তমিস্র সোনার বাঙলা ও আমরা

৫৭ বার পঠিত
“জানি এদেশটা আমার নয়, ক্ষমতার নিকট বিক্রি হয়ে গেছে একাত্তর পরবর্তী সময়
দেশ মাতা, দেশ দরদী, দেশ প্রতিনিধিত্বকারী সেও মরে গেছে স্বার্থেন্বেষীর দাবানলে
হিংস্র জানোয়ারে ছেয়ে গেছে সমাজ, দেশ ও মানবের প্রতিটি রক্ত কণিকার পদরেখা
এমনকি আলো-আঁধারকেও বশ করে নিয়েছে, আমরা পশুর বশে পশুত্বের আবেগে
মানবতা, ভালবাসা, স্নেহ সব বিকিয়ে ক্ষমতা দম্ভে মানুষের কাঠামোতে দানবে মানব।”
 
কোন মানুষটির উপর ভরসা করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারি, বলতে পারবেন আপনারা ? নাকি আমার মতো উল্টো আমাকে প্রশ্ন ছুড়ে দিবেন ? যাই হোক সে ক্ষেত্রে জন উইলনসন সুন্দর করে বলেছেন “আইন ভাঙ্গার জন্যই তৈরী হয়।” সম্ভবত এটাই সত্যি আমাদের সোনার বাংলার জন্য উত্তম একটি প্রবাদ বাক্য। নিজেদের সুবিধা মতো আইন তৈরি করে নেব যখন যে সরকার আসবে বসবে দেশ রক্ষার চেয়ারে। তারাই নিজের সুবিধা অনুযায়ী আইন ভাঙবে আর নিজের মতো করে আইন তৈরী করবে।
 
প্রবাদ বাক্য আর কত বলবো, কিন্তু না বলেও যে পারা যায় না। খুব সুন্দর বলেছেন সক্রেটিস ” যার টাকা আছে তার কাছে আইন খোলা আকাশের মত, আর যার টাকা নেই তার কাছে আইন মাকড়ষার জালের মত!” আমার কথা হলো এই ক্ষমতা কতদিনের? কতদিন আমরা পৃথিবীর মাটি আকড়ে বেঁচে থাকবো? আসলে ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, অর্থ যতই আপনার থাক না কেনো একদিন তার ক্ষয় হবেই। দম্ভে ক্ষমতায় সব ভুলে গেছি।
 
রাজ্যের পতন নিয়ে হযরত আলী (আঃ) বলেছেন “রাজ্যের পতন হয় দেশ হতে সুবিচার উঠে গেলে, কারণ সুবিচারে রাজ্য স্থায়ী হয়। সুবিচারকের কোন বন্ধুর দরকার হয় না।” আমরা যদি রাজ্য সিংহাসন পেয়ে ভুলে যাই প্রজার কথা তবে অবশ্যই ধবংস অবধারিত।
 
যদি সত্য বলি ভয়গুলো রক্তের গতিতে বাঁধা সৃষ্টি করে। ক্ষণিকের স্বার্থ বার বার ধোকা দেয় আর বলে যেদেশে আইন নেই আর আইনের সঠিক ব্যবহার নেই সেই দেশে সত্য কথার কোন মূল্য নেই। এমন দৃষ্টান্তে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয় এদেশ আমার নয়।
 
সত্যের ফলাফল শুধুই অকালে মৃত্যু। কেউ কি বলতে পারেন প্রশাসনের নিকট মানুষ কখন ছুটে যায়? যখন মানুষ নিরুপায় কিংবা প্রতিপক্ষের থেকে সে দূর্বল তখনি সে আইনের আশ্রয় নেয়। আর সেই আইন যদি রক্ষক না হয়ে ভক্ষক হয় তবে দেশের মানুষ কী হবে, কী করবে ? একদিন প্রতিটি ঘরে ঘরে আইএসএস এর মতো বিদ্রোহীর জন্ম নিবে সোনার বাংলায়। এই লেখাটি আমার আজকের নয় গত একবছর হয়ে গেছে।
 
প্রতিটি দেশে বিদ্রোহ সৃষ্টির মূলে আমি মনে কি সেই দেশটির প্রধান যিনি থাকেন তার অবহেলা অবজ্ঞায় এই সকল বিদ্রোহীর সৃষ্টি। বাংলাদেশেও এমনটি হচ্ছে, বা হচ্ছে বললে ভুল হবে চলছে। একের পর এক মানুষ হত্যা হচ্ছে, বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড, এসব দেখে মনে হয় এদেশে বিচার বলে কিছুই নেই। সকল সরকারি কর্মচারীরা দেশ লুট করে নিজের পুজি বাহিরে পাচার করে দিচ্ছে মীর জাফরের মতো। সেনাবাহিনী যে হারে দেশ চুষে খাচ্ছে তাতে আর বেশি দূর নয় বাংলার সেই বাঙলা ভাইয়ের জন্ম হতে। একজন মরেছে আরোও জন্মাচ্ছে।
 
ঘটে গেলো গুলশানে বর্বরতা। দেশী বিদেশীসহ বিশজনকে নির্মমভাবে হত্যা। পুরোহিত হত্যা, ব্লগার হত্যসহ প্রতিদিনই কোনো না কোনো উড়োচিঠি আসছেই। দেখেও যেন আমরা দেখছি না। বিচার সে তো অন্ধ। কালো কাপড়ের ভেতর থেকে যে স্বচ্ছতা দেখতো সেই দেখা চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সোনার বাংলার আইন ক্ষমতাকে।
 
আমাদের দেশে প্রতিটি বিচারকার্যের গতি বা লক্ষ্য সে একই। প্রথম কয়েকদিন আলোর মুখ দেখা যায় পরবর্তীতে আষাঢ় মাসের জোয়ারের মতো উজ্জ্বল নীল আকাশটি মেঘের আড়ালে পড়ে অন্ধকারে হাবুডুবু খায়। যেমনটাই ভাবতেছিলাম রাজন হত্যার প্রথমদিন থেকে ঠিক তেমনটিই ঘটে গেলো। আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মায়া-মমতা কত? শিশু বাচ্চা যারা হত্যা করেছে তাদের জন্য প্রাণ কাদেনি। কেঁদেছে হত্যাকারীদের জন্য। ১২ লক্ষ টাকায় নিজের বিবেক কিভাবে বিকিয়ে দিয়েছে। তবে সত্য কখনো চাপা থাকেনি থাকে না আর কোনদিন থাকবে না।
 
তারপর চলে গেছে অনেকদিন রাজন নেই, আইন সেও নেই। আইন নাকি আইনের গতিতে চলে, কিন্তু বিশ্বাস হয় না। যেটুকু বিশ্বাসের আলো মেঘের আড়ল থেকে সূর্যের উকি দেয় সেটাও নাকি নাট্যমঞ্চের চিত্রায়িত নাটকের স্ক্রিপ্ট প্রদর্শনী।
 
সেই যে গেলো আর ফিরে এলো না, বিশ্বজিত, সাগর-রুনী সবাই তো হারিয়ে গেছে । গেলো, ত্বকী, গেলো তনু, গেলো মিতু। এবার পালা এসপি বাবুল, হয়তো হত্যা করা হবে না তবে তাকে আঁখের রস যেভাবে বের করা হয় সেভাবেই বাঁচিয়ে রাখা হবে। এই হলো বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক অধিকারীর করুণ কাহিনী। আসলে বলতে হয় দেশ তুমি কার ? টাকার নাকি ক্ষমতার ?
 
আজ তো আর শুনতে পাইনা তাদের শাস্তির কোন কথা। এসকল কার্মকাণ্ড কি দেশের সরকারের কাধে পড়ে না? নাকি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবার এমন ঘটনা ঘটাচ্ছেন। একটি ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য অন্য একটি নতুন ঘটনার সৃষ্টি করে যাচ্ছেন?
রাজনীতিক ব্যক্তিগণ একে অপরকে দোষারোপ করে কি যে কমেডি নাটকের প্রদর্শনী করছেন সেটাই মূখ্য বিষয়। তাদের চুল টানাটানি দেখে মনে হয় আদৌও তারা দেশকে ভালোবাসে না, বাসেনি কোনোদিন। ক্ষমতা, অর্থ-ই তাদের একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।
 
আর আমার মতো কিছু আবাল জনতা আছে তারা নিজেদের পিতামাতার চেয়েও যেন তার দলের ভালোবাসা বেশি তেমনি ভাবখান প্রকাশ করে। পিতামাতাকে ভাত দেয় না কিন্তু দলের কর্মীদের নিয়ে পোলাও কোরমা খায়। কেন জনতা বুঝতে চায় না যে আমাদের অধিকার আগে তারপর তারা। আমরা কেন আমাদের নিয়ে ভাবতে পারছি না যা তারা করছে।
 
“স্বাধীনতা তুমি মরে গেছ
ইহুদীবাদী ইসরাইল আর হিটলারের কথা ভুলে গেছ
সেই পশুত্বের কাল ধোঁয়া আজও মরেনি, মরেছে স্বাধীনতা
ইতিহাসের পাতায় কাড়াকাড়ির চিহ্ন রাজতন্ত্রের নখের আঁচড়
রাজাকার, আলবদর আজ ঘরের ভাসুর।”
 
সকল জনতা এসো একসাথে রাজপথ রক্তে লাল করে ফেলি। আরেকবার একাত্তর চাই বলে চিৎকার না দিয়ে কর্মে হলী খেলি। সকল দূর্নীতিবাজদের উপড়ে ফেলি দেশ থেকে। রাজনকে হত্যা করেছে…রাজন চলে গেছে আমরাও একদিন চলে যাবো…কিন্তু নতুন প্রজন্মকে যেন কিছু উপহার দিয়ে যেতে পারি। এসো সকল জনতা রাজপথ রক্তে ভাসিয়ে দেই………..
 
“এ পৃথিবীতে আলোর মুখ থুবড়ে পড়েছে
আলোকে বলি আঁধার, আঁধারে দেখি আলো
কতদিন থাকা যায় ভালো; নিত্যদিনের রুটিন বেঁধে
বিষপান করেছি বিষক্রিয়া বুঝে নিতে
দেহের বিষে বিষক্রিয়ার বিষ আজ ক্ষমা প্রার্থনা করে
হাত জোর করে বলে, আমি বাঁচতে চাই।”
 
রুদ্র আমিন
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com