পাসের হার নয়, শিক্ষার মান নিশ্চিত জরুরি

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। এ বছর ১০টি শিক্ষাবোর্ডে মাধ্যমিকে সম্মিলিত পাসের হার ৮০.৩৫ শতাংশ। গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। তবে কত শতাংশ পাস করেছে সেটি বিষয় নয় বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, ৮০ শতাংশও কম না। বিষয়টিকে শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন না করে কোয়ালিটি শিক্ষা নিশ্চিত করা যায় কিনা। আমাদের শিক্ষার মানের কথাটা চিন্তা করতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার দেই, এটি খুব সহজ, কিন্তু একটি শিশুকে পড়ানো, যোগ্য করে গড়ে তোলা অনেক বড় ব্যাপার।

বৃহস্পতিবার ফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন করার জন্যই খাতা দেখার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। উত্তরপত্র মূল্যায়নে যে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে তা সময়োপযোগী এবং এটির প্রয়োজনও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ শুক্রবার  বলেন, যেসব বোর্ডে খারাপ ফল হয়েছে, ওই বোর্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোর পড়ার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো অনেক কিছুই রয়েছে। কেন এত বেশি ফেল করল- সেটি খতিয়ে দেখার বিষয়। যদি কোথাও ইনস্ট্রাকশন থাকলে সেটি সবাইকে জানানো উচিত। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কতটা সতর্কতা অবলম্বন করা হবে এসব বিষয় অবশ্যই ঘোষণার দাবি রাখে।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বড় কথা- পরীক্ষায় কত শতাংশ পাস করেছে সেটি না দেখে লেখাপড়ার মান বাড়ানো নিয়ে কাজ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন যোগ্য শিক্ষক। এসব ক্ষেত্রে দলীয় নেতা-কর্মী বিবেচনা না করে যোগ্যদেরকেই মূল্যায়ন করা উচিত। শিক্ষা একটা জাতির অগ্রগতির অন্যতম মাধ্যম। সেটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। কোয়ালিটি শিক্ষক না থাকলে কোয়ালিটিপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করা যায় না।

এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রশাসনিক যেকোনো জায়গার চেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। এটিকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখা উচিত। পরিচালনা কমিটিতে লেখাপড়া জানা লোক ও লেখাপড়ার প্রতি আন্তরিক লোকদের নিয়ে আসতে হবে। যোগ্য জাতি গঠনের এর কোনো বিকল্প নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘ঝাঁকে ঝাঁকে জিপিএ-৫ পেলে, পাসের হার বাড়লে শিক্ষার মান বাড়ে না, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক মূল্যায়ন। সরকার সেটি করেছে। ভবিষ্যতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ  বলেন, ‘কত শতাংশ পাস করেছে সেটি দেখা বিষয় না- ৮০ শতাংশও কম না। এসব না বলে দেখতে হবে কোয়ালিটি শিক্ষা এনশিওর করা যায় কিনা। আমাদের শিক্ষার মানের কথাটা চিন্তা করতে হবে।’ ‘একটা কথা চিন্তা করেন, একটি ভাষা শিখতে কতদিন লাগে? একটা শিক্ষার্থী ১০ বছর ইংরেজি পড়েও ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না, বা ভালোভাবে ইংরেজি লিখতেও পারে না। সব কথার মূল কথা-শিক্ষকদের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হবে। কত শতাংশ পাস করেছে সেসব না দেখে শিক্ষার মান কতটুকু বেড়েছে সেটি দেখতে হবে।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে এমন রেজাল্ট হয়েছে। একটা খাতা একাধিক শিক্ষক দেখেছেন- এটি অবশ্যই ভালো। একটা প্রবণতা ছিল যে সবাই গড়ে পাস করে। এ পদ্ধতির কারণে সে প্রবণতা অনেকটা কমেছে। তবে সেটির চেয়ে আসল কাম্য হলো শিক্ষার মান উন্নয়ন। শিক্ষার কোয়ালিটি বাড়ানো। কম-বেশি হয়েছে সেটি আমাদের কনসার্ন নয়। আমাদের কনসার্ন হলো যার যেমন মেধা আছে তার সে মেধা যেন সেভাবে মূল্যায়িত হয়। সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৯৩ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com