেলের বলে কটআউট হলে ডেঞ্জারাস রোহিত শর্মা। আম্পায়ার নো বল ডাকলেন। রোহিত তখন ৯০ রানে ব্যাট করছিলেন। পরে ১৩৭ করে আউট হলেন। ভারতের রান দাঁড়ালো ৩০২। বাংলাদেশ ব্যাট করার সময় মোহাম্মদউল্লাহকে আউট দেয়া হলো, এই আউট্ সন্দেহজনক। এটা ঠিক, বাংলাদেশ ইনিংসে কেউ ব্যাট হাতে দাঁড়াতে পারেনি। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে এপারের শ্রদ্ধা কিন্তু কম নয়। টি-টোয়েন্টি থেকে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বিদায়ে বড় প্রতিবেদন করেছে ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা আনন্দবাজার পত্রিকা। পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সাফল্য, দলের প্রতি ভালোবাসা ছাড়াও ব্যক্তি ম্যাশের গুণাগুণ তুলে ধরে প্রশংসনীয় প্রতিবেদন ছাপিয়েছে পত্রিকাটি।
 
‘বিদায় ক্যাপ্টেন’ নামে করা প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো-
দু’পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার। পা বাঁচাতে যখন মাশরাফিকে না খেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, পায়ে গুলি খেয়ে যদি মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করতে পারে; তাহলে আমি কেনো সামান্য সার্জারি নিয়ে খেলতে পারবো না? দৃঢ়চেতা মনোভাব, ব্যক্তিত্ব আর সহজাত ক্রিকেটীয় মেধার সঙ্গে দারুণ নেতৃত্বগুণ অন্য আরো ১০ ক্রিকেটার থেকে আলাদা করে চিনিয়েছে বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। তিনিই দেখিয়েছেন কেবল তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর দেশের প্রতি প্রচুর ভালোবাসা থাকলে-অনেক কিছুই সম্ভব । ম্যাচ জিতিয়ে গোটা দেশ যখন আনন্দে মাতে, মাশরাফি তখন হাঁটুর ব্যথায় কাতরান ড্রেসিংরুমে। ক্রিকেটে তার মতো ইনজুরি জয় করা খেলোয়াড় আর একজন আছেন বলে ইতিহাস সাক্ষী দেয় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিনি তাই ধ্রুবতারা!
 
কিন্তু বিতর্ক বিপণনের সবচেয়ে কার্যকরী আয়ূধ। তাই ক্রিকেটীয় সামর্থ্যের পাশাপাশি সমর্থকদের বৈরিতার উপর ভর করে শুরু হয়েছিল দুই দেশের গণমাধ্যমগুলো ও বিজ্ঞাপনীসংস্থাগুলোর লড়াই। এক ভারতীয় সমর্থকের তৈরি করা ‘মওকা মওকা’ ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। সমর্থকের ভিডিওতে দেখানো হয় বাংলাদেশ রাষ্ট্র ভারতের সৃষ্টি। আর এই ভিডিওর জেরে সামাজিক গণমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়। 
 
সমর্থকেরা একের পর এক পাল্টা ‘মওকা মওকা’ ভিডিও তৈরি করে প্রচার করে। বিশ্বকাপের পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব বিদ্যমান ছিল। ভারত বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে আসার সময়ে ‘মওকা মওকা’ গেয়ে ভারতীয় খেলোয়াড়দের ব্যঙ্গ করে গেছে বাংলাদেশি সমর্থকরা। বাংলাদেশ-ভারত হোম সিরিজের প্রমোশনাল একটি ভিডিওতে দেখা যায় একটি বাচ্চা যে আগে কোনো খেলা পারতো না সে এখন তার থেকে অনেক ‘বড়’ ছেলেদের বলে ছক্কা হাঁকাচ্ছে। অতীতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ও বর্তমানের উন্নতির দিকে ইঙ্গিত করে বিজ্ঞাপনটির ট্যাগলাইন ছিল ‘বাচ্চা বাচ্চা নেহি রাহে’ বা বাচ্চা বড় হয়ে গেছে। 
 
বাংলাদেশের একটি কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এই সিরিজের একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করে। বিজ্ঞাপনে একটি পার্কে হ্যারিকেন হাতে বসা এক পাকিস্তানিকে এক ভারতীয় বাঙ্গালি বাংলাদেশে হোয়াইটওয়াশ হওয়া নিয়ে মজা করে। জবাবে সেই পাকিস্তানি একটি বড় বাঁশ ভারতীয়র ধরিয়ে দিয়ে বলে, বাংলাদেশ যাচ্ছো তো তোমরাও! তোমরাও একই জিনিস পাবা। সেই বিজ্ঞাপনের কথাই অনেকটা সত্য হয়। পাকিস্তানের মতো হোয়াইটওয়াশ করতে না পারলেও মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং দাপটে প্রথম দুই ম্যাচ দাপটের সঙ্গে জেতে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সেই সিরিজ ২-১ এ জিতে নেয় টাইগাররা। 
 
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক মুস্তাফিজের কাটার নিয়ে তাদের ফান ম্যাগাজিনে একটি কার্টুন প্রকাশ করে। কার্টুনে দেখানো হয় বাংলাদেশি মুস্তাফিজুরের কাটারে ভারতীয় ক্রিকেটারদের চুলের এক সাইড কাটা পড়েছে। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকায় আসলেও এই কার্টুনটি বেশ আলোড়ন তুলেছিল বিশ্ব গণমাধ্যমে। অনেকে এই কাটুর্নটি বাজে রুচির পরিচায়ক বলে অভিহিত করলেও বাংলাদেশি সমর্থকরা এই কার্টুন বেশ উপভোগ করেছেন। 
 
ভারত বা বাংলদেশে যারা ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনায় ভূগেন তাদের অধিকাংশ ক্রিকেটকে ভালবাসেন। এই ভালবাসা হয়তো কখনো বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়। তার অর্থ এই নয় যে এক দেশের দর্শক অন্য দেশের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন । বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসম্ভব ক্রিকেট পাগল। তাঁর দপ্তরের অনেক কর্মকর্তার কাচে শুনেছি যদি কোথাও ভাল ক্রিকেট খেলা থাকে তখন প্রধানমন্ত্রী রুটিন দাপ্তরিক কাজ না করে অনেক সময় খেলা উপভোগ করেন। বিশ্বের যে প্রান্তেই বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম খেলতে যায় তিনি সেই খেলার নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন। কোন খেলায় জিতলে দলপতি প্রথমে যাঁর অভিনন্দনে সিক্ত হন তিনি হচ্ছেন শেখ হাসিনা।
 
ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেট উন্মাদনা নিয়ে সবচেয়ে ভাল বলেছিলেন ভারতে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। মাঠ এবং মাঠের বাইরে ক্রিকেট নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বৈরিতা বিষয়ে মন্তব্য করতে যেয়ে সাকিব বলেন, ‘দুই দলই জানে তারা জিততে পারে। সবাই চায় ভাল ক্রিকেট খেলতে। আমরা এটা ছাড়া অন্য কিছু ভাবি না। আপনি যে বৈরিতার কথা বলছেন এটা মিডিয়ার শোরগোলের জন্য সৃষ্টি হয়েছে।’
 
আজকের সেমিফাইনালের জন্য আম্পায়ারের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মাঠে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করবেন ইংল্যান্ডের রিচার্ড ক্যাটেলবোরো ও শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনা। তৃতীয় আম্পায়ার থাকবেন নাইজেল লং। ম্যাচ অফিসিয়াল থাকবেন ক্রিস ব্রড। এদের সম্পর্কে অভিযোগ নেই বাংলাদেশের। এখন পর্যন্ত দু’দেশের সমর্থকদের মধ্যে সোশাল মিডিয়াতে যুদ্ধ শুরু হয় নি। বরং দায়িত্বশীল্ মানুষরা বলছেন যে বৈরীতা নয়, আজ বরং ক্রিকেট জিতুক। পারস্পরিক গালাগাল করে বন্ধুবিচ্ছেদ হয়, প্রাপ্তির ঘর থাকে শুন্য। সেই বোধ যে আজ দু’দেশের বাঙালিদের এসেছে তাই বা কম কীসে!
 
অমিত গোস্বামী, কবি, কলাম লেখক, সংস্কৃতিকর্মী, কলকাতা
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com